shono
Advertisement

Breaking News

Vijaynagar'er Hirey-Chandrashish Roy

'কাকাবাবু' বানানোর প্রস্তাব দেন স্বয়ং বুম্বাদা', 'বিজয়নগরের হীরে' মুক্তির প্রাক্কালে অকপট পরিচালক

'শুধু আলাদা করে ‘কাকাবাবু’ না, ছবিটা যেভাবে বানানো হয়েছে এবং ছবির মধ্যে যে ধরনের ইনফরমেশন আছে, পুরো ছবিটাই ২০২৫ সালের ছবিই মনে হবে। ফলে টেক্সটের সঙ্গে সমস্যা নেই। গল্প প্রায় একই আছে'- চন্দ্রাশিস রায়।
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 08:24 PM Jan 17, 2026Updated: 08:31 PM Jan 17, 2026

‘আজকে আমার যেটুকু হচ্ছে কৌশিকদার জন্য’, 'বিজনগরের হীরে' মুক্তির প্রাক্কালে একান্ত আলাপচারিতায় পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়ের সঙ্গে কথোপকথনে শম্পালী মৌলিক।

Advertisement


‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এতদিন সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালনা করেছেন। সেই আসনে এবার আপনি। কতটা চাপ অনুভব করছেন ‘বিজয়নগরের হীরে’ আসার আগে?

...যখন দায়িত্বটা এসেছিল, চাপ হয়েছিল। আস্তে আস্তে কাজ করতে করতে সয়ে গিয়েছিল। এমন নয়, আমি কখনও ভেবেছিলাম সত্যি ‘কাকাবাবু’ বানাতে পারব। ‘কাকাবাবু’কে পুনরাবিষ্কার করেছে সৃজিতদাই। যারা আমরা ছবি বানানোর স্বপ্ন দেখেছি, তারা কখনও ভাবিনি ‘কাকাবাবু’ বানাব। ওটা হল সৃজিতদার হাতেই। এখন ‘কাকাবাবু’ ছবি বললে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৃজিতদার নামটাও চলে আসে। ওই প্রেসার শুরুতে ছিল। তারপর বানাতে গিয়ে একটা ওনারশিপ এসে গেছে কাজটার মধ্যে। ফলে ওই চাপটা নেই। এখন ছবিটা রিলিজের পর দর্শকের কী মতামত হবে, সেইটা চিন্তায় আছে।

প্রায় দু-আড়াই বছর পর ‘কাকাবাবু’ আসছে। নতুন যুগের ছেলেমেয়েদের উপযোগী করে তুলতে কিছু করেছেন?

...শুধু আলাদা করে ‘কাকাবাবু’ না, ছবিটা যেভাবে বানানো হয়েছে এবং ছবির মধ্যে যে ধরনের ইনফরমেশন আছে, পুরো ছবিটাই ২০২৫ সালের ছবিই মনে হবে। ফলে টেক্সটের সঙ্গে সমস্যা নেই। গল্প প্রায় একই আছে। বড়দিন থেকে পিছিয়ে ছবিটা ২৩ জানুয়ারি আসছে। পিছিয়েছে বলে খারাপলাগা আছে? ২৩-এ আরও দুটো বাংলা ছবির সঙ্গে লড়াই আছে। খারাপলাগা নেই। কারণ, সেই জায়গায় আমি এখনও পৌঁছইনি। আমার মাথার উপর যিনি আছেন, এক্ষেত্রে বুম্বাদা, বাণিজ্যিক কারণে যদি উনি কোনও সিদ্ধান্ত নেন আমি ওঁকে চ্যালেঞ্জ করার জায়গায় নেই। একটা উত্তেজনা ছিল ২৫ ডিসেম্বর নিয়ে। অক্টোবর থেকে বিষয়টা ধীর হয়ে যায়, আমরা বুঝতে পারি পিছোচ্ছে। তারপর বুম্বাদা যেমন মেনে নিয়েছেন, আমরা ওকে সমর্থন করেছি।

২৩ জানুয়ারি রাজ চক্রবর্তী এবং অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ছবিও আসছে। সেই জায়গাটা কীভাবে দেখছেন?

