পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে হবু স্বামী কেতন বিশাল আগরওয়ালকে খুনে অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া এবং প্রেমিক চেতন চৌধুরী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে কেতনের! ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পর থেকেই জেরায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিয়া গয়াল ও কেতন আগরওয়ালের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাউত।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অনেকেই অভিযুক্ত সিয়ার মা-বাবাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাড়ির শিক্ষা নিয়েও। এমতাবস্থাতেই পুণের হাড়হিম কাণ্ডে সমাজের সম্মুখে আয়না ধরলেন বিজেপির তারকা সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। অভিনেত্রীর মন্তব্য, "এখনকার দিনে শুধু কোনও পরিবারের পরিবেশ বা মা-বাবাকে দেখে সন্তানদের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা উচিত নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কে তাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করছে? বা তারা কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে? ওদের জীবনে সোশাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই বা কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? এগুলি দেখা উচিত। কঙ্গনার সংযোজন, "বাবা-মাকে দোষারোপ করা যায় না। কারণ মানুষ এখন সমান্তরালে একাধিকভাবে জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত। খুব সতর্কতার সঙ্গে সমাজের কাছে নিজেদের একটি কাঙ্ক্ষিত ভাবমূর্তি গড়ে তোলে। কারণ তাদের কাছে নিজের অনুভূতির চেয়ে সমাজ তাদের কোন চোখে দেখছে? সেটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই সন্তানদের কুকর্মের জন্য পরিবারকে দায়ী করা উচিত নয়।"
পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিয়ার বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার তাঁর প্রেমিকও। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই খুন করলেন সিয়া? স্রেফ কেতনকে পছন্দ নয় কিংবা প্রেমিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার ইচ্ছেতেই এত বড় ষড়যন্ত্র করলেন? এমতাবস্থায় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এটি ছিল কেতন আগরওয়ালকে খুন করার তৃতীয় প্রচেষ্টা। সিয়া গোয়েল এর আগেও দু’বার তাঁর বাগদত্তা কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তাঁকে খাদে ফেলতে ব্যর্থ হন। পুলিশের কাছে সিয়া জানিয়েছেন, ১৪ জুন দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে চেতন বিচলিত হয়ে ওঠেন এবং সিয়ার সামনে কেঁদেও ফেলেন। ধৈর্য হারিয়ে চেতন সিয়াকে বলেন, 'তুমি পারবে না। যা করার আমাকেই করতে হবে।' এরপর ১৮ জুন ঘটে অনর্থ! যে ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ।
