সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২০ সালের ১৪ জুন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারকে। ২৭ দিন বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে শ্রীঘরে। জেলমুক্তির পর লাইমলাইটের অন্তরালে থেকেও রেহাই পাননি সোশাল মিডিয়া ট্রায়াল থেকে। মুম্বই নিবাসী বঙ্গকন্যা রিয়া চক্রবর্তীর নামোল্লেখ করে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বঙ্গসমাজকেও। জীবনের কালো অধ্যায় কাটিয়ে অনেক আগেই মূলস্রোতে ফিরেছেন রিয়া। এবার সুশান্ত মামলায় (Sushant Singh Rajput case) 'শাপমুক্তি'র পরই সিদ্ধিবিনায়কে ছুটলেন অভিনেত্রী।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলায় রিয়া চক্রবর্তীকে (Rhea Chakraborty) ক্লিনচিট দিয়েছে সিবিআই। এরপরই বলিউডের একাংশ অতীত ঘেঁটে সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, একদিন এই মেয়েটিকেই ডাইনি অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। কোণঠাসা করে একঘরে করা হয়েছিল। অবশেষে সত্যিটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। সিবিআইয়ের জমা দেওয়া দুটি মামলারই অন্তিম রিপোর্টে জানা গিয়েছে, সুশান্তের মৃত্যুর সপক্ষে কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অন্যায় কাজের সন্ধান মেলেনি। জীবনের কালো অধ্যায় কাটিয়ে প্রায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবার। অভিনেত্রীর উপর থেকে ঘুচেছে 'ডাইনি' অপবাদ। সোমবার সেই প্রেক্ষিতেই বাবা এবং ভাই শৌভিককে নিয়ে মুম্বইয়ের সিদ্ধিবিনায়কে পুজো দিলেন রিয়া চক্রবর্তী। মন্দির চত্বরে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার সামনে পোজ দিলেও কোনওরকম প্রতিক্রিয়া দেননি অভিনেত্রী। তবে ম্লান হয়ে যাওয়া হাসি ফিরেছে তাঁর মুখে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দুটি মামলায় রিয়া চক্রবর্তীকে (Rhea Chakraborty) ক্লিনচিট দেওয়ার পরই তাঁর আইনজীবী সতীশ মানেশিণ্ডে জানিয়েছেন, "আমরা সিবিআইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ মামলার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে এতে ইতি টানার জন্য। সোশাল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে পরিমাণ মিথ্যা প্রচার করা হয়েছিল তার কোনও প্রয়োজন ছিল না। অতিমারীর সময় বলে সকলেই টিভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিই মন দিয়েছিল। নিরীহ লোকদের ধরে ধরে মিডিয়া এবং তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করানো হয়েছিল।" পাশাপাশি রিয়া চক্রবর্তীকে ২৭ দিনের জন্য জেলে থাকতে হয়েছিল সেকথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় অভিনেত্রীকে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা পেতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, "এই দেশটা এখনও অত্যন্ত নিরাপদ। এবং আমাদের বিচারব্যাবস্থার কারণে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী সকলেরই আশা রয়েছে। সত্যমেব জয়তে।"