তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। 'অ্যায় মেরে হামসফর' থেকে 'অগর তুম সাথ হো' বলিউডের স্বনামধন্য গায়িকা অলকা ইয়াগনিক বলিউডকে মাতিয়েছেন দশকের পর দশক ধরে। তবে মঙ্গলসন্ধ্যায় পদ্ম পুরস্কার নিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে গায়িকাকে হুইলচেয়ারে দেখা যায়। কয়েক বছর ধরেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তাঁকে। এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়তেই অনুরাগীমহলে যেমন উদ্বেগের সুর, তেমনই নানা নেতিবাচক মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। নিন্দুকদের দাবি, আর কোনওদিন ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় অলকা ইয়াগনিকের! এহেন মন্তব্যের ভিড় বাড়তেই অলকার হয়ে মোক্ষম জবাব জবাব ছুড়লেন ইলা অরুণ।
আহা-উঁহু করে কারও মন্তব্য, 'মনে হয় না, অলকা ইয়াগনিক আর কোনও দিন গান গাইতে পারবেন!' কেউ বা বললেন, 'অলকার পক্ষে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।' কারও প্রশ্ন, 'অলকা কি আর গানের কেরিয়ারে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?' এহেন নানা মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন।
মঙ্গলবাসরীয় সন্ধ্যায় ৬০ বছরের অলকাকে দেখা যায় হুইলচেয়ারে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন তিনি। মঞ্চে যাওয়ার আগে তিনি প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এরপর এগিয়ে যান রাষ্ট্রপতির দিকে। পুরো সময়টাই তাঁকে ধরে রেখেছিলেন এক সহকারী। এহেন দৃশ্য দেখে স্বাভাবিক ভাবেই বিষণ্ণ অনুরাগীরা। পরে একটি পোস্টে নিজের কঠিন সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন অলকা। আপাতত কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও শারীরিক সমস্যা এখনও রয়েছে। তিনি লিখেছেন, 'গত দু'বছর ধরে আমি প্রচারের আলো ও জনসমক্ষের দূরবর্তী ছিলাম। আমার জীবনের এই যাত্রাপথের কথা খুব একটা প্রকাশ্যে আনিনি। আপনারা অনেকেই জানেন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। এই পুরো সময়টাতে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা, বার্তা এবং অটুট সমর্থন প্রতিটি পদক্ষেপে আমার সঙ্গে ছিল।' পদ্ম সম্মান গ্রহণের এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ কেন অলকা। তিনি জানিয়েছেন, 'আজ আমি কেবল একটি পুরস্কারই গ্রহণ করিনি। বরং অনুভব করেছি সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, যাঁরা আমার এই যাত্রাপথের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।' অলকার এহেন পোস্টের পরই সোশাল মিডিয়ার একাংশ নানা নেতিবাচক কথা শুরু করেন। আহা-উঁহু করে কারও মন্তব্য, 'মনে হয় না, অলকা ইয়াগনিক আর কোনও দিন গান গাইতে পারবেন!' কেউ বা বললেন, 'অলকার পক্ষে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।' কারও প্রশ্ন, 'অলকা কি আর গানের কেরিয়ারে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?' এহেন নানা মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। নেতিবাচক বুলি আওড়ানো সেসব নিন্দুকদের একহাত নিলেন এবার ইলা অরুণ।
অলকা ইয়াগনিকের জন্য উদ্বিগ্ন ইলা অরুণ।
প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী তথা অভিনেত্রী সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় অলকার মঙ্গল কামনা করেছেন। সেখানে উল্লেখ, "যারা অলকা ইয়াগনিকের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলি, আমি এমন সব মন্তব্য দেখছি যেখানে বলা হচ্ছে 'পদ্মভূষণ' পাওয়ার পর তিনি নাকি 'আর গাইতে পারবেন না'। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক! একজন শিল্পী, তা তিনি গায়ক, চিত্রশিল্পী বা অভিনেতা যেই হোন না কেন- তাঁকে যদি বলা হয় যে তিনি তাঁর ভালোবাসার কাজটি আর করতে পারবেন না, তবে সেটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। সৃজনশীলতা বা শিল্প তো কেবল কণ্ঠ, হাত বা মঞ্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তার বাস করে মানুষের মননে, আত্মায়। অলকাজি ভারতকে কয়েক দশক ধরে ম্যাজিক্যাল গান উপহার দিয়েছেন। তাঁর 'পদ্মভূষণ' প্রাপ্তিতে পুরো দেশ গর্বিত, এবং তা যথার্থই। তিনি আমাদের যা দিয়েছেন, তা যেন আমরা ভুলে না যাই। মিব়্যাকেলও তো হয়। শক্তি ফেরে। আর কণ্ঠস্বরও তার পথ খুঁজে পায়। ওঁর সঙ্গে অনেক গান গাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি আবারও ওঁর সঙ্গে কাজের অপেক্ষায় আছি।" শেষপাতে ইলা অরুণের সংযোজন, "প্রিয় অলকা, আমি তোমাকে ভালোবাসি— তোমার মনোবল ও ইতিবাচক মানসিকতাকে ভালোবাসি। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি নতুন উদ্যোমে প্রত্যাবর্তন করছ। অনেক ভালোবাসা ও আশীর্বাদ রইল।"
তাঁর কণ্ঠস্বর শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি অমর সিং চমকিলার ‘নরম কালজা’তে। এরপরই তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়।
২০২৪ সাল থেকে অলকা গানের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। আসলে শ্রবণ ক্ষমতা সংক্রান্ত এক বিরল রোগে আক্রান্ত শিল্পী। যার নাম সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস। গান গাওয়া থেকেও তাই দূরে থাকতে হচ্ছে। তাঁর কণ্ঠস্বর শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি অমর সিং চমকিলার ‘নরম কালজা’তে। এরপরই তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। সেখানেই সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস-এর কথা বলেছিলেন শিল্পী।
