জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কে শাহিদ কাপুরের আসন্ন ছবি 'ও রোমিও'। 'কবীর সিং' পরবর্তী অধ্যায়ে দীর্ঘদিন বাদে এই সিনেমার সুবাদেই 'খতরনাক' অবতারে ধরা দিয়েছেন। আর তাতেই উসকেছে বিতর্ক! 'ও রোমিও'র পয়লা ঝলকে উন্মাদনার পারদ চড়ার পরই মুম্বইয়ের একসময়কার কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার কন্যা শানোবার শেখ ছবির বিষয়বস্তুতে আপত্তি তুলে মুক্তি আটকানোর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এমন আবহেই শাহিদ কাপুরের 'ও রোমিও' ছবির একাধিক দৃশ্য, সংলাপে সেন্সরের কাঁচি পড়ল।
বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, 'A' সার্টিফিকেট ধরানো হয়েছে নির্মাতাদের হাতে। ছাড়পত্র দেওয়ার আগে 'ও রোমিও'র একাধিক সংলাপ এবং দৃশ্য সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছিল সেন্সর বোর্ড। বেশ কয়েকটি সংলাপ 'মিউট' করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এক নারীচরিত্রকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে 'আইটেম' শব্দটি বদলে 'কুমারী' করা হয়েছে। যদিও শাহিদ-তৃপ্তির রোম্যান্টিক কিংবা অন্তরঙ্গ কোনও দৃশ্যে কাঁচি পড়েনি। তবে রক্তারক্তি, হিংসাত্মক বেশ কয়েকটা সিকোয়েন্সের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ছোট করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় এক মহিলা চরিত্রকে চড় মারার দৃশ্য থেকে গলা কাটার একটি ক্লোজ-আপ শটও রয়েছে। যে দৃশ্যের দৈর্ঘ্য ২০ শতাংশ কমিয়ে মোটে তিন সেকেন্ডে আনা হয়েছে। এক নারীচরিত্রের মুখে রক্ত পড়ার দৃশ্যেও চোখ রাঙিয়েছে সেন্সর। যাবতীয় কাটছাঁটের পর বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত 'ও রোমিও' সিনেমার মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১৭৮.৪১ মিনিট। অর্থাৎ তিন ঘণ্টার খানিক কম।
'ও রোমিও'তে শাহিদ কাপুর, ছবি- সংগৃহীত
প্রথম থেকেই আইনি জটিলতায় পড়া 'ও রোমিও'কে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কোন নিষিদ্ধ গল্প রয়েছে এই ছবিতে? বলিউডে কানাঘুষো, নয়ের দশকের অন্ধকার জগতের অন্যতম গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনকাহিনির আঁধারে শাহিদের চরিত্র সাজিয়েছেন পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। যার সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের একেবারে সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। মুম্বইয়ের আস্তাকুঁড়ে থেকে কীভাবে অন্ধকার সম্রাজ্যের দাপুটে ডন হয়ে ওঠে এই উস্তারা? শাহিদের চরিত্রের মাধ্যমে সেই নৈরাজ্যের কাহিনিই ফুটিয়ে তুলেছেন ভরদ্বাজ। পয়লা ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াকিবহালমহলের অনুমান, ‘ও রোমিও’ সিনেমাটি আদতে ‘স্বপ্নাদিদি, দাউদ এবং হুসেন উস্তারা’র ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি নিয়ে তৈরি। আর এমন গুঞ্জন চাউড় হতেই নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ‘আইনি চড়’ কষান উস্তারাকন্যা শানোবার শেখ। তাঁর অভিযোগ, “বাবার ভাবমূর্তিতে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। এবং বাস্তবে এরকম কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।” যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে 'ও রোমিও'।
