ফেসবুকে আলাপ থেকে ঘর বাঁধা। সম্পর্কের পথে বারবার প্রাচীর গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে ধর্মের বেড়াজাল। সেসব বাঁধা অবশ্য হাতে হাত ধরে পার করেছেন মোনালিসা (Monalisa Bhosle) ও তাঁর স্বামী ফরমান খান। 'লাভ জেহাদ' বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ইস্যুতে মুখ খুললেন মডেল-অভিনেতা ফরমান।
তিনি বলেন, "নানা সংবাদমাধ্যমে লাভ জেহাদ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এসব নয়। সব ধর্ম সমান। মোনালিসা তাঁর নিজের ধর্ম পালন করবেন। আমি আমার ধর্ম। আমরা প্রত্যেক ধর্মকে সম্মান করি। আমি মন্দিরে যাই, আবার মসজিদেও যাই। আমি পুজোও করি। সবকিছু করি।" ফরমান আরও বলেন, "আমাদের কাছে সবাই সমান। আমি ও মোনালিসা দু'জনেই শিল্পী। আমরা মানুষ। কেরলমে ধর্মের বিভেদ নেই। সবাই মানুষকে মানুষ ভাবে। এই কারণে কেরলম হল সেরা।" এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন মোনালিসাও। তবে তিনি এদিন একটি কথাও বলেননি। ফরমানের পাশে একেবারে লাজে রাঙা নববধূর মতো বসেছিলেন।
উল্লেখ্য, মহাকুম্ভই ঘুরিয়ে দিয়েছিল ভাগ্যের চাকা। প্রয়াগরাজে পা রেখে রাতারাতি সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন পাথরের মালা বিক্রেতা মোনালিসা ভোঁসলে। খারগাঁওয়ের ষোড়শী বিড়ালাক্ষী মালাপসারিণী মোনালিসা গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে ডাকও পেয়েছিলেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝে মোনালিসার সঙ্গে বছর দেড়েক আগে ফেসবুকে আলাপ ফরমানের। প্রথম প্রথম সোশাল মিডিয়ায় শুধু কথা হত তাঁদের। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীরতা পায়। ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয় দু'জনের। পরে তা প্রেমের সম্পর্কের রূপ নেয়। ফরমান জানান, মোনালিসাই তাঁকে প্রেম প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব পাওয়ার পর মন সাড়া দিয়েছিল। তবে জুটি বাঁধার আগে বুক দুরুদুরু করেছিল ফরমানের। বেশ কয়েকদিন পর মন দেওয়া নেওয়া। ধীরে ধীরে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন দু'জনে। সম্পর্কের কথা পরিবারের কাছে জানিয়েছিলেন দু'জনেই। তবে প্রেমের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম। মোনালিসার বাবা কিছুতেই সম্পর্কে মানতে চাননি। তাতেও অবশ্য নাছোড়বান্দা ছিলেন মোনালিসা। অন্যের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। শেষমেশ বহু ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে মুসলিম প্রেমিক ফরমানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন মোনালিসা।
