রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না আপামর বাঙালি। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে সমুদ্র সংলগ্ন তালসারিতে মৃত্যু ঘটেছে রাহুলের। আর কলকাতার বিজয়গড়ে রাহুলের বাসভূমে কান্নার স্রোত। সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। টালিগঞ্জের বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন, মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা।
রবিবারের সন্ধ্যায় রাহুলের প্রয়াণের খবর আসতেই কান্নার রোল বিজয়গড়ে তাঁর পাড়ায়। প্রতিবেশীদের অনেকে এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না। কেউ-বা রাহুলের ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়ে দেখছেন। পাড়ায় ক্রিকেটে মাতিয়ে রাখতেন, সবার সঙ্গে মিশতে জানতেন। তারকা হয়ে গেলেও পাড়ার সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সন্তানের মৃত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন রাহুলের মা-বাবা।
এই পরিস্থিতিতে সব রকম ভাবে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎ ও আবাসন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। টালিগঞ্জের বিধায়ক বলেন, "অত্যন্ত দুঃখের খবর। আমরা সবাই ওঁর পরিবারের পাশে আছি। খবর পাওয়ার পরই আমরা এখানে চলে আসি। ওঁর মায়ের পাশে আমাদের লোকেরা আছে। যাঁরা দিঘায় আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন বাংলা সিনেমা-সিরিয়ালের অত্যন্ত পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকস্তব্ধ বিনোদুনিয়া থেকে সাধারণ মানুষ। অনেক মানুষ খবরটি প্রথমবার শুনে বিশ্বাস করতে পারছেন না। বড়পর্দা, ছোটপর্দা ও থিয়েটারে অবাধ বিচরণ ছিল বছর তেতাল্লিশের রাহুলের। শুটিংয়ের পর তিনি সমুদ্রে নামলে আচমকা তলিয়ে যান। টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ‘পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ’ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে মর্মাহত ও শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় হতবাক তিনি। রবিবার অভিনেতার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে মমতা লেখেন, “কী করে যে কী হয়ে গেল, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”
