"১০ কোটি না পেলে দেখে নেব...", ১০ ফেব্রুয়ারি রণবীর সিংয়ের (Ranveer Singh) ফোনে হুমকিবার্তা আসার পরই ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমে পড়েছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। রণবীর-দীপিকার বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের বাংলোও কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে তারকাদম্পতির নিরাপত্তাও। এমন আবহেই বড় খবর! বলিউডের 'ধুরন্ধর' তারকাকে হুমকি দেওয়া বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করল মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।
"সময়মতো লাইনে আয়, নইলে এমন হাল করব যে তোর পরবর্তী সাত প্রজন্মও মনে রাখবে। রণবীর সিং, তুই লোককে উপদেশ দিতে খুব ভালোবাসিস। আর বলে-কয়ে থানায় পাঠাস অভিযোগ দায়ের করার জন্য। দেখে নেব। এবার কান খুলে শুনে রাখ..."
গ্যাংস্টার দৌড়াত্ম্যে মুম্বইয়ের সেলেব পাড়ায় আতঙ্কের আবহ। ঠিক যেন নয়ের দশকের ছায়া! পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রেমদিবসের আগের রাতে ফের নতুন করে রণবীর সিংয়ের কাছে হুমকিবার্তা আসে। হাড়হিম অডিও ক্লিপে উল্লেখ, "এমন হাল করব, সাত জন্ম মনে রাখবি।" সেই বার্তার সূত্র ধরেই ঘটনার তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুলিশি সূত্র মারফৎ খবর, রণবীর সিংয়ের ফোনে আসা হাড়হিম করা ওই ‘অডিও নোটে’র নেপথ্যে এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যার দীর্ঘদিনের আঁতাঁত। তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিশের রাডারে যে ব্যক্তির নাম উঠে আসে, তিনি ‘হ্যারি বক্সার’। আসল নাম হরি চাঁদ। হুমকিবার্তার ওই কণ্ঠস্বর বিষ্ণোই গ্য়াংয়ের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীরই বলে দাবি পুলিশের। জানা যায়, এই প্রথম নয়। এই হ্যারি বক্সার বিদেশে বসে এর আগেও ভিপিএন ব্যবহার করে এমন আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। এবার খবর, সেই হ্যারি বক্সারের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করেছে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।
রণবীর সিং, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
বিষ্ণোই ঘনিষ্ঠ ওই গ্যাংস্টার যে আদতে মার্কিন মুলুকে বসে ভিপিএন ব্যবহার করে এহেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, সেখবর দিন দুয়েক আগেই জানা গিয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধেই লুক আউচ নোটিস জারি হল। জানা গিয়েছে, রণবীরের ম্যানেজারের ফোনে আসা ওই 'অডিও ক্লিপ' পাঞ্জাব ও হরিয়ানা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছিল যাচাইয়ের জন্য। আর তাতেই মুম্বই পুলিশের অনুমানে সিলমোহর পড়ে। জানা যায়, ওই অডিও ক্লিপে যার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, সেই ব্যক্তি আদতে হ্যারি বক্সারই। যার নিশানায় রণবীরের সিংয়ের পাশাপাশি পরিচালক রোহিত শেট্টিও রয়েছেন। গত শুক্রবার জনৈক ব্যক্তি 'হ্যারি বক্সার' বলে নিজের পরিচয় দিয়ে ওই অডিও ক্লিপে বলেন, "সময়মতো লাইনে আয়, নইলে এমন হাল করব যে তোর পরবর্তী সাত প্রজন্মও মনে রাখবে। রণবীর সিং, তুই তো লোককে উপদেশ দিতে খুব ভালোবাসিস। আর বলে-কয়ে থানায় পাঠাস অভিযোগ দায়ের করার জন্য। ঠিক আছে। তুইও অভিযোগ করেছিস থানায়। সমস্যা নেই। দেখে নেব। এবার কান খুলে শুনে রাখ, তোর সঙ্গে যারা কাজ করে, এমনকী তোর ম্যানেজারের সব ঠিকুজি-কুষ্ঠী আমাদের কাছে আছে। ওরা কখন, কোথায় যায়? কখন বাড়ি ফেরে আর কখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়? আমরা সব খোঁজ রাখি। তাই এবার আমরা তোকে সরাসরি কিছু বলব না। তোর সঙ্গে যারা কাজ করে, সেসব কর্মচারীদের টার্গেট করব। এবার কিছু একটা ঘটলে, তোর টনক নড়বে! একে একে তোর সমস্ত কর্মীদের খুন করব। এখনও সময় আছে, লাইনে আয়।..."
সেলেবপাড়ায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বিষ্ণোই গ্যাং! কখনও সলমন খান, কখনও রোহিত শেট্টির বাড়িতে হামলা, আবার কখনও বা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কপিল শর্মার কানাডার ক্যাফেতে গোলাগুলি চালিয়ে বুক ঠুকে দায় স্বীকার করে নিয়েছে এই কুখ্যাত গ্যাস্টার গোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, খোলা চিঠিতে কৌতুকাভিনেতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, "এখানে ব্যবসা বন্ধ না করলে পরেরবার মুম্বইতে গিয়ে গুলি চালাব।" এছাড়াও চব্বিশ সালের অক্টোবর মাসে দশেরার দিন সলমন-ঘনিষ্ঠ মহারাষ্ট্রের তাবড় নেতা বাবা সিদ্দিকিকেও খুন করে এই বিষ্ণোইরা। আর সেই হত্যালীলার পরও ফলাও করে জানিয়ে দেয়, “সলমন খানের সঙ্গে বেশি 'মাখামাখি' করলে তারও এরকম চরম পরিণতি হবে।" এবার রোহিত শেট্টি ও রণবীর সিংয়ের আপ্ত সহায়কের হোয়াটসঅ্যাপে আসা হুমকিবার্তার নেপথ্যেও এই বিষ্ণোই গ্যাংয়েরই আরেক কুখ্যাত সদস্যের যোগসাজশ খুঁজে পেল মুম্বই পুলিশ। সেলেব পাড়ায় ঠিক যেন নয়ের দশকে দাউদ অধ্যায়ে ছায়া!