...ভালোভাবেই দেখছি। আশা করব তিনটে ছবিই যদি ভালো হয়, দর্শকের জন্য খুব ভালো হবে। বাংলা সিনেমা ভালো হওয়া এখন খুব জরুরি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনি ‘নিরন্তর’ করেছেন। শর্ট ফিল্ম করেছেন। তবে যদি বলি বাম্পার প্রোজেক্ট, সেটা ‘কাকাবাবু’। নতুন বছরে।

এক্সাইটমেন্টের সঙ্গে গুরুদায়িত্ব আছে। কেমন লাগছে?

...খুবই ভালো লাগছে। এই দায়িত্বটা আমার কাছে সারপ্রাইজের মতো এসেছিল। সেইটা পালন করতে করতে বছর দেড়েক হয়ে গেছে। এবার রিলিজ হবে। এটা অবশ্যই অ্যাডেড প্রেসার। কিন্তু মেকিংয়ের সময়টা উতরে গেছি।

‘নিরন্তর’ করে ফেলাটা নিশ্চয়ই কিছুটা সাহায্য করেছে?

...হ্যাঁ। ‘নিরন্তর’-এ বুম্বাদার সঙ্গে কাজ করাটা এরকম ছিল, আমাকে বলেছিল, ‘তুই তোর মতো গল্প যেমনভাবে বলতে চাস বল।’ এক্ষেত্রে, ইট ওয়াজ বুম্বাদা হু অফার্ড মি, যে ‘কাকাবাবু’ বানাবি। এককথায় উত্তর চেয়েছিলেন। আমার কাছে অন্য কোনও উত্তরের অপশন ছিল না। আমি দেখলাম এত জনপ্রিয় একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি, আমার জীবনে আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, এই কাজটায় খুবই হেল্প হতে পারে। ‘নিরন্তর’-এ বুম্বাদার সঙ্গে কাজ করে ফেলার পর মেকিংয়ের জানাশোনা হয়ে গেছিল। তার আগে কৌশিকদার ছবিতে কাজের সময় আমাকে দেখেছেন। মাঝে আমরা বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছি। বুম্বাদা ফ্লোরে শুধু একজন আর্টিস্ট হিসাবে যান না, একজন টেকনিশিয়ান হিসাবেও যান। আমার কাছে কাজ করা সব থেকে সহজ শিল্পীদের মধ্যে একজন বুম্বাদা। উনি এতটাই সহজ করে তোলেন। বাইরে আমাকে প্রচুর বকাবকি করেন, কিন্তু ফ্লোরে গেলে কোনও কথাই বলেন না। আমি যা বলব তাই, ব্যাপারটা উনি শুনতে রাজি– এমনটাই বুঝিয়ে দেন।

দীর্ঘদিন আপনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সহযোগী হিসাবে কাজ করেছেন। শুরুতে অবজারভার ছিলেন, পরে অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করেছেন। সেইটা নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করেছে?

