চব্বিশ সালে 'অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ' সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক দুলাল দে। তার আগে অবশ্য একুশ সালে দেবের 'গোলন্দাজ' সিনেমায় অভিনেতা হিসেবে ধরা দেন। এবার বছর দুয়েক বাদে আবারও পরিচালকের আসনে সাংবাদিক-অভিনেতা। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ছবির নাম এবং কাস্টিং প্রকাশ্যে আনলেন দুলাল দে।
গতবার জীতু কমলকে নিয়ে ক্রীড়াধর্মী গোয়েন্দা ছবি উপহার দিয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয় সিনেমার ক্ষেত্রেও কাস্টিংয়ে চমক রেখেছেন দুলাল। পরিচালক জানালেন, তাঁর নতুন সিনেমার নাম 'ফাঁদ'। তবে এই ছবিতে খানিক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ রেখেছেন তিনি। গল্পটা কীরকম? দুলাল বলছেন, "পলিটিক্যাল ড্রামা। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের তিন অধ্যায় ফুটে উঠবে ছবিতে। এবং প্রত্যেক চরিত্রের মধ্যেই একাধিক স্তর রয়েছে। যে গল্প কিংবা চরিত্রগুলো আজকের দিনে ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। আশা করছি, বর্তমান প্রজন্মও আমার এই সিনেমার সঙ্গে একাত্ম হতে পারবে।" আর সিনেপর্দায় বাংলার তিন রাজনৈতিক অধ্যায় ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচালক দারুণ কাস্টিং সাজিয়েছেন। অনির্বাণ চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, ইশা সাহা, অর্জুন চক্রবর্তী, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, (আরজে) সায়ন ঘোষ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো একঝাঁক দক্ষ অভিনেতাকে দেখা যাবে 'ফাঁদ'-এ। তবে কাস্টিংয়ে এখানেই যতিচিহ্ন পড়ছে না। পিকচার অভি বাকি হ্যায়...!
খবর, 'কর্পূর'-এর পর 'ফাঁদ' নেতা-অভিনেতা কুণাল ঘোষের তৃতীয় ছবি হতে চলেছে। কানাঘুষো, এবার আর নেতা নয়, পর্দায় দাপুটে পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকায় ধরা দেবেন তিনি। এদিন এই ছবি ঘোষণার অনুষ্ঠানে কুণাল ঘোষ বললেন, ''আমি ছবি দেখতে ভালোবাসি, সিনেমা দেখি, নাটক হয়ত আরও বেশি দেখি। যাঁরা অভিনয় করেন, সেটা বিরাট সাধনা ও পরিশ্রমের বিষয়, সন্দেহ নেই। যাঁরা আবার ভাবেন নেতা বা রাজনৈতিক সংগঠনের বিষয়টা অতি সহজ, চাঁদমারি করে চলে যায়, সেটা ততটাও সহজ নয়। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, অনেকে অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতি বা নেতৃত্বে এসে সফল হয়েছেন। যদি এদিক থেকেও একটু করা যায়, মানে রাজনীতি থেকে অভিনয় করা যায় কি না। যদিও রাজনীতি আর অভিনয় সমার্থক কি না, সে প্রশ্ন আছে। এর জবাব আমার কাছে নেই।'' অন্যদিকে নেতার ভূমিকায় থাকছেন গোয়েন্দা 'একেনবাবু' অনির্বাণ। আর ঋত্বিক চক্রবর্তীকে পাওয়া যাবে ধূসর চরিত্রে। গল্পের 'অ্যান্টাগনিস্ট' তিনিই। তবে শুধু রাজনৈতিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেই ক্ষান্ত থাকছেন না পরিচালক। জানা গেল, গল্পে ত্রিকোণ প্রেমের দৃষ্টিকোণও রয়েছে। অতঃপর রাজনীতি আর রোম্যান্স যে মিলেমিশে একাকার হবে, তেমনটা আশা করাই যায়।
'ফাঁদ' ছবি ঘোষণার অনুষ্ঠানে ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনির্বাণ চক্রবর্তী, ইশা সাহা ও সুহোত্র মুখোপাধ্যায়। ছবি: কৌশিক দত্ত।
যদিও পরিচালক এখনই এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ! তবে খবর, ইশা-অর্জুন আর সুহোত্রকে ঘিরেই আবর্তিত হবে এই ত্রিকোণ প্রেমের গল্প। অতঃপর 'সোনাদা' ফ্র্য়াঞ্চাইজির পর আবারও জুটি হিসেবে ধরা দিচ্ছেন ইশা-অর্জুন। এদিন এই ছবি নিয়ে ইশা বলেন, "পাঁচ বছর আগে চিত্রনাট্য শুনেছিলাম। অনেক ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে অবশেষে ছবির ঘোষণা হল। ছবিটা হতে চলেছে এটাই ভীষণ আনন্দের। সেই 'গোলন্দাজ' থেকে শুরু হয়েছিল আর আজ এই ছবি, আমার মনে হচ্ছে এবার ফুটবলটাও আমি শিখে নেব।" অন্যদিকে অর্জুন বলেন, "খুবই সৌভাগ্য এরকম একটা টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারা। সকলের সঙ্গেই এর আগে আলাদাভাবে কাজ করেছি তবে এই ছবির পুরো টিমের সঙ্গে এবার একসঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হতে চলেছে। আমি ভীষণই উচ্ছ্বসিত।"
'ফাঁদ' ছবির কলাকুশলীরা। ছবি: কৌশিক দত্ত।
নতুন ছবি নিয়ে অনির্বাণ চক্রবর্তী বললেন, "দুলাল দার সঙ্গে এর আগেও এই ছবি নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। এমনকী তাঁর আগের ছবিতেও অভিনয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন তা হয়ে ওঠেনি। আমি এই হবিটা নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। ছবিটা শুধুই ফুটবল নিয়ে নয়। এতে বহু টুইস্ট অ্যান্ড টার্নস আছে।" অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী এদিন বলেন, "দুলাল দার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিনের। এরকম একটা গল্প দুলাল দার মাথায় ঘুরছে তার আভাস পেয়েছিলাম। তাঁর মুখেই শুনেছি,এটা দারুণ একটা গল্প। যার উপর ভিত্তি করে জমজমাট একটা ছবি হবে। গল্পটার প্রতি আমার ভীষণই বিশ্বাস আছে।"
'ফাঁদ' ছবির ঘোষণার অনুষ্ঠানে কুণাল ঘোষ, পরিচালক দুলাল দে, ফুটবলার ব্যারেটো এবং অন্যান্যরা। ছবি: কৌশিক দত্ত।
বলে রাখা ভালো, এদিন ছবির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলার ব্যারেটো। যেহেতু এই ছবিতে ফুটবলের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাই ছবিতে ব্যারেটো থাকছেন কি না সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই প্রেক্ষিতে পরিচালক দুলাল দে বলেন "ব্যারেটো কাস্ট নয় তবে কাস্ট হয়ে যেতেই পারে।"
আগামী মার্চ মাস থেকে কলকাতা এবং শহরতলীর বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং হবে। ক্যামেরার দায়িত্বে 'বহুরূপী', 'বিজয়নগরের হীরে' খ্যাত সিনেম্যাটোগ্রাফার ইন্দ্রনাথ মারিক। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য-সংলাপের দায়িত্ব সামলেছেন দুলাল দে খোদ। 'ফাঁদ'-এর সঙ্গীত পরিচালনা করবেন রণজয় ভট্টাচার্য।
