দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিত্যদিন নারী নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসার খবর প্রকাশ্যে আসে। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে এহেন ঘটনা যে দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেকথা বললেও অত্যুক্তি হয় না। সম্প্রতি বিয়ের ছ'মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত দেহ মেলে প্রাক্তন 'মিস পুণে' তিশা শর্মার। এদিকে মঙ্গলবার গায়িকার খুন-অপহরণের ঘটনায় তোলপাড় হয় পাঞ্জাব। প্রায় প্রতিদিন শিরোনামে ঠাঁই পায় নারীদের প্রতি অপরাধের খবর। বিশেষ করে বিবাহিতাদের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে শিউড়ে উঠতে হয়! সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই এবার নারীদের মোক্ষম টিপস দিলেন সাংসদ নায়িকা কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)।
কঙ্গনা নিজে যেমন ডাকাবুকো, নারীদেরও তেমনভাবেই নিজেদের গড়ে তোলার বার্তা দিলেন। কঙ্গনার মন্তব্য, "মহিলাদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি সেটা কোনও সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আমার একটাই কথা,.."
কঙ্গনা বরাবরই পিতৃতন্ত্রে ছক ভাঙার উদাহরণ গড়েছেন। বলিউডের তাবড় খান-কাপুর হোক কিংবা রাজনীতির ময়দানে ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট কথায় কাউকে ধরাশায়ী করতে কোনওকালেই পিছপা হন না তিনি। আগ বাড়িয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে যদিও মাঝেমধ্যে বিরাগভাজন হন, তবে সিনেদুনিয়া থেকে রাজনীতিক ময়দান বরাবর দাপুটে কঙ্গনার 'বচন' নিয়ে তটস্থ থাকে। এবার দেশের অন্দরে বিবাহিত নারীদের উপর বাড়তে থাকা নির্যাতনের হার নিয়ে সরব মাণ্ডির তারকা সাংসদ। মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে কঙ্গনা বলেন, "বিবাহিত তরুণীদের নিয়ে নিত্যদিন কত মর্মান্তিক খবর প্রকাশ্যে আসে। এই শিক্ষিত নারীদের অনেকেই হয়তো বিপর্যয় ঘটার আগে দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে নিজেদের উদ্ধার করার জন্য বাবা-মায়ের কাছে আকুতি জানায়, কিন্তু আমাদের ভারতীয় সমাজ তো বিয়ের পর মেয়েদের 'পরিত্যাগে'র জন্য বরাবর জনপ্রিয়।" এহেন পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করবেন নারীরা? সেই টিপসও দিয়েছেন সাংসদ-অভিনেত্রী।
মহিলাদের মোক্ষম টিপস দিলেন বিজেপির সাংসদ-অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
কঙ্গনা নিজে যেমন ডাকাবুকো, নারীদেরও তেমনভাবেই নিজেদের গড়ে তোলার বার্তা দিলেন। কঙ্গনার মন্তব্য, "মহিলাদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি সেটা কোনও সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আমার একটাই কথা, নিজেদের পেশা বা কেরিয়ারকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিন। আপনাদের জীবনের যে কোনও মানুষ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে, তবে সেটা যেন পেশাকে ছাপিয়ে নিা যায়। পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার পরই বিয়ের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, নিজেদের 'হিরো' বা রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে থেকে কেউ আপনাদের উদ্ধার করতে আসবে না। আর স্বাবলম্বী হওয়াটা আপনার নিজস্ব পরিচয় কিংবা আপনি কাকে বিয়ে করছেন? তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে জীবনে বাঁচতে চান, নিজেদের জন্য ঠিক তেমন জীবনই গড়ে তুলুন। এই ব্যাপারে অন্য কারও কথায় কান দেবেন না।" বিজেপির সাংসদ-অভিনেত্রীর এহেন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই নেটমহলের নারীরা উচ্ছ্বসিত। কেউ কঙ্গনাকে সায় দিয়ে প্রশংসা করেছেন, কেউ বা মনোবল বাড়ার কথা বলছেন।