...সেই সময় আমার দাদা ইন্দ্রাশিস ‘রং মিলান্তি’-তে কাজ করছে। কৌশিকদাকে বলেছিল, ‘আমার একটা ভাই আছে, একটু শুটিং দেখতে আসবে?’ সেইভাবেই গেছিলাম। ফেরার সময় কৌশিকদা বলেন, ‘কালকে আসবে তো?’ বলেছিলাম, হ্যাঁ। এরকম করেই কৌশিকদার হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়। আমি কিন্তু প্রাথমিকভাবে সিনেমাটোগ্রাফি করতে এসেছিলাম। তখন আমি ফিল্ম ইনস্টিটিউটে রিটেন ক্লিয়ার করি, ইন্টারভিউ ক্লিয়ার করতে পারছি না। সেই সময় ওই প্রসেসটার মধ্য দিয়ে কৌশিকদা আমাকে দেখেছেন। তখন উনি বলেন, ‘যে পথটা ধরেছিস, তার থেকে একটু অন্য দিকে তাকা, যে পথটা তোর অ্যাকচুয়াল কলিং। পরিচালনার দিকে একটু মন দে।’ তখন আমি ভাবতে ভাবতে জড়িয়ে গেলাম। পরিচালনার ইচ্ছে ছিল। ছোটবেলায় আমিও সত্যজিৎ-ভক্ত ছিলাম। ক্লাস নাইনে যখন পড়ি, অভীক মুখোপাধ্যায়ের অটোগ্রাফ নিয়েছিলাম। উনি ঘাবড়ে গিয়েছিলেন (হাসি)। কারণ, ওঁর মতো কাজ করতে চাইতাম। আমি বলব, আজকে আমার যেটুকু হচ্ছে কৌশিকদার জন্য।

সোল অট্রিয়াম ক্যাফেতে চন্দ্রাশিস রায়। ছবি: অমিত মৌলিক

আপনার ‘পড়শি’ এবার ‘কিফ’-এ বেঙ্গলি প্যানোরামায় ছিল, সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে। যার ফলে একটা প্রত্যাশা রয়েছে আপনার কাজ নিয়ে। সচেতন সেই বিষয়ে?

...হ্যাঁ, কিছুটা তো বটেই। ‘কিফ’-এ কতজন দেখেছে আমি জানি না। পুরস্কার পেলে মানুষের একটা ভালো লাগা জন্মায়, আশা করব তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।

‘পড়শি’ প্রেক্ষাগৃহে কেমন সময় আসবে?

...চেষ্টা চলছে, এই বছরেই মুক্তির। ইন্দ্রাশিস আর আপনার মধ্যে কে ভাই আর কে দাদা, খুব গোলায় লোকজন। হ্যাঁ, ইন্দ্রাশিস আমার দাদা। আড়াই বছরের বড়।

পরবর্তীকালে দু’জনে মিলে আবার কাজ করবেন?

...হ্যাঁ, ইচ্ছে তো আছেই। সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করত, দাদার সঙ্গে কাজ করিস না কেন। যখন সত্যিই ওকে দেওয়ার মতো চরিত্র পেলাম, ‘পড়শি’-তে ওকেই নিলাম। আরও অপশন থাকলেও ওকেই নিলাম। মানে চরিত্রের জন্য যদি লাগে তাকেই নিতে চাই।

‘অপরাজিত’ ছবিতে জীতু কমলের পর্দায় সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে রূপদানের নেপথ্যে আপনার কণ্ঠের অনেকটা অবদান। এইরকম প্রস্তাব এলে আর করবেন?

...আমি এই প্রস্তাবে না-ই বলেছিলাম। আমি অনীকদাকে অ্যাসিস্ট করতাম বিজ্ঞাপনে। বহুদিন ধরেই যোগাযোগ। আমি রাজি ছিলাম না শুরুতে। কারণ, অভিনয় করতে গেলে আমার হাত কাঁপে। কথা বলতে গেলে শেষ হয়ে যাব! তার উপর একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার জন্য কণ্ঠ দেব! অনীকদা রেগে যান। আমি ঘুরতে গেছিলাম তখন। ফেরার পর অনীকদা একটা সিন পাঠালেন। পড়তে পড়তে আমার ভালো লেগে যায়। রেকর্ডিং করে পাঠাই অনীকদাকে। তখন একটু দেরিই হয়ে গেছিল। তারপর একদিন ফোন করে ডেকে নেন আমাকে। এইভাবে কাজটা হয়ে যায়। এটার মাস্টারমাইন্ড অনীক দত্ত। আমার গলা যে ব্যবহার করা যায়, আমাকে আগে কেউ বলেনি। তবে পরবর্তীকালে করব না (হাসি)।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement