দিন কয়েক ধরেই দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অঙ্কিতা চক্রবর্তীর মন্তব্য নিয়ে বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস! যেখানে পরিচালককে 'পারভার্ট ব্রাহ্মণ' বলে তোপ দেগে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেত্রী। এরপর সোমসন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে অঙ্কিতা দাবি করেন, এক পার্টিতে দেবালয় তাঁকে বলপূর্বক চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন। বিগত তিন বছর ধরে সেই 'অভিশপ্ত স্মৃতি' বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে! সেই প্রেক্ষিতেই দেবালয়কে আইনি নোটিস পাঠান অঙ্কিতা। এবার অভিনেত্রীর আনা শ্লীলতাহানির অভিযোগে পালটা 'অ্যাকশন' পরিচালকের।
দেবালয়ের সংযোজন, "যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে ক্ষতিপূরণ তো আমি চাইবই।"
শ্লীলতাহানির অভিযোগে পালটা কী জবাব দেবালয় ভট্টাচার্যের?
অঙ্কিতা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন দেবালয় ভট্টাচার্য। সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই তিনি জানান, "অঙ্কিতার সাংবাদিক বৈঠকের দিন তিনেক পেরলেও আমি এখনও পর্যান্ত কোনও আইনি নোটিস পাইনি। তবে আমি আমার মতো করে ওঁকে নোটিস পাঠিয়ে দিয়েছি।" দেবালয়ের সংযোজন, "যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে ক্ষতিপূরণ তো আমি চাইবই।" পরিচালক-নায়িকার বিরোধের সূত্রপাত কোথায়? অঙ্কিতার অভিযোগ, বছর তিনেক আগে এক পার্টিতে প্রকাশ্যেই দেবালয় ভট্টাচার্য তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? অভিনেত্রী জানান, এক পার্টিতে তিনি এবং পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য হাজির ছিলেন। দেবালয়কে আগে থেকেই চিনতেন, তাই তাঁর সম্পর্কে কোনও অস্বস্তিবোধ করেননি অঙ্কিতা। কিন্তু সেখানে যে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটবে, সেটা আন্দাজও করতে পারেননি অভিনেত্রী। অঙ্কিতার কথায়, "পার্টির মাঝে আমার হাত ধরে টেনে একটি ঘরে নিয়ে যান দেবালয়। ফলত পিঠ ঠেকে যায় দেওয়ালে। এরপরই পরিচালক চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই বুঝতে পারি , ঠিক কী ঘটাতে চলেছেন দেবালয়! এরপরই নিজেকে সামলে নিই।"
তিনি কোনও আইনি নোটিস পাননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘এবার আমি আদালতে যাব। আর শেষ সাংবাদিক বৈঠকটাও আমিই করব’, চ্যালেঞ্জ দেবালয়ের। কিন্তু পোস্ট কেন ডিলিট করলেন?
দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ অঙ্কিতা চক্রবর্তীর।
সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই রাতের ‘অভিশপ্ত স্মৃতি’ আউড়ে অঙ্কিতা জানান যে, ইতিমধ্যেই দেবালয় ভট্টাচার্যকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তাঁর আইনজীবী প্রিয়ম দে। অভিনেত্রীর দাবি, কোনও ক্ষতিপূরণ নয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে দেবালয়কে। নতুবা পরিচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবেন তিনি। এবার অঙ্কিতা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করে পালটা আইনি নোটিস পাঠালেন দেবালয় ভট্টাচার্য। এহেন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠতেই কী জানিয়েছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য? পরিচালকের সাফ কথা, তিনি কোনও আইনি নোটিস পাননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘এবার আমি আদালতে যাব। আর শেষ সাংবাদিক বৈঠকটাও আমিই করব’, চ্যালেঞ্জ দেবালয়ের। কিন্তু পোস্ট কেন ডিলিট করলেন?
সেবিষয়ে সংবাদ প্রতিদিনকে দেবালয় বলেন, "পোস্টটা ছিল সম্পূর্ণ অন্য বিষয় নিয়ে। যেখানে কয়েকজনকে নিয়ে আমার লেখা ছিল। তাদের মধ্যে একজন রাতে ফোন করে বলল, ‘তুমি ঠিক লিখছ না। যেটা বোঝাতে চাইছো, সেটা বেরোচ্ছে না। হিউমারটা মিসিং। ইটস রুড।’ সেই টেক্সট আমি দেখাতে পারি। প্রমাণ আছে। তারপর ঘুম থেকে উঠে পোস্টটা ডিলিট করি। খুব ফেসবুক আমি করি না।” এরপর দেবালয় আরও যোগ করেন, ‘একজন আমাকে পাঠায়। সেখানে কমেন্টে একজন এসে ভুল বাংলায় আমার দীর্ঘ চরিত্র বিশ্লেষণ করে গেছে। এই হচ্ছে সত্যি। আর আপনার বিরুদ্ধে যে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ করছে সেই বিষয়ে কি বলবেন? শারীরিক হেনস্থা বলতে কী বলা হয়েছে? আমি নাকি ওকে চুমু খেতে চেয়েছি? আমি কারোর নিতম্ব স্পর্শ করেছি? আমি নাকি একজন নাবালিকার শালীনতায় হাত দিয়েছি। এই যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয় সে তো মারাত্মক! এটা কেউ আমাকে ফেসবুকে রাত চারটের সময় লিখবে কেন? আইনি পদক্ষেপ নেবে না? সমাজমাধ্যমে কেন?"
