দীর্ঘ ৩৬ বছরের কেরিয়ারে দেড়শোর বেশি ছবি রয়েছে অক্ষয় কুমারের ঝুলিতে। মন্দা দেখা দিলেও পিছু হটেননি বলিউডের 'খিলাড়ি'। এমনও দিন দেখেছেন যখন যখন বক্স অফিসে ধস, তবুও কেরিয়ারে আত্মবিশ্বাসী আক্কি। লাগাতার তাঁর ছবি থেকে দর্শক মুখ ফেরালেও অবসাদে ভোগেননি, বরং বুক চিতিয়ে লড়াই জারি রেখেছেন। সম্প্রতি 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'-এর ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে অক্ষয়ের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান কখনও অবসরের কথা ভেবেছেন?
উত্তরে অক্ষয় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, অভিনয়ই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। তাই অবসর নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। আর যদি কখনও অবসরগ্রহণের ভাবনা আসে তাহলে কী করবেন তাও নির্দ্ধিয়ায় জানান অক্ষয়। আসলে সিনেপর্দা হোক বা পর্দার বাইরে রসিকতা যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে! ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে অক্ষয় মজা করে বলেন, "আমি যদি অবসর নিই তাহলে বাড়িতে বসে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করব, কুকুর হাঁটানোর কাজ করব, প্রয়োজনে মালী হয়ে যাব। বাড়ির সব কাজই আমার ঘাড়ে এসে পড়বে। তাই আমার মনে হয় কাজে যাওয়াই শ্রেয়। এখুনি অবসর না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।"
ট্রেলার লঞ্চে কলাকুশলীরা
আক্কির এই রসিকতায় হেসে লুটোপুটি উপস্থিত সকলে। এরপর যখন অক্ষয়কে ফের বলা হয়, অবসর নিলে তো পারিবারিক সময় কাটানোর একটা দুর্দান্ত সুযোগ পাবেন। সঙ্গে সঙ্গে আক্কির জবাব, "আমি যাঁদের সঙ্গে সময় কাটাই তদাঁরাই আমাকে বলে আপনি কাজে যান।" হাসি-ঠাট্টার মধ্যে দিয়েই জীবনদর্শনও তুলে ধরেন অক্ষয়। তাঁর বক্তব্য, "অবসর শব্দটাই আমার ভীষণ অপছন্দের। মৃত্যুর পাঁচ মিনিট আগে অবসর নেওয়া উচিত। আমি তো সবাইকে বলব যতক্ষণ পারবেন নিজেকে কাজের মধ্যে নিমজ্জিত রাখুন।"
ট্রেলার লঞ্চে অক্ষয়
আরও বলেন, "তবে আমিও মাঝেমধ্যে অবচেতন মনেই অবসরের কথা ভেবে ফেলি। ভোর চারটের সময় ঘুম থেকে উঠলে মাঝে মাঝে এটা মনে হয়। কিন্তু পাঁচ সেকেন্ড পরই মনে পড়ে যায় শুটিংয়ে যেতে হবে। তিনশো মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তখন অবসরের চিন্তা উধাও হয়ে যায়। মনে হয়, কাল অবসর নেব। পরদিন ভোর চারটেয় সময় উঠে আবার সেই একই ভাবনা। এভাবেই ছত্রিশ বছর কেটে গেল। "
