৯ মে বঙ্গে নতুন সরকার গড়েছে বিজেপি। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমন দিনেই বিজেপি বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের আদলে রাজ্যের অন্যান্য বিরোধীদের জোট বাঁধার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজের বাড়ির সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের সময় তাঁর আহ্বান, বাম, অতিবামেরাও এই লড়াইয়ে শামিল হয়ে তৈরি করুক যৌথ মঞ্চ। তবে সিপিএম পত্রপাঠ মমতার এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। লিখিত বিবৃতি দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘না। একদম না।’ টলিউডের বামমনস্ক সেলেবদের এ বিষয়ে কী মত? খোঁজ নিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তো একেবারে ফুঁসে উঠেছেন। তৃণমূলের সাহস দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গিয়েছেন। ফোনের ওপারে রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন, "কোন সাহসে এই জোটের ডাক দিলেন? কথায় আছে না, অতি বার বেরো না ঝড়ে উড়ে যাবে। সেই অবস্থাই তো হয়েছে। এমন সব কাণ্ডকারখানা করছেন যে নিজেই সকলের কাছে হাসির খোরাক হচ্ছেন। সিনেমার যে সকল স্টারদের উপর ভরসা করেছিলেন, তাঁরা তো এক মুহূর্তে পালটি খেলো। এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বাম-অতিবামকে পাশে চাইছেন। এটা কোনওদিন সম্ভব নয়। কারণ বামেরা বিক্রি হয় না। বাম একাই একশো। শূন্য থেকে এক হয়েছে, আগামীতে একশোও হবে। অনেক মানুষকে তো মেরেছে, বাম সেগুলো এত সহজে ভুলে যাবে!"
ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান অভিনেত্রী-পরিচালক মানসী সিনহাও মমতার এহেন আহ্বানে হতভম্ব! হেঁয়ালি করে বলেছেন, "ওঁর মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। আসলে এই বয়সে এইরকম ধাক্কাটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। একজন মানুষ হিসেবে আমি ওঁর সুস্থতা কামনা করি। চেয়ারের লোভটা এখনও ছাড়তে পারছেন না। তাই মানসিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিবার-পরিজন দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে তুলুক। এতগুলো বছর এইরকম একটা সরকারের অধীনে থেকেছি সেটা ভাবতেই আমাদের লজ্জা হয়। আর আমাদের কিনা জোট গঠনের ডাক দিয়েছে!"
বামমনস্ক বর্ষীয়ান অভিনেতা চন্দন সেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইন্ডিয়া জোটের কথা উসকে বলেন, "অনেক আগেই ইন্ডিয়া জোট নিজেই ভেঙে দিয়েছিলেন। জগদীপ ধনকড়ের ডাকেও তখন সাড়া দেননি। আর এখন নিজের ক্ষমতা ফিরে পেতে বাম-অতিবামকে জোট বাঁধার আহ্বান! নিজের স্বার্থে এই জোটের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু, বাম কখনও আদর্শ ভঙ্গ করে না। সেই উত্তর পেয়েও গিয়েছেন।" অতএব বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে বামেদের পাশে পাবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
চন্দনের ফোঁস!
