গত ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আলো দেখেছে ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত 'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা'। যে সিনেমার মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে চর্চায় 'পাঞ্জাবি পপস্টার' দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। দেশভাগের পর যেসব মানুষকে রাতারাতি নিজের জন্মভূমি, ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে, বর্তমান অসহিষ্ণু বিশ্বে সেসব ছিন্নমূলদের আবেগকেই পর্দায় তুলে ধরেছেন ইমতিয়াজ। আর সেই সিনেমার বিরুদ্ধেই কিনা এবার 'দেশদ্রোহিতা'র অভিযোগ! রিলিজের পর দর্শকমহলের একাংশ ইমতিয়াজের 'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা' সিনেমাটিকে 'ভারতবিরোধী' বলে তোপ দাগা শুরু করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এই সিনেমায় কেন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দেখানো হয়নি? ব্লকবাস্টার 'ধুরন্ধর'-এর পাকিবিরোধী প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে এমন প্রশ্ন ওঠা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়! এহেন বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠতেই মুখ খুললেন ইমতিয়াজ আলি খোদ।
একাংশের প্রশ্ন, ‘সন্ত্রাস, সিক্রেট এজেন্টদের অপারেশন ছাড়াই কীভাবে পাকিস্তানকে দেখানোর সাহস করলেন ইমতিয়াজ?’
পরিচালকের মন্তব্য, 'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা' ছবিটি মূলত দেশভাগের জেরে ছিন্নমূল মানুষদের মানবিক বিপর্যয়ের কথা বলে। তাই ঘৃণার প্রচার না করে নিজের ঠিকানা-বাস্তুচ্যুতির যন্ত্রণাগুলো তুলে ধরেছে। ইমতিয়াজের কথায়, "ছবিটি জাতীয়তাবাদী মেরুকরণের ঊর্ধ্বে গিয়ে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মানবিক যন্ত্রণায় আলোকপাত করেছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজেদের 'ঠিকানা' খোঁজা মানুষগুলির কথা বলে আমাদের ছবি। আর যেহেতু 'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা'র গল্পের প্রেক্ষাপট অবিভক্ত ভারত, তাই সেই প্রেক্ষিতে এই ছবিকে পাকিস্তানপ্রীতি বা পাকবিদ্বেষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখাই উচিত নয়। তাছাড়া আমি যাদের সঙ্গে মেলামেশা করেছি, তাদের কারও মনেই ঘৃণা নেই। আমি তো বলব, বাকি সকলের থেকে ভারতীয় মুসলিমরাই সবসময়ে তাদের দেশপ্রেমের বড় প্রমাণ দিয়েছেন। কারণ দেশভাগের সময় তাঁদের অপশন থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কিন্তু মাতৃভূমি হিসেবে ভারতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।"
'ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা' ছবির দৃশ্যে নাসিরুদ্দিন শাহ ও দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
আসলে ইমতিয়াজের সিনেমায় পাকিস্তানের কোনও সন্ত্রাসলীলা দেখানো হয়নি। পরিবর্তে দু’দেশের ছিন্নমূলদের আবেগকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই একাংশের প্রশ্ন, ‘সন্ত্রাস, সিক্রেট এজেন্টদের অপারেশন ছাড়াই কীভাবে পাকিস্তানকে দেখানোর সাহস করলেন ইমতিয়াজ?’ বিতর্কের আবহে দিন কয়েক আগেই 'বন্ধু' ইমতিয়াজের হয়ে ব্যাটন ধরেছিলেন এআর রহমান। নেটভুবনে এক ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করে, নিন্দুকদের একহাত নেন তিনি। এবার 'দেশদ্রোহিতা'র অভিযোগ শুনে নিন্দুক-সমালোচকদের যথাযোগ্য জবাব দিলেন পরিচালক খোদ।
