ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। মন জিতল নেপাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যে খেলাটা খেলল 'হিমালয়ের দেশ', তাতে তাবড় সমালোচকরাও সাধুবাদ জানাতে বাধ্য। মাত্র ১২ বছর আগে (২০১৪) আইসিসি'র কাছ থেকে টি-টোয়েন্টিতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করা নেপাল ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডকে একেবারে মাটি ধরিয়ে ছাড়ল। ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দীপেন্দ্র সিং, রোহিত পৌডেল, লোকেশ বামরা দুরন্ত লড়াই করে নেপালকে পৌঁছে দিলেন ১৮০ রানে। মহাশক্তিধর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তারা হারল মাত্র ৪ রানে। আক্ষরিক অর্থে নেপাল বুঝিয়ে দিয়ে গেল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও দলই 'ছোট' নয়।
রবিবার দর্শক ঠাসা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই 'খতরনক' ফিল সল্টের (১) উইকেট খোয়ায় ইংল্যান্ড। তাঁকে ফেরান শের মাল্লা। এরপর অবশ্য জস বাটলার এবং জ্যাকব বেথেল দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের জুটি ভাঙেন নন্দন যাদব। ব্যক্তিগত ২৬ রানে সাজঘরের রাস্তা দেখেন বাটলার। সন্দীপ লাছিমানে ফেরালেন টম ব্যান্টনকে (২)। ৪৩/১ থেকে ইংরেজদের স্কোর তড়িৎ গতিতে হয়ে যায় ৫৭/৩। এরপর হ্যারি ব্রুক অধিনায়কোচিত ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। বেথেল করেন ৫৫। শেষের দিকে উইল জ্যাকসের ১৮ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দেয় ৭ উইকেটে ১৮৪ রানে। নেপালের হয়ে দীপেন্দ্র সিং ২, নন্দন যাদব ২, লাছিমানে ১ এবং শের মাল্লা পান ১টি করে উইকেট।
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দমে যায়নি 'তিতৌলি'রা। শুরু থেকেই ঝড় তোলেন কুশল ভুর্টেল। ওভার পিছু ১০-এর উপর রান তুলছিলেন। যদিও আরেক ওপেনার আসিফ শেখ ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। লিয়াম ডসনের বলে ৯ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। খানিক পর উইল জ্যাকসের শিকার হন কুশলও। ২৯ বছরের এই ক্রিকেটারের সংগ্রহ ১৭ বলে ২৯ রান। এরপরেই নেপালকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন অধিনায়ক রোহিত পৌডেল এবং দীপেন্দ্র সিং আইরি। নামজাদা ইংরেজ বোলাররাও তাঁদের সামনে কল্কে পেলেন না। তাঁরা সবচেয়ে বেশি নির্দয় হলেন আদিল রশিদের উপর। বোঝার উপায় ছিল না ১৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৩৭ বছরের স্পিনারের।
রোহিত-দীপেন্দ্রর ৮২ রানের জুটি ভাঙেন স্যাম কুরান। ২৯ বলে ৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন দীপেন্দ্র। পরের ওভারেই রোহিতকে (৩৯) ফেরান ডসন। তারপরেও লড়াই থেকে সরে যায়নি নেপাল। শেষের দিকে লোকেশ বামের ধারাল ব্যাটের ত্র্যহস্পর্শে পুড়ে ছারখার হওয়ার জোগান হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তিনি করলেন ২০ বলে ৩৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেললেন। তবে সঙ্গহীনতায় ভুগলেন। মনে করিয়ে দেওয়া যাক, এই নেপালই টেস্ট খেলুড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। সেটাই নেপাল ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাফল্য। তাই ভারতের প্রতিবেশী দেশটিকে হালকাভাবে নেওয়ার অর্থ নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। ইংল্যান্ডকে হারাতেই পারত নেপাল। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। কিন্তু কুরানের দুর্ধর্ষ স্পেলের সামনে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করল নেপাল।
