প্রায় দেড় দশক ধরে মানবসেবায় নিয়োজিত সলমন খানের সংস্থা 'বিয়িং হিউম্যান'। কোভিড কাল হোক কিংবা দেশের যেকোনও দুর্যোগে, বরাবর দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভাইজানের এই বিপণনী সংস্থা। এবার সেই সংস্থার জন্যেই কিনা আইনি বিপাকে সলমন খান। খবর, 'বিয়িং হিউম্যান'-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে চণ্ডীগড় আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আর সেই মর্মেই কোর্টের তরফে সমন পাঠানো হয়েছে ভাইজানকে। তলব করা হয়েছে তাঁর বোন আলভিরা খান অগ্নিহোত্রীকেও।
সলমন খান, ফাইল ছবি ।
ঠিক কী অভিযোগ? অরুণ গুপ্তা নামে চণ্ডীগড়ের জনৈক ব্যবসায়ী প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন 'বিয়িং হিউম্যান'-এর বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোর করে তাঁকে গয়নার শোরুম খুলিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তবে সলমনের সংস্থার তরফে কোনও রকম সহযোগিতা মেলেনি। যার জেরে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে তাঁর। আর সেই মর্মেই ভাইজানের সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন ওই ব্যক্তি। অরুণের অভিযোগ, শোরুম খুলতে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। 'বিয়িং হিউম্যান'-এর জুয়েলারি বিক্রির লাইসেন্স প্রাপ্ত সংস্থা ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেডে’র সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তাঁর। শোরুম তৈরি করতেই ১ কোটি টাকা খরচ হয়ে যায়। বিক্রিও শুরু হয়। কিন্তু তিনি চুক্তির শর্ত মেনে চললেও ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’ শর্ত মেনে কোনওরকম সাহায্য করেনি তাঁকে। ফলত, বাধ্য হয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই শোরুম বন্ধ করে দেন তিনি। অরুণের দাবি, এতে তাঁর প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। যদিও সলমনের সংস্থার তরফে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অরুণের সঙ্গে চুক্তিতে প্রত্যক্ষভাবে কোনও যোগই ছিল না সলমনের। ভাইজান ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’কে ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছিলেন মাত্র।
দাবি, 'বিগ বসে'র শুটিং চলাকালীন সলমনের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। শোরুমের উদ্বোধনে যাবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও একবারও শোরুমে পা রাখেননি সলমন।
মামলাকারী দাবি, 'বিগ বসে'র শুটিং চলাকালীন সলমনের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। শোরুমের উদ্বোধনে যাবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও একবারও শোরুমে পা রাখেননি সলমন। অরুণ প্রশ্ন তুলেছেন, এই কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে? এদিকে সলমন এবং তাঁর পরিবারের তরফে এবিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আগামী ৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সলমন-সহ তাঁর বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রী এবং ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেডে’র ডিরেক্টরদেরও তলব করা হয়েছে চণ্ডীগড় আদালতের তরফে। সেদিন সকলকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
