৩ দিনের দিল্লি সফর সেরে কলকাতায় ফিরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কিন্তু দেখা গেল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে (Abhishek Banerjee)। শোনা যাচ্ছে, কলকাতা ফেরার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়েও ফিরে গিয়েছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নির্বাচনের আগে নানারকম হুমকি দিলেও এবার ভয়ে কাঁটা খোদ 'সেনাপতি'। সই জাল কাণ্ডে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তারি এড়াতেই আরও একটা রাত রাজধানীতে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ভুরি ভুরি। ফলে দীর্ঘদিন ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিনি। তবে তৃণমূলের এই ভাঙনের মরশুমে তাঁর অস্বস্তি বাড়িয়েছে সই জাল কাণ্ড। পরপর তিনবার সিআইডি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় তৃতীয় সমনের ডেডলাইন ছিল। তা সত্ত্বেও গত শনিবার দিল্লিতে উড়ে যান অভিষেক। কারণ, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দিল্লিতে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়েও দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনাও হয় বলেই খবর। আর এই দিল্লিতে থাকাকে হাতিয়ার করে তৃতীয়বার সিআইডি হাজিরা এড়িয়ে যান অভিষেক। এরপরই তদন্তকারী সংস্থার তরফে যোগাযোগ করা হয় দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। খোঁজ নেওয়া হয় তাঁর গতিবিধির। ফলে কলকাতায় নামলেই তাঁর গ্রেপ্তারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে বুধবার অভিষেকের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। যদিও জরুরি শুনানির আরজি খারিজ হয়েছে। তবে আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। শোনা যাচ্ছে, সেই কারণেই আজও কলকাতা ফিরলেন না তিনি। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই কলকাতা ফেরার কথা ছিল অভিষেকের। দিল্লি বিমানবন্দরেও পৌঁছেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে সিদ্ধান্ত বদল করেন। একাই কলকাতা ফেরেন মমতা। মনে করা হচ্ছে, আগামিকাল হাই কোর্টে রক্ষাকবচ দিলে তারপরই কলকাতা ফিরবেন 'যুবরাজ'। এখানে প্রশ্ন হল, যদি হাই কোর্টে রক্ষাকবচ না দেয়? সেক্ষেত্রে অভিষেকের পদক্ষেপ কী হবে, তা সময় বলবে।
কী এই সই জাল কাণ্ড? সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।
