"১০ কোটি না পেলে দেখে নেব...", গত মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি রণবীর সিংয়ের ফোনে হুমকিবার্তা আসার পরই ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমে পড়েছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পাশাপাশি রণবীর-দীপিকার বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের বাংলোও কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে তারকাদম্পতির নিরাপত্তাও। এমন আবহেই মুম্বই পুলিশের তরফে বড় খবর!
পুলিশি সূত্র মারফৎ খবর, রণবীর সিংয়ের ফোনে আসা হাড়হিম করা ওই 'অডিও নোটে'র নেপথ্যে কুখ্যাত গ্যাংস্টার। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যার দীর্ঘদিনের আঁতাঁত। তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিশের রাডারে যে ব্যক্তি, তার নাম 'হ্যারি বক্সার'। আসল নাম হরি চাঁদ। হুমকিবার্তার ওই কণ্ঠস্বর বিষ্ণোই গ্য়াংয়ের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীরই বলে দাবি পুলিশের। জানা যায়, এই প্রথম নয়! এই হ্যারি বক্সার বিদেশে বসে ভিপিএন ব্যবহার করে বহুবার এমন আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। যদিও এখনও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা, তবে পুলিশের অনুমান, বিদেশে বসে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের জন্য কাজ করা এই হ্যারিই হুমকিবার্তায় রণবীর সিংয়ের কাছ থেকে ১০ কোটি চেয়েছে। অতঃপর সলমন খান, কপিল শর্মা, রোহিত শেট্টির পর যে 'ধুরন্ধর' তারকা রণবীর সিংও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে, তেমন সূত্রই খুঁজে পাচ্ছে মুম্বই পুলিশের অপরাধদমন শাখা।
রোহিত শেট্টির বাড়িতে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলা
বলিউডের সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না, বললেও অত্যুক্তি হয় না। দিন কয়েক আগেই রোহিত শেট্টির বাড়িতে হামলা চালিয়ে গোটা বলিউডের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেগেছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। 'সিংহম' পরিচালকের বাড়িতে গুলি চালানোর পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর তিন সদস্য শুভম লঙ্কর, আরজু বিষ্ণোই এবং হরি 'বক্সার' হাসান শম্ভু। তাদের কথায়, "এটা তো ছোট্ট একটা ট্রেলার ছিল… এরপর তোদের বেডরুমে ঢুকে মারব।" এখানেই শেষ নয়। বিষ্ণোইদের তরফে এক বিবৃতিতে উল্লেখ, "রাম রাম, জয় বজরং বালি। আজ মুম্বইতে রোহিত শেট্টির বাড়িতে যে গোলাগুলি হয়েছে, সেটা আমরাই করিয়েছি। বহুবার ওকে সতর্ক করেছি যে আমাদের কাজে যেন নাক না গলায়, কিন্তু শোনেনি। সেইজন্যেই রোহিত শেট্টিকে একটা ছোট্ট ট্রেলার দেখালাম। ভবিষ্যতেও যদি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় কিংবা আমাদের কথা বুঝতে ওর অসুবিধে হয়, তাহলে পরের গুলিটা ওর বাড়ির বাইরে নয়, একেবারে বেডরুমে চলবে। ওই গুলিটা রোহিতের বুকেও লাগতে পারে! আর হ্যাঁ, এটা বলিউডের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দাগলাম।" যদিও সলমন ব্যতীত গোটা বলিউডের সঙ্গে বিষ্ণোইদের কীসের সমস্যা? সেটা আজ পর্যন্ত খোলসা করা হয়নি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর তরফে। এবার রণবীর সিংকে পাঠানো হুমকিবার্তাতেও সেই বিষ্ণোই-যোগই দেখছে মুম্বই পুলিশ।
সেলেবপাড়ায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বিষ্ণোই গ্যাং! কখনও সলমন খান, কখনও রোহিত শেট্টির বাড়িতে হামলা, আবার কখনও বা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কপিল শর্মার কানাডার ক্যাফেতে গোলাগুলি চালিয়ে বুক ঠুকে দায় স্বীকার করে নিয়েছে এই কুখ্যাত গ্যাস্টার গোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, খোলা চিঠিতে কৌতুকাভিনেতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, "এখানে ব্যবসা বন্ধ না করলে পরেরবার মুম্বইতে গিয়ে গুলি চালাব।" এছাড়াও চব্বিশ সালের অক্টোবর মাসে দশেরার দিন সলমন-ঘনিষ্ঠ মহারাষ্ট্রের তাবড় নেতা বাবা সিদ্দিকিকেও খুন করে এই বিষ্ণোইরা। আর সেই হত্যালীলার পরও ফলাও করে জানিয়ে দেয়, "সলমন খানের সঙ্গে বেশি 'মাখামাখি' করলে তারও এরকম চরম পরিণতি হবে।" এবার রণবীর সিংয়ের আপ্ত সহায়কের হোয়াটসঅ্যাপে আসা হুমকিবার্তার নেপথ্যেও এই বিষ্ণোই গ্যাংয়েরই আরেক কুখ্যাত সদস্যের যোগসাজশ খুঁজে পেল মুম্বই পুলিশ।
