shono
Advertisement
Badshah

নারীশরীর নিয়ে চটুল গান, 'উত্তরপ্রদেশে বাদশাকে নিষিদ্ধ করা হোক', যোগীকে চিঠি মুলায়মের পুত্রবধূর

অভিযোগ, স্কুলের পোশাকে পড়ুয়াদের এমন নাচ, অঙ্গভঙ্গিতে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই ব়্যাপার বাদশাকে উত্তরপ্রদেশে বয়কটের দাবি তুললেন অপর্ণা যাদব।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:37 PM Mar 13, 2026Updated: 04:37 PM Mar 13, 2026

বিতর্ক আর বাদশা যেন একে-অপরের সমার্থক! গানের কথা থেকে দৃশ্যায়ন, একাধিকবার নিজের সৃষ্টির কারণে সমালোচনায় জড়িয়েছেন খ্যাতনামা ব়্যাপার। এবার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত 'টাটিরি' গানের দৃশ্যায়ণে নারীদের আপত্তিকরভাবে তুলে ধরায় ফের বিতর্কের শিরোনামে নাম লিখিয়েছেন। বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে বাদশার গানের কথাতেও। যার জেরে এফআইআর দায়ের করে বলিউড ব়্যাপারকে তলব করেছিল হরিয়ানা মহিলা কমিশন। গায়ক ক্ষমা চাইলেও চিঁড়ে ভেজেনি! এবার বাদশাকে উত্তরপ্রদেশে নিষিদ্ধ করার দাবিতে যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখলেন মুলায়ম সিং যাদবের পূত্রবধূ অপর্ণা যাদব।

Advertisement

"স্কুলের ইউনিফর্মে ছাত্রীদের এরকম অশ্লীলভাবে দেখানো মহিলাদের মর্যাদা এবং সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গার ক্ষেত্রে এমন আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশের যুবপ্রজন্মকে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। তাই বাদশার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।..."

পয়লা মার্চ ‘টাটিরি’ গানটি নিজের সোশাল মিডিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করেন বাদশা। যদিও প্রথমটায় এই হরিয়ানভি গান শুনে অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন, তবে দিন দুয়েক কাটতে না কাটতেই নিন্দার ঝড় নেটভুবনে। কেন? কারণ গানের কথা ও দৃশ্যে নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ তুলে রে-রে করে উঠেছে শ্রোতামহল। ওই মিউজিক ভিডিওর গোড়াতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং নেপথ্যে গানের চটুল কথা। আর এহেন যৌন ইঙ্গিতমূলক গানে আপত্তি তুলে হরিয়ানা মহিলা কমিশন বাদশার বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। এবার অপর্ণা যাদব উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, "বাদশার নতুন গান 'টাটিরি'তে মহিলাদের নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। বেশ কিছু আপত্তিকর দৃশ্যও দেখানো হয়েছে মিউজিক ভিডিওয়। স্কুলের ইউনিফর্মে ছাত্রীদের এরকম অশ্লীলভাবে দেখানো মহিলাদের মর্যাদা এবং সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গার ক্ষেত্রে এমন আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশের যুবপ্রজন্মকে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। তাই বাদশার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।" এমন অভিযোগ তুলেই যোগীর কাছে মুলায়মের পূত্রবধূর আর্জি, দয়া করে বাদশাকে উত্তরপ্রদেশে নিষিদ্ধ করা হোক। রাজ্যের সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিন বাদশাকে যেন এখানে কোনও কনসার্টের অনুমতি না দেওয়া হয়।

র‍্যাপার বাদশা, ছবি: সোশাল মিডিয়া।

বাদশার বিরুদ্ধে হরিয়ানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এপ্রসঙ্গে হরিয়ানা মহিলা কমিশনের সভাপতি রেনু ভাটিয়ার মন্তব্য, "এই ধরণের গান জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।" বিতর্কের পর বাদশা সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, "আমার এই গানের কথা ও দৃশ্যায়ণ বহু মানুষের ভাবধারায় আঘাত করেছে। বিশেষত আমার নিজের জায়গা হরিয়ানা, সেখানকার মানুষদের মনে সবথেকে বেশি আঘাত দিয়েছে আমার নতুন এই গান। আমি নিজে হরিয়ানার ছেলে। যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন আমার সবটাই হরিয়ানাকে জুড়ে। আমি হরিয়ানার মানুষ হয়ে অত্যন্ত গর্বিত। একজন নারীর বিষয়ে কুরুচিকর কিছু বলার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। আমার এমন কিছু বলার অভিপ্রায় ছিলও না। হরিয়ানার ভূমিপুত্র হিসেবে আমাকে আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।" কিন্তু এই গান নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে চলেছে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement