shono
Advertisement

Breaking News

Rajpal Yadav

আরও পাঁচবার হাজতবাসে রাজি, চেক বাউন্স মামলায় দিল্লি উচ্চ আদালতে অকপট রাজপাল

দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবের ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় রায় সংরক্ষিত রেখেছে এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে তাঁর অসংলগ্ন বক্তব্যের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
Published By: Kasturi KunduPosted: 09:34 PM Apr 02, 2026Updated: 09:34 PM Apr 02, 2026

ফেব্রুয়ারি মাসেই দিল্লি উচ্চ আদালতে বড় স্বস্তি পেয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে এগারো দিন বাদে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান অভিনেতা। দিল্লি হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার অভিনেতা রাজপাল যাদব-এর বিরুদ্ধে মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের চেক বাউন্স মামলার রায় সংরক্ষিত করেছে। এই মামলার শুনানির দায়িত্বে থাকা বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা, যিনি রাজপাল যাদবের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালতের তরফে অভিনেতা ও তাঁর আইনজীবীকে সতর্ক বলা হয়েছে, বিচারক যদি আপনার প্রতি সদয় হন তবে কখনও ভাববেন না যে তিনি দুর্বল।

Advertisement

রাজপাল যাদব ঋণ পরিশোধের ইচ্ছেপ্রকাশ করছেন কিন্তু, অভিনেতার আইনজীবী উলটো সুরে কথা বলছেন। শুনানির সময় দিল্লি উচ্চ আদালত রাজপাল যাদব এবং তাঁর আইনজীবীর দেওয়া যুক্তির মধ্যে বৈপরীত্য লক্ষ্য করে। অভিনেতার আইনজীবীর দাবি, ইতিমধ্যেই কারাদণ্ড ভোগ করেছেন, তাই আর অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।

জবাবে বিচারপতি বলেন, যদি তিনি সত্যিই টাকা দিতে প্রস্তুত থাকেন তাহলে মামলাটি অযথা চালিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ নেই শুধু অর্থ পরিশোধ করলেই হবে। রাজপাল যাদব ছ'কোটি টাকা জোগাড় করতে ৩০ দিনের সময় চান। কিন্তু আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি স্পষ্টভাবে বলেন, 'না মানে না। আমি রায় সংরক্ষণ করব। আর সময় দেওয়া হবে না'।

আদালতের তরফে অভিনেতা ও তাঁর আইনজীবীকে সতর্ক বলা হয়েছে, বিচারক যদি আপনার প্রতি সদয় হন তবে কখনও ভাববেন না যে তিনি দুর্বল।

প্রসঙ্গত, এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মে মাসে। একটি সেশনস কোর্টের নির্দেশে রাজপাল যাদবকে চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দিল্লি উচ্চ আদালত তার আইনজীবীর আশ্বাসের ভিত্তিতে সাজা স্থগিত করে এবং মামলাটি মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতা করে। কিন্তু আদালত লক্ষ্য করে যে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও অভিনেতা তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। সাম্প্রতিক অতীতে প্রতিশ্রুত অর্থ জমা দেননি।

যার মধ্যে ২.৫ কোটি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কারণ তিনি আগের কোনও নির্দেশ মানেননি এবং অতিরিক্ত সময়ের আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর রাজপাল ৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন এবং ১.৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীনভাবে তার সাজা স্থগিত হয়।

রাজপাল দাবি করেন, তিনি বিরাট আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ইতিমধ্যেই ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন এবং পাঁচটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন।

সাম্প্রতিক শুনানিতে অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা যুক্তি দেন কারাদণ্ড ভোগ করলেই আর্থিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। এখনও ৭.৭৫ কোটি টাকা বাকি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও ট্রায়াল কোর্টে আগে প্রায় ২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। আদালত এককালীন নিষ্পত্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে এবং ছ'কোটি টাকার একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে প্রস্তাব দেয় যা অভিযোগকারীর পক্ষেও সম্মতি দেওয়া হয়।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে যাদব আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে তিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে তিনি বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন এবং পাঁচটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন। আরও বলেন, প্রয়োজনে তিনি আরও পাঁচবার কারাদণ্ড ভোগ করতেও প্রস্তুত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement