২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর, দক্ষিণী রীতিতে রূপকথার বিয়ে সেরেছিলেন নাগা চৈতন্য (Naga Chaitanya) ও সমান্থা রুথ প্রভু। মাত্র চার বছরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় প্রাক্তন তারকা দম্পতির সংসার। ২০২১-এর ২ অক্টোবর যৌথ বিবৃতি দিয়ে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন চে-স্যাম। সামান্থার সঙ্গে পথ আলাদা হতেই বর্তমান স্ত্রী শোভিতা ধূলিপালার সঙ্গে একাধিক মুহূর্ত ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। আর ঠিক সেই কারণেই বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ্যে আসতেই নেটভুবনের নিশানায় নাগা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে প্রতারণার অভিযোগ। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিকার অভিনেতা, যার ফলে আইনি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন দক্ষিণী অভিনেতা নাগা চৈতন্য়।
অভিযোগ, এমন কিছু অনলাইন কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। শুধু তাই নয় প্রাক্তন স্ত্রীর কেরিয়ারও নষ্ট করেছেন নাগা। এছাড়াও নিজের নাম, ছবি এবং ব্যক্তিগত পরিচয় অনলাইনে অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিনেতা। নাগার আইনজীবী বৈভব গগ্গর আদালতে দাবি করেছেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনেতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর ইমেজ নষ্ট করা হচ্ছে। আপত্তিকর কনটেন্ট এবং বিকৃত তথ্য বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের ফলে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
নাজেহাল নাগা
মামলার শুনানির দায়িত্বে বিচারপতি জ্যোতি সিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজমাধ্যমের বাড়বাড়ন্তের যুগে বিভিন্ন সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তারকাদের। নাগা চৈতন্যও যে সেরকমই এক পরিস্থিতির শিকার তা বললে অত্যুক্তি হবে না। অভিনেতার আইনজীবী বৈভব আদালতে জানান, বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট চৈতন্যের নামকে অশালীন ও আপত্তিকর 'সার্চ টার্ম'-এর সঙ্গে যুক্ত করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। 'এআই' নির্ভর ও বিকৃত কনটেন্ট এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানহানিকর তথ্যও ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
সামান্থাকে প্রতারণার অভিযোগ!
পর্নোগ্রাফির কনটেন্টে নাগার ছবি ব্যবহারে আদালত চত্বরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনজীবী। সেই সঙ্গে সামান্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ নস্যাৎ করে বৈভবের দাবি, 'এটা ট্রোলের অংশমাত্র, কোনও ন্যায্য সমালোচনা নয়।' এআই টুল, ডিপফেক প্রযুক্তির জমানায় ভয়েস-ক্লোনিং সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়ো অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি আইনজীবীর। নাগাকে নিয়ে তৈরি কিছু মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওর ক্লিপিং আদালতে উত্থাপন করা হয়। যদিও ইতিমধ্যেই কিছু লিঙ্ক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
