shono
Advertisement
EIMPA

ইম্পার সভাপতি 'বদল' নিয়ে শুভেন্দুর দ্বারস্থ পিয়া, 'আমার গন্ডারের চামড়া' বলে কাদের বিঁধলেন?

ইম্পার অস্থায়ী সভাপতি রতন সাহা। আইনি হুঁশিয়ারি পিয়া সেনগুপ্তর। বিঁধলেন গঙ্গাজলে ছেটানো নিয়েও!
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 08:10 PM May 25, 2026Updated: 08:26 PM May 25, 2026

ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ইম্পার অশান্তি অব্যাহত। ২২মে'র বৈঠক ঘিরে ইম্পার দপ্তর রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যার জেরে মাঝপথে ভেস্তে যায় মিটিং। সেদিনই আবার ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে রতন সাহাকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সেটা মানতে অস্বীকার করায় বিক্ষোভ চরমে পৌঁছয়। তার দিন তিনেক বাদে এবার ২৫মে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক কথা বললেন পিয়া।

Advertisement

"যে অন্তরবর্তী অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট রূপে রতন সাহা এসেছেন, সেই পুরো প্রক্রিয়াই অবৈধ। আইনত ওনারা এটি করতে পারেন না।..." 

সোমবারই ইম্পার অফিসে অস্থায়ী সভাপতি রতন সাহাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যেখানে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য পরিচালক গৌতম ঘোষও। যে পরিচালককে বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শাসকদলের সঙ্গে দেখা যেত, সোম সকালে রতন সাহার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি রীতিমতো হতবাক করে দেয় একাংশকে! এদিন বিকেলেই আবার সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন পিয়া সেনগুপ্ত। সেখানে ধ্বনি ভোটে জয়ী রতন সাহাকে সভাপতি পদে অস্বীকার করার পাশাপাশি গত শুক্রবারের মিটিংয়ে 'বহিরাগতদের আস্ফালনে'র অভিযোগও তোলেন তিনি পিয়ার মন্তব্য, "২২ মে'র ঘটনা আমরা ভুলিনি। একদল 'বহিরাগতের' তাণ্ডবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। পুলিশ থেকেও ওদের আটকাতে পারেনি। কমিটির সদস্যদের ছাড়াই ভোট হয়ে গেল! আজ রতন সাহাকে দেখছি, কাল অন্য কাউকে আবার অস্থায়ী সভাপতি পদে দেখব। আমি তো জানি, ২০২৭ অবধি আমি সভাপতি পদে স্থায়ী। তাই অস্থায়ী অন্য কাউকে নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। পদত্যাগও করব না।" এখানেই শেষ নয়!

ইম্পার অস্থায়ী সভাপতি রতন সাহার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গৌতম ঘোষ। নিজস্ব চিত্র

পাশাপাশি পিয়া জোরালো দাবি, রতন সাহা অবৈধভাবে প্রেসিডেন্টের পদে এসেছেন। পিয়ার কথায়, "যে অন্তরবর্তী অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট রূপে রতন সাহা এসেছেন সেই পুরো প্রক্রিয়াই অবৈধ। আইনত ওঁরা এটি করতে পারেন না। আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে আমরা কোর্টের দারস্থ হব। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও এবিষয়ে কথা হয়েছে।" এরপর রসিকতাচ্ছলে গঙ্গাজলে ইম্পার অফিস শুদ্ধিকরণ নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। পিয়া বলেন, "ওরা যদি গঙ্গাজলে অফিস শুদ্ধ করতে পারেন, তবে আমরাও আইনি পথে হেঁটে ইম্পাকে মুক্ত করব।"

"আমার গন্ডারের চামড়া হয়ে গেছে। এবং আমাকে গন্ডার বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, আমাকে গন্ডারের মতো দেখতেও। এগুলো আমার গায়ে লাগে না।"

২৫মে সাংবাদিক বৈঠকে পিয়া সেনগুপ্ত। নিজস্ব চিত্র

এদিকে গত শুক্রবার ইম্পার অফিস থেকে অসুস্থ পিয়ার ভিডিও ফাঁস হতেই সোশাল পাড়ায় নিন্দুকদের ট্রোল-মিমের হিড়িক! সেপ্রসঙ্গেও নিন্দুকদের একহাত নিতে ছাড়েননি তিনি। পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, "লাগাতার ট্রোল করা হচ্ছে। কিন্তু যেদিন থেকে আমি অভিনেত্রী হয়েছি, সেদিন থেকেই ট্রোল নিয়ে ভাবিত নই আমি। আমার গন্ডারের চামড়া হয়ে গেছে। এবং আমাকে গন্ডার বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, আমাকে গন্ডারের মতো দেখতেও। এগুলো আমার গায়ে লাগে না।" অন্যদিকে পিয়া সেনগুপ্তের সাংবাদিক বৈঠকের পর মুখ খুলেছেন ইম্পার 'নবনির্বাচিত অস্থায়ী সভাপতি'ও। ইম্পার এমন অচলায়তন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন সভাপতির পাশে টলিউডের কারা কারা রয়েছেন? এপ্রসঙ্গে সংবাদ প্রতিদিনকে রতন সাহা বলেন, "আজ গৌতম ঘোষ এসেছিলেন। এছাড়াও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি যদিও কলকাতায় নেই, তবে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলা ছবির উন্নতির স্বার্থে আমার পাশে থাকবেন বলেও কথা দিয়েছেন।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement