জানুয়ারি মাসে সাধারণতন্ত্র দিবসেই পদ্ম সম্মানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময়েই জানা যায়, বাংলা সিনেমায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এবার মে মাসের ২৫ তারিখ পড়ন্ত বিকেলে রাইসিনা হিলসে টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র'র হাতে উঠল পদ্ম সম্মান। অন্যদিকে কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্রকে যে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হবে, সেকথাও সেসময়েই জানা গিয়েছিল। প্রয়াত অভিনেতার হয়ে পদ্ম সম্মান গ্রহণ করলেন হেমা মালিনী।
২৫ মে, রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত প্রথম 'সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি'তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মনোনীত ব্যক্তিত্বদের হাতে এই সম্মান তুলে দিলেন। এবছর ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী পুরস্কার। যে তালিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, প্রয়াত তারকা ধর্মেন্দ্র-সহ মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তি, গায়িকা অলকা ইয়াগনিকও রয়েছেন। উল্লেখ্য, বুম্বা-সহ এই পদ্ম সম্মানের তালিকায় আবার ১১ জন বাঙালিও রয়েছেন। শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণের মতো বিভিন্ন পরিসরে অসামান্য অবদানের জন্য পদ্ম পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছবি- সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। প্রায় চার দশকের অভিনয় জীবনে টলিউডকে উর্বর করতে অনেক অবদান রয়েছে তাঁর। সেই অবদানের কথা মাথায় রেখেই টলিউডের সুপারস্টারকে এই সম্মাননা। একটা সময় বাংলা ছবির দুঃসময়ে প্রায় সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন ‘বুম্বা’। তাঁর হাত ধরেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল কমার্শিয়াল ছবি। গোটা ফিল্মি কেরিয়ারে অভিনয় করেছেন প্রায় সাড়ে তিনশোর বেশি ছবিতে। ১৯৬৮ সালে বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে হাতেখড়ি। বাংলা ছবির হিরো হিসেবে তিনি ধরা দেন ‘অমরসঙ্গী’র হাত ধরে। তার পর গত চার দশকের অভিনয় জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টলিউডকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অভিভাবকের মতো।
"এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। সানি, ববি- সবাই...।" - হেমা মালিনী
ধর্মেন্দ্রর হয়ে মরণোত্তর পদ্ম সম্মান গ্রহণ করলেন হেমা মালিনী। ছবি- সংগৃহীত
অন্যদিকে রাইসিনা হিলস-এ পদ্ম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে হেমা মালিনী জানান, "এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। আমাদের মেয়ে অহনা আমার সঙ্গেই দিল্লিতে এসেছে। ইশা আসতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেশ আসতে পারেনি। পুরো পরিবারই আজ আনন্দিত। সানি, ববি- সবাই এই খবর জানে এবং আমাদের সকলের জন্যই এটা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।"
