SIR নিয়ে বিগত বেশ কয়েকমাস ধরেই চলছে নানা টানাপোড়েন। বর্তমানে SIR-এর শুনানি নিয়েও ভোগান্তি চরমে। অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে অসুস্থ মানুষজনেরা, প্রায় প্রত্যেকেই এই সমস্যায় জর্জরিত। শুনানি তালিকায় নাম জুড়েছে রাজ্যের তাবড় ব্যক্তিত্বদেরও। কিন্তু সবথেকে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে গুরুতর অসুস্থরা। এক্ষেত্রে অনেকেই নির্বাচন কমিশনের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এবার এই নিয়ে পদক্ষেপ করলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতার সঙ্গে রয়েছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত থেকে পোশাক ডিজাইনার অভিষেক রায় প্রমুখ। সাধারণের কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেয় বাংলা একতা মঞ্চ। আর সেই সংগঠনের তরফেই এই পদক্ষেপ পরমব্রত-সহ বাকিদের।
মঙ্গলবার এই নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরমব্রত বলেন, "আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলে ঠিক কী ফলাফল মিলবে তা আমরা জানি না। তবে নাগরিক সমাজ যে এই SIR-এর মতো বিষয়কে নজরে রাখছেন তা বলাই বাহুল্য।" এই পদক্ষেপ নিয়ে জানতে অভিনেতার সঙ্গে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টা একেবারেই টলিউড সংক্রান্ত নয়। আমি একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তাদের তরফেই ডেপুটেশনের কথা মাথায় আসে। মূলত SIR-এর যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তাতে মানুষের হয়রানি বেড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও সমাজের প্রান্তিক মানুষ এর জেরে সমস্যায় পড়েছেন। তাই নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে মানবিক পদ্ধতি অবলম্বন করার অনুরোধ জানাতেই এই পদক্ষেপ।" সূত্রের খবর এদিনই নাকি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন পরম-সহ বাকিরা। এদিন বাংলা একতা মঞ্চের উদ্যোগে ডেপুটেশন দলে থেকে সাধারণের কথা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, তন্ময় ঘোষ, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অভিষেক রায়, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উল্লেখ্য, রাজ্য জুড়ে চলা SIR শুনানিতে এখনও চূড়ান্ত তালিকা থেকে মোট ১১,৪৭২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এখনও অবধি বাংলায় এসআইআরের প্রায় ৯ লক্ষ ৩১ হাজার ভোটারের শুনানি হয়েছে বলে খবর। সেই তালিকা থেকে ওই সংখ্যক ‘অবৈধ’ ভোটার চিহ্নিত হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত ৪ নভেম্বর। এনুমারেশন পর্ব ১১ ডিসেম্বর শেষ হয়। খসড়া ভোটার তালিকা ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। দেখা যায়, বাংলায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এরপর নির্দিষ্ট দিন থেকে রাজ্যে শুরু হয় শুনানি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। মানুষের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে রাজ্যে।
