রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার আইনি বিপাকে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নেত্রী-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঠিক কী অভিযোগ রচনার বিরুদ্ধে? খবর, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজিকর কাণ্ডের আবহে একাধিকবার নিহত নির্যাতিতার নামোল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জনৈক আইনজীবী।
সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
কিন্তু বছর দেড়েক বাদে কেন অভিযোগ দায়ের করা হল? কৌতূহল অমূলক নয়। অভিযোগকারী আইনজীবীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তারকা সাংসদদের বিরুদ্ধে সেসময়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগনামায় উল্লেখ, আরজিকর হাসপাতালের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের নামোল্লেখ করে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভিডিওতেই বারংবার নির্যাতিতার নাম উচ্চারণ করতে শোনা যায় তৃণমূলের তারকা সাংসদকে। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি রচনার বিরুদ্ধে। সেকারণেই রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার ফের আরেক প্রস্থ লিখিত অভিযোগ চারু মার্কেট থানায় দায়ের করেছেন, বলেই দাবি ওই আইনজীবীর।
"২০২৪ সালে আরজিকর ঘটনার পর আমাদের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে সাংসদ হয়েও চার থেকে পাঁচবার নির্যাতিতার নাম বলেছিলেন উনি। প্রাথমিকভাবে তদানীন্তন সিপির কাছে একটি অভিযোগ করেছিলাম আমি। কিন্তু সেসময়ে উনি কোনও অ্যাকশন নেননি।..."
অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছিলেন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক তাঁর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই চারু মার্কেট থানার পুলিশ ওই অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মর্মে যাতে এফআইআর দায়ের করা হয় সেপ্রসঙ্গেও পুলিশের সঙ্গে ওই আইনজীবীর কথা হয়েছে বলে খবর। থানা থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইনজীবী বলেন, "২০২৪ সালে আরজিকর ঘটনার পর আমাদের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে সাংসদ হয়েও চার থেকে পাঁচবার নির্যাতিতার নাম বলেছিলেন উনি। প্রাথমিকভাবে তদানীন্তন সিপির কাছে একটি অভিযোগ করেছিলাম আমি। কিন্তু সেসময়ে উনি কোনও অ্যাকশন নেননি। আজ ২০২৬ সালের জুন মাস, এখনও ওই ভিডিওটি অনেক জায়গায় ঘুরছে। এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হোক বলে। "
