ঘোষণার পর থেকেই উন্মাদনার পারদ চড়িয়েছে অরিন্দম শীল পরিচালিত 'কর্পূর'। বিশেষ করে, চর্চায় তারকাখচিত সিনেমার বিষয়বস্তু। য়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্যের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবি যে অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করবে, তেমন আভাস টিজারে আগেই মিলেছিল। বৃহস্পতিবার রহস্য রোমাঞ্চের মোড়কে প্রকাশ্যে এল 'কর্পূর' ট্রেলার। যেখানে কোটি কোটি টাকার শিক্ষা দুর্নীতি থেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে মৌসুমী নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষা নিয়মকের আচমকা উবে যাওয়ার ঘটনার ঝলক ফুটে উঠল।
'কর্পূর' ছবির ঝলক।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রের নাম এখানে ‘মৌসুমী সেন’। সংশ্লিষ্ট চরিত্রে পয়লা ঝলকে নজর কাড়়লেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ৫০ কোটি টাকার শিক্ষা কেলেঙ্কারিতে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন মণীষা? কীভাবেই বা উবে গেলেন রাতারাতি? তিনি কি সিস্টেমের ষড়যন্ত্রের শিকার নাকি মান বাঁচাতে নিজেই সরে গিয়েছেন? এহেন প্রশ্ন তুলেই প্রকাশ্যে এল অরিন্দম শীলের ‘কর্পূর’-এর ট্রেলার। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জেরে সৎ পথে চলার মূল্য কীভাবে চোকাতে হয়েছিল মণীষাকে? পরিচালকের ফ্রেমে সেই রহস্যই ফুটে উঠবে পর্দায়। ‘কর্পূর’-এর টিজারে আগেই সব চরিত্রদের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন অরিন্দম শীল। এবার ট্রেলারেও নজর কাড়লেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসুরা। মন্ত্রীর ভূমিকায় যতটা ধোপদূরস্ত সাহেব, প্রায় আড়াই মিনিটের ঝলকে বামনেতার চরিত্রে ততোধিক অনবদ্য নেত-অভিনেতা কুণাল। বাকি কাস্টিংদের সঙ্গে তিনি যে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন টিজারের পর ট্রেলারেও তার ঝলক দেখা গেল। অন্যদিকে লালবাজারের ওসি হোমিসাইড-এর চরিত্রে রয়েছেন ব্রাত্য বসু। নিউজ এডিটরের ভূমিকায় অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। মণীষা অন্তর্ধান রহস্যের তদন্তে সাংবাদিকের ভূমিকায় নজর কাড়লেন অর্পণ ঘোষাল এবং লহমা ভট্টাচাৰ্য। এক জ্বলজ্যান্ত নারীর কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার সেই নিগূঢ় রহস্য কি এবার ২২ বছর পর উন্মোচিত হবে? জানতে হলে আর কিছুদিনের অপেক্ষা। কারণ ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন এবং কাহাক স্টুডিওজ প্রযোজিত ‘কর্পূর’ বড়পর্দায় মুক্তি পাবে আগামী ১৯ মার্চ।
ট্রেলার লঞ্চে পর্দার 'মণীষা' ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবি- কৌশিক দত্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক ১৯৯৭ সালে হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি না ফেরার হদিশ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যার নানারকম থিওরি-রাজনৈতিক যোগ আছে। মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধানের নেপথ্যে কোন কারণ ছিল? তাঁকে কি খুন করে ফেলা হয়েছিল? খুন হলেও নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য কাজ করেছিল? বিপুল দুর্নীতি ধামাচাপা, নাকি শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন? কর্পূরের মত উবে গেলেন কীভাবে মনীষা? এবার সেসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই যে বড়পর্দায় অরিন্দম শীলের ‘কর্পূর’-এর আগমন ঘটবে।
