গত নভেম্বরে মাসে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। মাস দেড়েক পেরলেও হেমা মালিনী যে আজও স্বামীবিয়োগের শোকে আচ্ছন্ন, সেটা তাঁর মুহুর্মুহু স্মৃতিচারণই বলে দেয়। উপরন্তু ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর থেকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। কখনও হেমার পৃথক স্মরণসভা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তো কখনও বা আবার দেওলদের পারিবারিক ফাটল নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মথুরার তারকা সাংসদ। এমন আবহেই এবার এক খেলার প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গিয়ে কটাক্ষের শিকার হেমা মালিনী। বিতর্কের সূত্রপাত, প্রবীণ নেত্রী-অভিনেত্রীর রূঢ় আচরণ নিয়ে। ঠিক কী ঘটেছে?
সম্প্রতি আমন্ত্রণ পেয়ে মথুরার এক খেলা প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন হেমা। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন। আর সেই লেন্সবন্দি মুহূর্ত নিয়েই নেটভুবনে বর্তমানে তুমুল কাটাছেঁড়া! ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিযোগীদের হাতে স্রেফ কর্তব্য পালনের জন্যেই পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন তারকা সাংসদ। মেডেল পরানোর সময়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করে অভিনন্দন জানানো তো দূরঅস্ত, হেমার মুখে হাসিটুকু ছিল না পর্যন্ত। এমনকী, বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর হাত মুছতেও দেখা যায় তাঁকে। আর এহেন রূঢ় অভিব্যক্তির জেরেই বর্তমানে মারাত্মক সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে প্রবীণ অভিনেত্রীকে। অতঃপর নেটবাসিন্দারাও 'গোমড়ামুখী' বলে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি।
কারও প্রশ্ন, 'এমন মুখ নিয়ে কে পুরস্কার দেয়?' কেউ বা আবার 'জয়া বচ্চনের বোন' বলেও বিদ্রুপ করলেন হেমা মালিনীকে। কারও মন্তব্য, এতই যদি অবসাদে ভোগেন তাহলে অনুষ্ঠানে আসার কী দরকার ছিল? কেউ বা আবার মনে করিয়ে দিলেন, 'আপনার এহেন রূঢ় আচরণে ওই বাচ্চাগুলি কতটা কষ্ট পেয়েছে, একবার ভেবে দেখেছেন?' কারও বা মন্তব্য, 'এত অনিচ্ছা সহকারে পুরস্কার না দিলেই পারতেন!' এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে সোশাল পাড়া। আসলে ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই শোকে ডুবে রয়েছেন হেমা মালিনী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারেও সেকথা করে তিনি জানিয়েছিলেন যে, "৫৭ বছর ধরে একটা মানুষের সঙ্গে কাটানোর পর তাঁকে ছাড়া একমুহূর্ত ভাবতে পারছি না! এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হওয়ার।" যদিও এই পুরস্কার বিতরণ বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম বিবৃতি দেননি হেমা মালিনী। তবে 'হি ম্যান' আর তিনি যে হরিহর আত্মা ছিলেন, সেকথা একাধিকবার সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী। তাই সম্ভবত এহেন ভাবলেশহীন আচরণে পুরস্কার তুলে দিতে গিয়েছে 'ড্রিম গার্ল'কে।
