থলপতি বিজয়, তামিলভূমে এখন একটাই রব ‘বিজয় ধান ভারুভারু…’,বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়- ‘বিজয়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।’ সূত্রের খবর, সরকার গঠনের 'ম্যাজিক ফিগার' তাঁর হাতে রয়েছে সেই প্রমাণই দিতেই টিভিকে সুপ্রিমো থলপতি বিজয় (Thalapathy Vijay) বৃহস্পতিবার সকালে ফের পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর লোকভবনে। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজয়? এই চর্চার মাঝেই আইনি বিপাকে জড়ালেন তামিলনাড়ুর হবু 'মুখ্যমন্ত্রী'!
তামিল সুপারস্টার এবং 'টিভিকে' দলের প্রতিষ্ঠতা থলপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে উঠেছে কর ফাঁকির অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে জল্পনার মাঝেই বিজয়ের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে সরগরম দক্ষিণী রাজনীতি। সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্টে তামিল সুপারস্টারের বিরুদ্ধে দাখিল করা হয়েছে পিটিশন। যেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি বছরের পর বছর আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। এই খবর সামনে আসতেই উত্তাল বিনোমহল থেকে রাজনীতিমহল।
আইনি বিপাকে বিজয়!
কোডুঙ্গাইয়ুরের এক বাসিন্দা মাদ্রাজ হাইকোর্টে বিজয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কর ফাঁকির অভিযোগের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে কারচুপি, পারিশ্রমিক হিসেবে অঘোষিত নগদ অর্থ গ্রহণের মতো বিষয়গুলোও সামনে এনেছেন আবেদনকারী এম. রাজকুমার। প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী ও বিচারপতি জি.আরুল মুরগ্যানের বেঞ্চে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর মামলার শুনানির সম্ভবনা রয়েছে।
অনুরাগীরা অবশ্য এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, বিজয়ের ভাবমূক্তি নষ্ট করতেই বিরোধী শিবির তাঁকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে পিটিশনকারীর আইনি পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, বিজয়ের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ সত্যি হলে তার মাশুল গুনতেই হবে।
২০১৫ সালে বিজয় অভিনীত 'পুলি' মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আয়কর সংক্রান্ত যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, এই মামলাটি মূলত তারই ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আয়কর বিভাগ বিজয়ের বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময় এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ উদ্ধার হয়। যেখান থেকে প্রাথমিক অনুমান, ওই ছবির পারিশ্রমিক বাবদ অভিনেতা বেশ কিছু টাকা নগদে লেনদেন করেছেন যার কোনও হিসাব ছিল না।
আদালতের কাছে এম. রাজকুমারের দাবি, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (জালিয়াতি), ৪৭০, ৪৭১ এবং ১২০বি (ষড়যন্ত্র) ধারায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। পিটিশন অনুযায়ী, সিনেমার প্রযোজক পি.টি. সেলভাকুমার এবং শিবু বিজয়কে চেকের মাধ্যমে ষোলো কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আরও চার কোটি তিরানব্বই লক্ষ টাকা নগদে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, শুধুমাত্র চেকের মাধ্যমে দেওয়া টাকার ওপরই 'টিডিএস' জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নগদে নেওয়া ওই বিপুল পরিমাণ অর্থের ওপর কোনও কর দেননি থলপতি বিজয়।
কর ফাঁকির অভিযোগ
অনুরাগীরা অবশ্য এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, বিজয়ের ভাবমূক্তি নষ্ট করতেই বিরোধী শিবির তাঁকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে পিটিশনকারীর আইনি পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, বিজয়ের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ সত্যি হলে তার মাশুল গুনতেই হবে।
