১৯ বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি। তার পর বলিউডে দু'দশক কাটিয়ে ফেলেছেন করিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan)। অভিনেত্রী, দুই সন্তানের মা, ভোপালের নবাব পরিবারের 'শেষ বেগম' ঘর-সংসার এবং কাজ দুটোই সমান তালে চালাচ্ছেন। উপরন্তু তেইশ সালে খান-কাপুর, দেওলদের মাঝেও দাপুটে প্রত্যাবর্তনে বলিউডে নতুন করে 'মধ্যমণি' হয়ে উঠেছেন বেবো। তবে করিনার আপসোস একটাই, বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি।
"সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমাকে সিনেমায় অভিনয় করতে হয় সেসময়ে। তাই একাদশ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি জানি, অনেকে হয়তো বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা..."
উনিশ বছর বয়সে ২০২০ সালে 'রিফিউজি' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন কাপুরকন্যা। সিনেমা যখন মুক্তি পায়, তখন বেবোর বয়স কুড়ি। এরপর একের পর এক বলিউড ছবিতে অভিনয়। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়ার যাঁতাকলে পড়াশোনাটাই শেষমেশ ছেড়ে দিতে হয়। স্নাতক হওয়ার এহেন আক্ষেপ কুরে কুরে খায় করিনা কাপুরকে। সম্প্রতি 'দায়রা'র প্রচারে এসে সেই আপসোসের কথাই শোনালেন অভিনেত্রী। করিনা জানান, "আমি আমার পড়াশোনাটাই শেষ করতে পারিনি। আর এই বিষয়টা সবসময়ই আমার মনে খোঁচা দিত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমাকে সিনেমায় অভিনয় করতে হয় সেসময়ে। তাই একাদশ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি জানি, অনেকে হয়তো বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করবেন। কেউ যা খুশি বলতেই পারেন, কিন্তু তখন আমি নিজের মনের কথা শুনে দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম।" তবে বেবো যা করেছেন, সেটা যেন তাঁর দুই সন্তান জেহ-তৈমুর ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না করে, সেদিকেও কড়া রয়েছে সুপারস্টার মায়ের।
স্নাতক না হওয়ার আক্ষেপ আজও কুরে কুরে খায় করিনা কাপুর খানকে!
করিনা বলেন, "পড়াশোনা শেষ না করার বিষয়টা নিয়ে আমার সত্যিই আজও আক্ষেপ রয়েছে। তাই আমি আমার ছেলেদেরও সবসময় বলি, আগে পড়াশোনা শেষ করতে। তারপর নিজেদের ইচ্ছেমতো পথ বেছে নিতে। বিশেষ করে ভারতে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে সহায়তার জন্য ইউনিসেফ যখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন বিষয়টা আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। কারণ নিজে তো পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। সেটাই আমার মনে হত।" উল্লেখ্য, অভিনেত্রী হওয়ার আগে করিনা মুম্বইয়ের জামনাবাই নার্সি স্কুলে এবং পরবর্তীতে দেরাদুনের ওয়েলহাম গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর মুম্বইয়ের মিঠিবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছুদিন বাণিজ্য বিভাগেও পড়াশোনা করেছেন। তবে স্নাতক হওয়ার আগেই পড়াশোনায় যতিচিহ্ন টানেন। অভিনেত্রী না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হয়নি বেবোর।
