নিরঞ্জন মণ্ডল থেকে 'লাফটারসেন' হলেন কীভাবে?
নিরঞ্জন থেকে 'লাফটারসেন' (Laughtersane Niranjan Mondal) হয়ে ওঠার জার্নিটা খুবই সাধারণ ছিল, অনেস্টলি বলছি। আমার মাওয় এরকম কিছু ছিলই না। আজকে যেখানে পৌঁছেছি সেরকম কিছু অ্যাচিভ করব ভাবিনি। যা আমার কাছে এসেছে সবই ঈশ্বরের কৃপায় আর মানুষের ভালোবাসায়। শুরু করেছিলাম আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। এতগুলো বছর ধরে মানুষ যে পরিমাণ ভালোবাসা, সম্মান দিয়েছে সেটাই লাফটারসেনকে তৈরি করেছে। আপনার হাসি মানুষের মন ভালো করে দেয়। আমার তো খুবই ভালো লাগে যে আমার হাসি মানুষের মন ভালো করে দিচ্ছে। এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না। তার চেয়েও বড় প্রতিনিয়ত আমার যেটা ভালো লাগে, এত মানুষ আমাকে নিজের বাড়ির ছেলে বানিয়ে নিয়েছে।
জীবনের সাধারণ বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে আপনি জনপ্রিয়তার শিখরে। পড়াশোনা-চাকরির বদলে এমন কেরিয়ার বেছে নেওয়ায় মা-বাবা আপত্তি করেননি?
প্রথমে মা-বাবা, বিশেষ করে বাবা খুব আপত্তি করত। তবে আমার এই নিয়ে অভিযোগ নেই। সব মা-বাবাই তাদের সন্তানের আর্থিক নিরাপত্তা চায়। তাদের কেরিয়ার ঠিকঠাক হয়, এমনটাই চায়। সেখান থেকেই আপত্তি থাকে। এখনকার প্রজন্ম কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ব্যাপারটা বুঝেছে, আগে তো বুঝত না। আমার মা চাইত যে চাটার্ড করি, বাবা চাইত না যে ভিডিও বানাই। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তারা বুঝতে পারে যে এটা একটা পেশা হতে পারে। তারা আমার থেকে চার্টার্ড হিসেবে যে অ্যামাউন্টটা আশা করত, প্রায় সেই লেভেলের বা তার থেকেও বেশি আমি মাসে উপার্জন করছি। সবাইকে খুশি রাখতে পারছি, নিজের অনেক দায়িত্ব নিতে পারছি। মা-বাবার দায়িত্ব নিতে পারছি। এখন মা-বাবা বুঝে গেছে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আপত্তি ছিল।
কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রেড কার্পেটে হাঁটা নিশ্চয়ই ঐতিহাসিক, একটি ব্র্যান্ডের জন্য হলেও। একই সঙ্গে টাকা খরচ করতে পারলে কান-এ যাওয়া যায়- এই বিষয়টা কীভাবে সামলেছেন?
আমি জানি, কিছু সংখ্যক মানুষ এইরকম আক্রমণ করেছেন। তাতে আমার কোনও ক্ষোভ নেই। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, তাঁরা সিনেমাকে ভালোবাসেন বলেই এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন। আমার কথা হচ্ছে, আমিও সিনেমা ভালোবাসি। একটা ইনফরমেশন দিতে চাই মানুষের জন্য, অনেকেই হয়তো জানেন না যে পদ্ধতিটা কী। এত জায়গায় আমার নাম গিয়েছে, এত মানুষজন আমাকে নিয়ে কথা বলেছেন, আমি কিন্তু একবারও কোথাও বলিনি যে, কান-এ আমি ছিলাম ফিল্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ব বলে বা ফিল্ম মেকার বলে। কান উৎসবে আমি ছিলাম অ্যাজ আ কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তারপর দর্শক হিসাবে। আমি অভিনয় জগতে পা রেখেছি আগের বছর। সেটা আছে কিন্তু তার চেয়েও আগে আমি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। একজন সিনেমাপ্রেমী দর্শক হিসাবে গিয়েছি, যে ছবি দেখতে গিয়েছে। আমরা অনেক ভালো ভালো সিনেমা দেখেছি। 'কর্মা' যেটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। 'দ্য বিলাভেড' দেখেছি, স্প্যানিশ ছবি বাবা-মেয়ের গল্প নিয়ে। এগুলো আমি প্রত্যেকটা মানুষকে বোঝাতে পারব না। আমি ওখানে গিয়েছি সিনেমার সেলিব্রেশন দেখতে। অত বড় আকারে ওখানে সিনেমা উদযাপন হয়, এমন আন্তর্জাতিক লেভেলের উৎসব, সেই অভিজ্ঞতা নিতে ওখানে গিয়েছি। এই তথ্যটা মানুষের কাছে পরিষ্কার যাওয়া দরকার। নিশ্চয়ই মানুষ যখন আমার কাছে এই পয়েন্টটা রেখেছে, আমি এটা খুবই পজিটিভ দিক হিসাবে নিয়ে আমার বাকেটলিস্টে একটা নতুন জিনিস যোগ করেছি। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী, যদি আবার কখনও যাই, যখন রেড কার্পেটে হাঁটব আই উইল মেক শিওর অ্যাজ আ হয়, এটাও অনেক বড় কিন্তু। কোনওদিন ভাবিনি এত বড় একটা ব্র্যান্ডকে ফিল্মমেকার ওখানে পা রাখব।
সংবাদপত্রে, হোর্ডিং-এ গয়নার বিজ্ঞাপনে আপনি। কতটা আশ্চর্য লাগে?
আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে যে তাঁরা আমাকে নির্বাচন করেছেন। তাঁরা আমার উপর এতটা দায়িত্ব দিয়েছেন, আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমি খুব খুশি। আমার সঙ্গে সঙ্গে আমার যাঁরা দর্শক, তাঁরাও খুব খুশি। যে দিন থেকে এটা ঘোষণা হয়েছে তখন থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার স্টোরি আসছে আমার কাছে। সবটা চেক করতে পারি না। তবে লোকজন ক্রমাগত ব্যানারের ছবি তুলে আমাকে পোস্ট করছে, ট্যাগ করছে। এই যে সেলিব্রেশনটা হচ্ছে আমি হোর্ডিংয়ে আছি বলে তাঁরা খুশি। এটা বড় প্রাপ্তি।
নতুন অভিনয়ের কাজ আসছে?
হ্যা, 'বীরাঙ্গনা' ওয়েব সিরিজের পরেও কথা হয়েছে। কিন্তু আমার দিকের ত্রুটি থেকেও কিছু জিনিস চূড়ান্ত হয়নি। আবার অপর পক্ষ থেকেও কিছু কারণে হয়নি। অডিশন দেওয়ার পদ্ধতিটা আমার ভালো লাগে। অনেক ক্ষেত্রে আমি অডিশনেও আটকে গিয়েছি। আমি খুশি যে আমি এটা করেছি। ফলোয়ার্স দেখে কাস্ট করার ব্যাপারটার বিরুদ্ধে আমি। আমি বিশ্বাস করি, ওখানেই প্রকৃত শিল্পীরা বাধা পেয়ে যান। আসল শিল্পীদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা পড়ে যায়, যাঁরা কাজটা মনপ্রাণ দিয়ে করার চেষ্টা করেন। যাইহোক অনেক কিছুর জন্য অনেক জিনিসপত্র হয়ে ওঠেনি। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী, তাড়াতাড়ি হয়তো নতুন কিছু আসতে চলেছে।
