দিন কুড়ি আগের কথা। দেশের শিক্ষাদুর্নীতি, নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র বিক্ষোভ (CJP Protest) নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ (Diljit Dosanjh)। সেসময়ে দায় এড়িয়ে বলেছিলেন, "আমি একজন শিল্পী, নেতা নই। ভাই, আমাকে এসব বিক্ষোভ থেকে দূরেই রাখো।" পাঞ্জাবি পপস্টারের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনার আবহে এহেন মন্তব্যের জেরে ব্যাপক সমালোচিত হতে হয় তাঁকে। এবার সেই গায়ক-অভিনেতাই কিনা 'ককরোচ'দের সমর্থনে সুর চড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন! শুধু তাই নয়, দিলজিতের হুঙ্কার, "নিন, এবার আমাকেও দেশদ্রোহী বলুন।"
দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ
জন্মলগ্ন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় ব্যাপক খরচ এবং সার্বিকভাবে দেশের পড়ুয়াদের প্রতি কেন্দ্রের দায়বদ্ধতার অভাব নিয়ে আন্দোলন করে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। নিট কেলেঙ্কারি-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বাদল অধিবেশনের পয়লা দিনেই সিজেপির 'সংসদ অভিযান' ঘিরে কার্যত কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি। আন্দোলন রুখতে যন্তর মন্তর চত্ত্বর ৫০০০ পুলিশ ও আধা সেনা নামায় কেন্দ্র। এরপরেও ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগনোর চেষ্টা করলে লাঠিচার্জের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের রুখতে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস, চালানো হয় জলকামান। রাজধানীতে পড়ুয়াদের এহেন আন্দোলন নিয়ে দিন কয়েক ধরেই সরব দেশের বিশিষ্টমহলের একাংশ। এবার সেপ্রসঙ্গে মুখ খুলেই রীতিমতো বিস্ফোরক দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ।
"আমাকে আগেও একাধিকবার 'দেশদ্রোহী' বলা হয়েছে। এবারও আমাকে সেটাই বলা হবে। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলায় আমাকে..."
ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে লাঠিচার্জ পুলিশের।
বিক্ষোভকারীদের দমনে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে 'পাঞ্জাবি পপস্টারে'র মন্তব্য, "যেটা ঘটেছে তা অত্যন্ত অন্যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই উচিত হয়নি। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াগুলি শোনে। কারণ জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।" এরপরই কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে দিলজিতের সংযোজন, "আমাকে আগেও একাধিকবার 'দেশদ্রোহী' বলা হয়েছে। এবারও আমাকে সেটাই বলা হবে। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলায় আমাকে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। অনেকে আমার সমালোচনাও করেছিলেন। যেসব বিষয়ে এখন আমি আলোচনাও করতে পারব না! তবে যাই হোক, ঈশ্বর কিন্তু সব দেখছেন। চাইব, উনি সকলের মঙ্গল করুন।"
