মুঠোফোনে আসক্তির বড় মাশুল গুনতে হল প্রাপ্তবয়স্ক ছবির প্রাক্তন অভিনেত্রীকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে মুখ গুঁজে বসা থাকার অভ্যেস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এহেন বদভ্যাসের জন্য শিয়রে যে এত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি! শারীরিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শেষমেশ তিন লক্ষ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করাতে হল তাঁকে।
"বিছানায় এক পাশ ফিরে শুয়ে একটানা চার ঘণ্টা পর্যন্ত ফোনের স্ক্রিনে সময় কাটাতাম। চা বা কফি খাওয়ার জন্যেই শুধু উঠতাম।..."
মালয়ালম সিনদুনিয়ার অত্যন্ত পরিচিত মুখ শকিলা (Shakeela)। যিনি মূলত 'বি গ্রেড' কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক সিনেমায় অভিনয় করার জন্যই পরিচিত। সম্প্রতি মুঠোফোনের সর্বনাশা আসক্তির কথা জানিয়ে হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন শাকিলা। সেখানেই তিনি জানান, সদ্য ঘাড়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু এহেন বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ভাবলেই শিউড়ে উঠছেন! শাকিলা জানান, "আমি বিছানায় এক পাশ ফিরে শুয়ে একটানা চার ঘণ্টা পর্যন্ত ফোনের স্ক্রিনে সময় কাটাতাম। চা বা কফি খাওয়ার জন্যেই শুধু উঠতাম। তারপর চা-কফি খেয়ে ফিরে এসে আবার গেম খেলা শুরু হত। এরপর ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখতাম।"
"অপ্রয়োজনীয় ভিডিও, এমনকী আমার ভিডিও-ও দেখার দরকার নেই। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মোবাইলে চোখ রাখবেন না। নইলে আপনাদেরও ৩ লক্ষ টাকা খোয়াতে হবে...।"
দিনের পর দিন একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে মুখ গুঁজে তাকিয়ে থাকার কারণে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়তে হয় শাকিলাকে। ঘাড়ের সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, শেষমেশ অস্ত্রোপচার করাতে হয় অভিনেত্রীকে। শাকিলার মন্তব্য, ভুল ভঙ্গিতে বসা-শোয়া এবং অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে আমার ঘাড়ের শিরাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার জেরে শেষপর্যন্ত আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হল।" পাশাপাশি সকলের উদ্দেশে অভিনেত্রীর আর্জি, শিশুদের হাতে যেন ফোন তুলে দেওয়া না হয়। কেউ যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ না রাখেন। অভিভাবকদের সতর্ক করে শাকিলার বার্তা, "ফোন শুধু জরুরি কাজে ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ভিডিও, এমনকী আমার ভিডিও-ও দেখার দরকার নেই। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মোবাইলে চোখ রাখবেন না। নইলে আপনাদেরও ৩ লক্ষ টাকা খোয়াতে হবে এবং আমার মতো অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।" উল্লেখ্য, সিল্ক স্মিতার পর প্রাপ্তবয়স্ক ছবিতে শাকিলাই দক্ষিণা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নজর কেড়েছিলেন। মাত্রাতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে সেই অভিনেত্রীরই জীবন জেরবার!
