বাংলায় পালাবদলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নিদর্শন নতুন নয়। তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও দলবদল করে সায়নী ঘোষ বর্তমানে এনসিপিআই সাংসদ। গত জুন মাসেই 'বিদ্রোহী' শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী। এরপর জল গড়িয়েছে বহুদূর। সম্প্রতি যাদবপুরের এনসিপিআই সাংসদের তৃণমূল কার্যালয় ব্যবহারে আপত্তি তুলে তালা ঝুলিয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মীরা! তারপর থেকেই লাইমলাইটের অন্তরালে সায়নী ঘোষ। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে আচমকাই নিজের সোশাল মিডিয়ায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে ফের চর্চার শিরোনামে নাম লেখালেন সায়নী।
থলপতি বিজয়ের সঙ্গে এহেন আচম্বিত সাক্ষাতের মুহূর্ত শেয়ার করে ফের নেটভুবনে কৌতূহলের পারদ চড়িয়েছেন সায়নী ঘোষ। স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ?
সুদূর তামিলভূমে গিয়ে আচমকাই কেন সেখানকার 'সুপারস্টার' মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন 'বিদ্রোহী' সাংসদ? নেপথ্যে কি কোনও নতুন সমীকরণ? কৌতূহল অমূলক নয়। মঙ্গলবার থলপতি বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের একাধিক ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন সায়নী। যেখানে কখনও উত্তরীয় পরিয়ে বিজয়কে সংবর্ধনা দিচ্ছেন তিনি তো কখনও বা করজোড়ে কুশল-মঙ্গল বিনিময় করতে দেখা গেল সায়নী-বিজয়কে। একফ্রেমে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাসিমুখে নিজস্বী তুলতেও দেখা গেল বাংলার সাংসদ-অভিনেত্রীকে। আর থলপতি বিজয়ের সঙ্গে এহেন আচম্বিত সাক্ষাতের মুহূর্ত শেয়ার করে ফের নেটভুবনে কৌতূহলের পারদ চড়িয়েছেন সায়নী ঘোষ। স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ?
'তামিলনাড়ুর অভাবনীয় উন্নয়ন, নতুন সুযোগবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন...।'
মুখ্যমন্ত্রী থলপতির কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেও কলম ধরেছেন এনসিপিআই সাংসদ। সায়নী লিখেছেন, 'তামিলনাড়ুর মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী থিরু সি. জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে দেখা করে অত্যন্ত ভালো লাগল। তামিলনাড়ুর অভাবনীয় উন্নয়ন, নতুন সুযোগবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন।' পাশাপাশি থলপতি বিজয়ের আতিথেয়তায় মুগ্ধতা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন সায়নী ঘোষ। ওই পোস্টেই থলপতি বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে সায়নী ঘোষের সংযোজন, 'তামিলনাড়ুর উন্নয়নের জন্য উনি যে দৃষ্টিভঙ্গি বা লক্ষ্য তিনি স্থির করেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমার শুভকামনা রইল।' এহেন ফ্রেমবন্দি মুহূর্ত দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলার নেত্রী-অভিনেত্রী কি বর্তমানে দক্ষিণমুখো? নাকি সিনেমার কাজের জন্যেই তামিলভূমে সায়নী? উত্তর যদিও অধরা তবে এহেন সাক্ষাৎ সৌজন্যমূলক বলেই মনে করছেন একাংশ।
