দক্ষিণী ছবির শুটিং করতে গিয়ে পরিবারের অমতে মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মোনালিসা ভোঁসলে। মহাকুম্ভের 'ভাইরাল গার্লে'র বিয়ের পর থেকেই লাভ জেহাদের প্রশ্ন উঠেছিল। এমন অভিযোগও ওঠে যে, জন্মের ‘ভুয়ো’ শংসাপত্র দেখিয়ে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে করেছেন নাবালিকা মোনালিসা! যার জেরে সম্প্রতি স্বামী ফরমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়। এবার 'নাবালিকা' স্ত্রীকে নিয়ে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ফরমান।
আদৌ ফরমানের এই কতটা সত্যি? তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জানা গেল, প্রয়োজনে মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হবে।
বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, বয়ান রেকর্ড করার জন্য পুলিশের কাছে হাজির হওয়ার কথা ছিল মোনালিসা ভোঁসলের। কিন্তু স্বামী ফরমান পুলিশকে জানায়, মোনালিসা এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাই বাড়ি থেকে বেরতো পারবেন না কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজিরা দিতে যেতে পারবেন না। আদৌ ফরমানের এই কতটা সত্যি? তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জানা গেল, প্রয়োজনে মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হবে। একদিকে 'নাবালিকা'কে বিয়ে করায় পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে মোনালিসার স্বামীর বিরুদ্ধে। এবার ফরমান খানের এহেন দাবি সত্যি প্রমাণিত হলে তিনি যে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়তে চলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
ফেসবুকে আলাপ থেকে ঘর বাঁধা। সম্পর্কের পথে বারবার প্রাচীর গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে ধর্মের বেড়াজাল। হাতে হাত ধরে তা পার করেছেন মোনালিসা ও তাঁর স্বামী ফরমান খান। ‘লাভ জেহাদ’ বিতর্কের জবাব দিয়েছেন মডেল-অভিনেতা ফরমান। তিনি বলেছেন, “নানা সংবাদমাধ্যমে লাভ জেহাদ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এসব নয়। সব ধর্ম সমান। মোনালিসা তাঁর নিজের ধর্ম পালন করবেন। আমি আমার ধর্ম। আমরা প্রত্যেক ধর্মকে সম্মান করি। আমি মন্দিরে যাই, আবার মসজিদেও যাই। আমি পুজোও করি। সবকিছু করি।”
স্বামী ফরমান খানের সঙ্গে মহাকুম্ভের মোনালিসা।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ আনেন, বিয়ের সময় মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। জাতীয় জনজাতি কমিশন এই ঘটনার তদন্ত করে। তাদের রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁর বয়স ১৬। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মোনালিসার বিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে।
অন্যদিকে মোনালিসার অভিযোগ, তুতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল পরিবার। সেই বিয়ে এড়িয়ে ফরমান খানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পালটা পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ আনেন, বিয়ের সময় মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। জাতীয় জনজাতি কমিশন এই ঘটনার তদন্ত করে। তাদের রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁর বয়স ১৬। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মোনালিসার বিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ‘আজতক ডট ইন’-এর প্রতিবেদনে জাতীয় জনজাতি কমিশনের তদন্তে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে মোনালিসার জন্মের রেকর্ড সংগ্রহ করে। সেই রেকর্ড অনুযায়ী মোনালিসার জন্ম হয়েছিল ২০০৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর। মোনালিসা বিয়ে করেন ২০২৬ সালের ১১ মার্চ। অর্থাৎ, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাস ১২ দিন। এসবের মাঝেই এবার পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর দাবি স্বামী ফরমান খানের।
উল্লেখ্য, কেরলে বিয়ে করেন মোনালিসা। আধার কার্ডে উল্লিখিত বয়স অনুযায়ী বিয়ে করানো হয়। কেরলের পুওর গ্রামপঞ্চায়েতে এই বিয়ে নথিভুক্ত করা হয়। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জন্ম শংসাপত্র ভুল তারিখ বসানো হয়েছিল। এই শংসাপত্র জারি করেছিল মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর পুরসভা। সেখানে মোনালিসার জন্মের শংসাপত্রে তারিখ লেখা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মধ্যপ্রদেশের খারগোনে জেলার মহেশ্বর থানায় ফরমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে বিতর্ক ছেড়ে যাচ্ছে না মহাকুম্ভের ‘ভাইরাল গার্ল’-কে।
