৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় আপাতত তিহাড় জেলেই থাকতে হবে রাজপাল যাদবকে। বুধবারই শোনা যায়, আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেতে পারেন অভিনেতা। রাজপালের ম্যানেজার গোল্ডির কথাতেও তেমন ইঙ্গিতই মিলেছিল। বকেয়া না মেটাতে পারায় কৌতুকাভিনেতার গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর একজোট হয়ে বলিউডও অর্যসাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিগত দু' দিনে। স্বাভাবিকভাবেই বৃহস্পতিবার দিল্লি উচ্চ আদালতের শুনানির দিকে নজর ছিল গোটা বলিউডের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় শেষমেশ রেহাই পেলেন না রাজপাল যাদব। অভিনেতার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি উচ্চ আদালত।
খবর, 'বাড়িতে দাদার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে' বলে কোর্টের কাছে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালতে পালটা ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতাকে। পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। অর্থাৎ আরও দিন চারেক রাজপাল যাদবকে তিহাড় জেলেই থাকতে হচ্ছে। কিন্তু কেন তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল অভিনেতাকে? জানা গিয়েছে, আদালতে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তের বেঞ্চের তরফে রাজপালকে বলা হয়, "আপনি এর আগে অন্তত ২৫-৩০ বার হাজিরা দিয়েছেন। আপনাকে একজন সিনিয়র আইনজীবীও সহায়তা করেছিলেন। তিনি আপনার হয়ে কোর্টকে বলেছিলেন, আমার মক্কেল বিদেশে গিয়ে কিছু টাকা উপার্জন করে বকেয়া মিটিয়ে দিতে পারে। তাই আপনাকে যে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে, সেই দাবি আপনি করতে পারবেন না। উপরন্তু অভিযোগকারী কোম্পানির পাওনা মেটাতেও কয়েক বছর ধরে দেরি করেছেন। পাশাপাশি চেক বাউন্সের মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তিও করতে পারেননি।"
রাজপাল যাদব
২০১০ সালে 'আতা পাতা লাপাতা' সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এরপরই ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত। এরমাঝেই ঋণের বোঝা বেড়ে ৯ কোটিতে দাঁড়ায়। কিন্তু পরে জানা যায়, পঁচিশের অক্টোবর মাসে দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটে জমা দিয়েছেন অভিনেতা। তবুও এখনও ৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজপালের। গত বৃহস্পতিবার তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিনেতা।
এর আগেও অবশ্য দিন তিনেক তিহাড় জেলেই থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেবার জামিনে রেহাই পান। কিন্তু এবার পরবর্তী শুনানিতে হিল্লে না হলে আপাতত জেলের ঘানিই টানতে হবে রাজপাল যাদবকে। পাশাপাশি এও শোনা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে বলিউডি লাইমলাইট থেকে দূরে থাকায় তাঁর সিনেমার ভাঁড়ারেও টান পড়েছে। ফলত, হাতে কাজ না থাকায় টাকাও মেটাতে পারেননি। এবার বলিউড তারকাদের আর্থিক সাহায্যের সুবাদে বকেয়া মিটিয়ে রাজপাল যাদবের জেলমুক্তি ঘটে কিনা, নজর থাকবে সেদিকে।
