শুক্রবার ঘড়িতে রাত সাড়ে দশটা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে জরুরী বৈঠক ডাকা হয় টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল, দিগন্ত বাগচী, পায়েল দে-সহ আরও অনেকে। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
পয়লা দিন থেকেই প্রযোজনা সংস্থার ইউনিটের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতি। পুলিশের হাতে আসা শুটিংয়ের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে অমিল রয়েছে ধারাবাহিকের কলাকুশলীদের বয়ানেও। সেই প্রেক্ষিতেই রহস্য আরও দানা বেঁধেছে। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? কীভাবে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা? এই দায় কার? গোটা সিনেইন্ডাস্ট্রির কাছে এখনও অজস্র উত্তর অধরা। জবাব চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে দিন দুয়েক আগেই চিঠি ধরিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। কিন্তু ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্সের তরফে প্রাপ্ত জবাবে সন্তুষ্ট নয় সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
গত রবিবার বিকেলে তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময়ে সৈকতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ জানিয়েছেন, অনেকক্ষণ জলে ডুবে থাকার পর অভিনেতাকে ডাঙায় তোলা হয় তো কারও বা দাবি, সহ-অভিনেত্রীকে জোয়ারের জলের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়েই এহেন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে অভিনেতার। এদিকে পয়লা দিন থেকেই প্রযোজনা সংস্থার ইউনিটের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতি। পুলিশের হাতে আসা শুটিংয়ের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে অমিল রয়েছে ধারাবাহিকের কলাকুশলীদের বয়ানেও। সেই প্রেক্ষিতেই রহস্য আরও দানা বেঁধেছে। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? কীভাবে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা? রাহুলের বেঘোরে প্রাণ হারানোর দায় কার? গোটা সিনেইন্ডাস্ট্রির কাছে এখনও অজস্র উত্তর অধরা। জবাব চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে দিন দুয়েক আগেই চিঠি ধরিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। কিন্তু ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্সের তরফে প্রাপ্ত জবাবে সন্তুষ্ট নয় সংশ্লিষ্ট সংগঠন। সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবারের বৈঠকে শনিবার রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পথে আর্টিস্ট ফোরাম। ছবি- ইনস্টাগ্রাম
গত সোমবার কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কিন্তু রাহুলের মৃত্যুর পর 'ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক' হিসেবে তাঁর তরফে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় অনেকেই তোপ দেগেছিলেন! এবার ভ্রাতৃসম অভিনেতার প্রয়াণের শোক সামলে প্রযোজনা সংস্থাকে পরোক্ষভাবে বিঁধলেন প্রসেনজিৎ।
মাত্র তেরো বছর বয়সে এই পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা কীভাবে সামলাবে সহজ? গত কয়েক দিনে বারবার ঘুরেফিরে এই প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে জনসাধারণের মনে। কাঠগড়ায় উঠেছে, সিনেইন্ডাস্ট্রির কাজের নিয়মবিধিও। অনেকেই এহেন মর্মান্তিক পরিণতির দায় প্রয়াত রাহুলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। এমতাবস্থায় শুক্রবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "যে চলে গিয়েছে তাঁকে আর ফেরানো যাবে না ঠিকই, কিন্তু সহজ যেন বড় হয়ে জানতে পারে যে, তার বাবা কেন চলে গেল?" গত সোমবার কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কিন্তু রাহুলের মৃত্যুর পর 'ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক' হিসেবে তাঁর তরফে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় অনেকেই তোপ দেগেছিলেন! এবার ভ্রাতৃসম অভিনেতার প্রয়াণের শোক সামলে প্রযোজনা সংস্থাকে পরোক্ষভাবে বিঁধলেন প্রসেনজিৎ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি জরুরি বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে এসেছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পূর্ণ তদন্তের দাবিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে খবর। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল ও দেব। এরপর শুক্রবার রাতে আরেক দফা বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তরফে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
