'নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ও পারেতে সর্বসুখ আমার...', গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য, ঘনঘন বিদেশ ভ্রমণ, হাই প্রোফাইল লাইফস্টাইল দেখে সাধারণ মানুষের মনে যে সুপ্ত বাসনা জাগে না এমনটা কিন্তু নয়। কিন্তু, সেই গ্ল্যামারাস দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অজানা কঠিন সত্য। বঙ্গললনা মৌনী রায়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রবাদ যেন একেবারে যথোপযুক্ত। দুবাই নিবাসী ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল মৌনীর সাজানো সংসার। ইন্ডাস্ট্রির 'পাওয়ার কাপল' হিসাবে পরিচিত বহু দম্পতির বিচ্ছেদ ঘোষণায় স্তম্ভিত হয়েছে সিনেদুনিয়া থেকে অনুরাগীরা। মৌনী-সূরজও তার ব্যতিক্রম নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে ইতি টানার ঘোষণা হতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল সূরজের একটি পুরনো ভিডিও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মৌনীর সঙ্গে বিয়েটা ছিল সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ!
২০১৯ সালে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে দুবাইয়ে প্রথম দেখা। ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, পরস্পরের আরও কাছাকাছি আসেন। প্রায় তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে রূপকথার বিয়ে সারেন। কিন্তু, জানেন সূরজের এই বিয়েতে মোটেই প্রশ্রয় ছিল না, মৌনীর জন্যই একপ্রকার বাধ্য হয়ে বরবেশে ছাদনাতলায় পৌঁছেছিলেন। সূরজের সঙ্গে ডেট করার সময়ই মৌনী একটি বিষয় স্পষ্ট করেছিলেন, তিনি বিয়ে করে সংসার পাততে আগ্রহী। এদিকে সূরজ ছিলেন বিয়ের ঘোর বিরোধী। 'প্রেমিক'-এর মন ঘোরাতে মৌনীর শর্ত, যদি বিয়ে না করেন তাহলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবেন।
দাম্পত্যে ইতি
'প্রিয়তমা'র ব্রহ্মাস্ত্রে একেবারে কুপোকাত সূরজ। মৌনীর প্রেমে তখন হাবুডুবু। সঙ্গীকে হারানোর ভয়ে মৌনীর শর্তে রাজি হয়ে যান সূরজ। সেই শর্তসাপেক্ষ বিয়েই কী কাল হল? সাম্প্রতিক অতীতে এক সাক্ষাৎকারে সূরজ বলেছিলেন, "আমি শুধু একটু সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু, ও আমাকে শর্ত দেয় বিয়ে না করলে পথ আলাদা হয়ে যাবে। তখন আমার কাছে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। বিয়ে না করলে ওকে হারিয়ে ফেলতাম। তখন উপলব্ধি করি আমাদের বিয়েটা সত্যিই করা উচিত। কারণ আমি জানতাম ওঁর সঙ্গে থাকলে আমার জীবনে আরও উন্নতি হবে।"
মৌনীর জন্যই মুম্বইয়ে এসে থাকার বিষয়ে বলেছিলেন, "মুম্বইয়ে এসে থাকার বিষয়টি নিয়ে আমার অনেক দ্বিধা ছিল। ভেবেছিলাম আমার জন্য এটা খুব কঠিন হবে, কিন্তু দেখলাম মৌনী আমাকে স্বচ্ছন্দ বোধ করানোর জন্য কোনও ত্রুটি রাখছে না। এখন ওঁর বন্ধুরাই আমার বন্ধু। আমরা একসঙ্গে ঘুরতে যাই। এটা আমাদের দুজনেরই একসঙ্গে বেড়ে ওঠার এক সুন্দর জার্নি।"
বিচ্ছেদ জল্পনায় সিলমোহর দিলেন মৌনী
সেই সাক্ষাৎকারে মৌনীও বলেছিলেন, "আমরা দুজনেই অনেকটা পরিণত হয়েছি। আজ আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি যেখানে আমরা কোনও অভিযোগ ছাড়াই একসঙ্গে থাকতে পারি। নিজেদের মতো করে সুখ খুঁজে নিতে পারি। দুজনেই নিজেদের পেশাগত জীবনে খুব ব্যস্ত। তাই আমরা যখনই পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাই সেটা পুরোপুরি উপভোগ করার চেষ্টা করি।" কিন্তু, সেসব এখন অতীত, সব আবেগ-ভালোবাসার ঊর্ধ্বে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন মৌনী রায় ও সূরজ নাম্বিয়ার।
