৩ মার্চ, শুক্রবার একাত্তরে পা রাখলেন নন্দিতা রায়। বিগত তিন দশকে ইন্ডাস্ট্রিকে বহু ভিন্নস্বাদের সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে জন্মদিন (Nandita Roy Birthday) উপলক্ষে শুধু কাজ নয়, 'মানুষ' নন্দিতা রায়কে চেনালেন অনুজরা। কারও কাছে তিনি 'বস' কিংবা 'ডিরেক্টর', আবার কারও কাছে 'নন্দিতাদি' মানেই ভালোবাসা, ভরসার উষ্ণ আশ্রয়। যিনি সস্নেহে পরম মমতায় সকলকে বেঁধে রাখেন কাজে কাজে।
"জীবনে সবাইকে ভরসা করা যায় না। কিন্তু নন্দিতাদি আমার কাছে অনেক বড় ভরসার জায়গা। সকালে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছি, কিন্তু উপহারটা সারপ্রাইজই রেখেছিলাম।"
নন্দিতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা কৌশানী। ছবি- সংগৃহীত
যেমন কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের কাছে নন্দিতা রায় মানেই 'গড মম'। কেন? স্মিত হেসে অভিনেত্রী জানালেন, "আমি বরাবর নন্দিতাদিকে ভালোবাসে গড মম বলে ডাকি। কারণ সেটে আমাদের মা-মেয়ের মতোই সম্পর্ক। আমার তো মা নেই। নন্দিতাদির কাছে মায়ের মতোই ভালোবাসা, উষ্ণতা খুঁজে পেয়েছি। সেইজন্যেই এই নামে ডাকা ওঁকে। নন্দিতাদির মতো মানুষ জীবনে থাকা আশীর্বাদের মতো। আমার মাথায় দিদির হাত থাকলে কেরিয়ারে আরও অনেক ভালো চরিত্র উপহার দিতে পারব দর্শককে। কারণ জীবনে সবাইকে ভরসা করা যায় না। কিন্তু নন্দিতাদি আমার কাছে অনেক বড় ভরসার জায়গা।" ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও মাতৃসম দিদিকে উপহার পাঠাতে কিন্তু ভোলেনি 'ঝিমলি'। নন্দিতার জন্য সযত্নে 'কাস্টমমেড গিফ্ট' তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। কথাপ্রসঙ্গেই কৌশানী বললেন, "সকালে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছি, কিন্তু উপহারটা সারপ্রাইজই রেখেছিলাম। ওতে বার্থডে কেক, ফুল, সুগন্ধি মোম, কফি আর সঙ্গে অনেকটা ভালোবাসা পাঠিয়েছি।" অভিনেত্রীর সংযোজন, "নন্দিতাদিকে যতটা ভালোবাসি, ততটাই শ্রদ্ধা করি। প্রথম যখন উইন্ডোজের সঙ্গে কাজ করি, তখন নন্দিতাদি আর শিবুদার উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করেছিলাম। ঝিমলির জন্য আমি যেরকম ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকের কাছে, সেটার জন্য আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ।"
"আমি অভিনয়ের ব্যাপারে একটু খুঁতখুঁতে। সবসময় মনে মনে পাওয়া চরিত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করে থাকি। কেবলই মনে হয়, এইরকম করলে ভালো হত, ইস, এই দিকটি কেন ভেবে দেখলাম না, এই সব আর কী! কিন্তু তুমি যেভাবে 'মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী'কে তুলে আমার সামনে পেশ করলে তাতে আমার অর্ধেক হোম ওয়ার্ক কমপ্লিট!"
নন্দিতা-শিবপ্রসাদ। ফাইল ছবি
'ভাই' শিবপ্রসাদও 'দিদি'র জন্মদিনে কলম ধরেছেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শিবপ্রসাদের পোস্ট, "আমি ধন্য আপনি আমাকে আপনার সহকর্মী ও সহযোদ্ধা হিসেবে নির্বাচন করেছেন। অনেকের মতো আমিও আপনার কাজের এক গুণমুগ্ধ ভক্ত। আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর আরও সুন্দর কাজ আমাদের উপহার দিন। আমার ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা জানালাম। সারাজীবন আপনার শাসনে বড় হতে চাই। আপনার মত বস এবং ডিরেক্টর পেয়ে আমি গর্বিত।" নন্দিতা রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে দীর্ঘ পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অর্জুন চক্রবর্তীও। উইন্ডোজ-এর ফুল পিসি ও অ্যাডওয়ার্ড সিনেমায় সদ্য কাজ করেছেন তিনি। নন্দিতা রায়ের উদ্দেশে অর্জুনের মন্তব্য, "তোমায় অনেক জায়গায় দেখেছি, পরিচয় হয়নি বলে কথা হয়নি। শিবুর সাথে অবশ্য ৩২ বছরের স্নেহের সম্পর্ক। তারপর একদিন সুযোগ এল। দেখা হল। শুনলাম, তোমরা আমাকে নিয়ে পরবর্তী ছবিতে কাজ করতে চাও। তোমার মুখে আমার চরিত্রের কাঠামো। চরিত্রের বুনুনি বেশ লাগল, জিনিয়ার লেখা সর্বোপরি, আরও একটি দিক যা আমাকে টেনে বসিয়ে রেখেছিল, তা হল তোমার ওই চরিত্রকে ব্যখ্যা করার ধরন। আমি অভিনয়ের ব্যাপারে একটু খুঁতখুঁতে। সবসময় মনে মনে পাওয়া চরিত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করে থাকি। কেবলই মনে হয়, এইরকম করলে ভালো হত, ইস, এই দিকটি কেন ভেবে দেখলাম না, এই সব আর কী! কিন্তু তুমি যেভাবে 'মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী'কে তুলে আমার সামনে পেশ করলে তাতে আমার অর্ধেক হোম ওয়ার্ক কমপ্লিট!"
অর্জুনের সংযোজন, "আমি বিভিন্ন স্তরের মনীষীদের সঙ্গে কাজ করেছি। তাঁরা সবাই নিজের নিজের পরিধির নীরিখে দিকপাল!এই তোমাদের সাথে কাজ করে আমার মাথায় আরও একটি পালক! আজ তোমার জন্মদিন! আমি সবসময়ে বিশ্বাস করতাম, জন্মদিন একটাই হয়। বাকিটা টিকে থাকা। কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি তোমার ক্ষেত্রে এটা খাটে না। আমার মনে হয়, প্রতিটি দিনই যেন তোমার জন্মদিন। তুমি পূর্ণ উদ্যমে, সৃজনশীলতা আর পরিতৃপ্তি নিয়ে জীবনযাপন করছো। ঠিক এমনই থেকো— স্নেহময়, যত্নশীল ও সুস্থ। নিজেকে কখনও বদলে ফেলো না।"
