'টক্সিক' টিজারে উদ্দাম যৌনতা দেখিয়ে আইনি বিপাকে দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। গোরস্থানের অন্দরে রতিসুখ, যৌনরসে ভরপুর ঝলকের জেরে কন্নড় সংস্কৃতিকে অপমানের অভিযোগ উঠেছে 'কেজিএফ' স্টারের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়! কোনওরকম সতর্কীকরণ ছাড়াই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে খুল্লমখুল্লা 'টক্সিক' চর্চা অব্যহত, তাতে ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে কর্ণাটকের মহিলা কমিশন।
অন্ধকার জগৎ, গ্যাংস্টার গাথা সিনেদুনিয়ার পর্দায় নতুন নয়। তবুও তিন মিনিটের ঝলকে যশ যে 'খেল' দেখিয়েছেন, তাতে বৃহস্পতিবার থেকেই 'টক্সিক' নিয়ে উন্মাদনার পারদ চড়েছে। 'লার্জার দ্যন লাইফ' ঝলকে বোমাবাজি, গোলাগুলি, বারুদের গন্ধে ম-ম করা গোরস্থানের মাঝে উদ্দাম যৌনতায় মাততে দেখা গিয়েছে যশকে। আর তাতেই শোরগোল সিনেদুনিয়ায়। 'টক্সিক' টিজারের সুবাদে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনই নিন্দা-সমালোচনা, বিতর্ক সঙ্গী হয়েছে দক্ষিণী সুপারস্টারের। এবার যশের সিনেমার পয়লা ঝলক নিয়ে আপত্তি তুলল কর্ণাটকের আম আদমি পার্টির (আপ) মহিলা শাখা। খবর, সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ঝলক তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে সোমবার সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মহিলা কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে।
জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি এই ঝলক মুক্তি পাওয়ার পরই বিতর্কের সূত্রপাত। কর্ণাটকের আপ পার্টির মহিলা শাখার দাবি, কোনওরকম সতর্কীকরণ ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্ক এহেন কন্টেন্ট সোশাল মিডিয়ায় বহাল তবিয়তে ভাইরাল হচ্ছে। আর সেগুলি গপগপিয়ে গিলছে যুবসমাজ! "এহেন অশ্লীল দৃশ্যে শিশুমনে যেমন প্রভাব পড়ছে, তেমনই নারীদের সামাজিক অবস্থান ক্ষুন্ন হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে", বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আপ-এর কর্ণাটক রাজ্য সম্পাদক ঊষা মোহন। সেপ্রসঙ্গ টেনেই মহিলা কমিশনকে জমা দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ, "অবিলম্বে রাজ্য সরকার এবং সেন্সর বোর্ডের হস্তক্ষেপে 'টক্সিক'-এর টিজারটি নিষিদ্ধ করা হোক এবং সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হোক। রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে অবিলম্বে পদক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি।"
অন্যদিকে 'টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস'-এর টিজারকে 'অশ্লীল' আখ্যা দিয়ে কন্নড় সমাজকর্মী দীনেশ কাল্লাহাল্লিও সেন্সর বোর্ডের হস্তক্ষেপের দাবিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, "নেটভুবনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত টিজারটি শালীনতা ও নৈতিকতা লঙ্ঘন করছে। এই ধরনের বিষয়বস্তু ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত নয় এবং ১৯(২) অনুচ্ছেদের অধীনে অনুমোদিত সীমার আওতাহীন নয়। যা কন্নড় সংস্কৃতির অপমান।" পাশাপাশি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই সমাজকর্মী। ২০২৬ সালের আগামী ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে এই অন্ধকার রূপকথা। তার প্রাক্কালেই 'টক্সিক' টিজারে আগুন জ্বলছে দক্ষিণী সিনেপাড়ায়!
