টলিউডের পর এবার বলিউডেও সেই ছায়া! সম্প্রতি অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব সম্রাট মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে খোয়া গিয়েছে বহুমূল্যের আংটি। অভিযোগের তির পরিচারিকার দিকে। এবার বলিউড অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডনের মাথায় বজ্রাঘাত। যদিও সরাসরি ক্ষতির শিকার নন, তবে মা ও ভাইয়ের বহুমূল্যের জিনিস চুরি। পঁচিশ লক্ষ টাকা ও বহুমূল্যের গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক মহিলাকে। সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিচারিকার কাজ করার সময় সুকৌশলে পরিবারের আস্থা অর্জন করেন। এরপরই সুযোগ বুঝে মালিকের বাড়িতে চুরি করেন ওই মহিলা। জুহু থানায় অভিযোগ জানালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহিলা রাশি ছাবারিয়ার বয়স আনুমানিক ৪৭ বছর। রবিনার বর্ষীয়ান মা বীনা ট্যান্ডনের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। শুধু সোনা বা হিরের গয়নাই চুরি করেননি, নজর পড়েছিল রবিনার ভাইয়ের দামী ঘড়িতেও। ২১ মে রাশি ছাবরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে তোলা হলে ২৯ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। বাড়ির তিনতলার সিন্দুক থেকে গয়না চুরি করেছিল রাশি। উল্লেখ্য, এই ঘরে বাড়ির সদস্য ছাড়া আর কারও যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
চিন্তিত রবীনা!
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২০ সাল থেকে অভিনেত্রীর মায়ের দেখভাল করেন রাশি। একটানা অনেকগুলো বছর এই বাড়িতে থাকার সুবাদে পরিবারের সকলে তাঁকে সদস্যের মতোই ভালোবাসতেন। বাড়ির সমস্ত জায়গায় অবাধ বিচরণের অধিকার ছিল। ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও কেউ কিছু টের পায়নি। অভিযোগ, রাশি ছাবারিয়া নামক ওই মহিলা রবিনার জুহুর বাড়িতে লকার ভেঙে বীনা ট্যান্ডনের বহুমূল্যের গয়না চুরি করে। সেই সঙ্গে অভিনেত্রীর ভাই তথা প্রযোজক রাজীবের দামী ঘড়িও চুরির অভিযোগ রয়েছে।
মায়ের সঙ্গে রবীনা
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর। রবিনার মা যখন সিন্দুকটি খোলেনন তখন সেটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তারপরই মাথায় হাত! সোনার চুরি, নেকলেস থেকে হিরের গয়না সহ পঁচিশ লক্ষ টাকা গায়েব!এরপর থানায় এফআইআর দায়ের করেন রাজীব ট্যান্ডন। পুলিশ জানায়, প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে চুরির দায় স্বীকার করে নেয় রাশি। বহুমূল্যের দুটি ঘড়ি ফেরত দিলেও গয়নাগুলি ‘জগদীশ’ নামে এক সহযোগীর কাছে দিয়েছে বলে জানায় অভিযুক্ত রাশি ছাবারিয়া। সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা রক্ষা করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ ও অনুরোধ সত্ত্বেও গয়নাগুলি আর উদ্ধার করা যায়নি।
