মঙ্গলবাসরীয় সন্ধ্যায় সকলকে চমকে দিয়েছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন আর সিনেমায় গান গাইবেন না। এরপর থেকেই টিনসেল টাউন থেকে শুরু করে গোটা বিনোদুনিয়াজুড়ে একটাই প্রশ্ন- কেন? কেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন আসমুদ্রহিমাচলের 'হার্টথ্রব' অরিজিৎ সিং? নানারকম গুঞ্জনও ভাসতে শুরু করেছিল। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। কেননা, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ গায়কই। জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও একটি নয়, বরং একাধিক কারণ রয়েছে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে।
ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, 'কেবল একটা নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। এবং আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। অবশেষে, প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছি।' সেই সঙ্গে অরিজিৎ জানিয়েছেন, 'এর একটি কারণ বেশ সহজবোধ্য। আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আর এই কারণেই আমি আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন পরিবর্তন করি। এবং সেগুলোকে লাইভে পরিবেশন করি। সুতরাং, এটাই সত্যি- আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতেই আমার ভিন্ন ধরনের সঙ্গীত অন্বেষণ করা প্রয়োজন।'
কেবল এই একটিই কারণ নয়, অরিজিৎ জানিয়েছেন অন্য কারণের কথাও। লিখেছেন, 'আরেকটি কারণ হল, সেই সব নতুন গায়কদের গান শোনার জন্য আমার আগ্রহ, যাঁরা আমাকে সত্যি সত্যি অনুপ্রাণিত করতে পারেন।' পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অরিজিৎ জানিয়েছেন, 'আমি সত্যিই ধন্য। আমি সঙ্গীতের একজন ভক্ত। এবং ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে আরও শেখার ও স্বাধীনভাবে গান তৈরিতেই মনোযোগ দেব। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আমার এখনও কিছু অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাকি আছে। সেগুলো পূরণ করব। তাই, এই বছর আপনারা হয়তো আরও কিছু নতুন কাজ দেখতে পাবেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই... আমি গান তৈরি করা বন্ধ করব না।'
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম সকলের নজর কাড়েন অরিজিৎ। যদিও তিনি সেই প্রতিযোগিতায় জিততে পারেননি। কিন্তু এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। গত দুই দশক বলিউডের মেল প্লেব্যাক জগতে তাঁর ছিল একচ্ছত্রাধিপত্য। আচমকাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি জানিয়ে দেন, ‘সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শ্রোতা হয়ে আমাকে এত বছর ধরে ভালোবাসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমি আনন্দের সঙ্গেই ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে আমি আর নতুন কোনও কাজ করব না প্লে ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে। আমি এটা থেকে সরে আসছি। যাত্রাটা ছিল সুন্দর।’ এরপরই কার্যত স্তব্ধবাক গানের জগৎ। এবার অরিজিতের নতুন জীবন কেমন হয়, গানকে তিনি কোন পথে চালিত করেন সেটাই দেখার।
