আউটডোরে শুটিং করাকালীনই সলিল সমাধি। তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা'র শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মাত্র বারো বছর বয়সে এই পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা কীভাবে সামলাবে সহজ? অভিনেতার মৃত্যুর দায়ই বা কে নেবে? গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় বারবার ঘুরেফিরে এহেন নানা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে জনসাধারণের মনে। কাঠগড়ায় উঠেছে, সিনেইন্ডাস্ট্রির কাজের নিয়মবিধিও। এই কঠিন সময়ে সহজের সহমর্মী হয়ে কলম ধরলেন ঋদ্ধি সেন।
"যে শিশু তার বাবার অস্থি হাতে নিয়ে চলে গেল, তার মনে সারা জীবনের জন্য একটাই প্রশ্ন গেঁথে থাকবে, 'কেন?', এই প্রশ্নের চেয়ে বীভৎস আর বেদনাদায়ক কিছু হয় না। যিনি প্রয়াত তিনি এই উত্তর দিতে পারবেন না। তাই তার মুখে মিথ্যে কথা বসানো সহজ। এই উত্তর পেয়ে গেলে মানুষটা ফিরে আসবেন না। যে শূন্যতা তিনি রেখে গেলেন কিছু মানুষের মনে, সেই শূন্যতা সময়ের সাথে আরও গভীর হবে...।"
সোমবার বিকেলে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে অস্থি হাতে যখন কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে বেরল, তখন সেখানে উপস্থিত সকলের চোখ সেই ছোট্ট মায়াবী মুখটির দিকে। চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে অনেকেই মনে মনে প্রশ্ন করেছেন, মাত্র বারো বছর বয়সে অকাল এবং আকস্মিক এই পিতৃপ্রয়াণের ধাক্কা কীভাবে সামলাবে সহজ? পিতৃহারা সন্তানের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে পেরে এবার সোশাল মিডিয়ায় গর্জে উঠলেন ঋদ্ধি সেন। তাঁর মন্তব্য, "যে শিশু তার বাবার অস্থি হাতে নিয়ে চলে গেল, তার মনে সারা জীবনের জন্য একটাই প্রশ্ন গেঁথে থাকবে, 'কেন?', এই প্রশ্নের চেয়ে বীভৎস আর বেদনাদায়ক কিছু হয় না। যিনি প্রয়াত তিনি এই উত্তর দিতে পারবেন না। তাই তার মুখে মিথ্যে কথা বসানো সহজ। এই উত্তর পেয়ে গেলে মানুষটা ফিরে আসবেন না। যে শূন্যতা তিনি রেখে গেলেন কিছু মানুষের মনে, সেই শূন্যতা সময়ের সাথে আরও গভীর হবে, তবুও এই ‘কেন’র উত্তরটুকু জানার প্রতি আমাদের সকলের নাগরিক হিসেবে দায়বদ্ধতা আছে। মানুষ হিসেবে দায়বদ্ধতা আছে। কারণ একজন প্রয়াত মানুষের মুখে যদি মিথ্যে উত্তর বসানোর প্রচেষ্টা চলে এবং ভবিষ্যতে সেটা প্রমাণিত হয় তাহলে সেই বীভৎসতার ক্ষমার যোগ্য নয়। আইন বা সংবিধান এটাকে 'ক্রিমিনাল অফেন্স' বলে। মানেন কিনা জানি না, কিন্তু যাদের এখনো মানবিকতা কিছুটা হলেও অবশিষ্ট আছে তাদের এটাকে 'ক্রাইম' বলেই ঘোষণা করা উচিত।" এখানেই শেষ নয়!
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সহজ। ছবি- ফেসবুক
ঋদ্ধি আওয়াজ তুললেন নেটপাড়ার সেসব নীতিপুলিশদের নিয়ে যারা অভিনেতার শেষকৃত্যের ছবি-ভিডিও দেখে প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী'র পোশাক, অভিব্যক্তি নিয়ে সমালোচনায় রত হয়েছেন। এহেন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে 'মান এবং হুঁশ' হারিয়ে যারা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছেন কিংবা অভিনেতার অকালপ্রয়াণ নিয়েও নানা কটু কথা বলছেন, তাদের তোপ দেগেই ঋদ্ধি সেনের মন্তব্য, "আমরা অধিকাংশ মানুষই আজকাল আর কোনও কিছুর উত্তর খুঁজি না, শুধু ট্রোল খুঁজি। ট্রোল করি। মৃত্যুও আমাদের কাছে মিম আর ট্রোল। যে চলে গেছে তার প্রতি আমরা সমাজমাধ্যমে শোক বা সমবেদনা জানাই। তার পর আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু যারা জীবিত, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কতটুকু সমবেদনা আছে আমাদের? কে কতটা কাঁদবে? কার শোকের সময় পোশাক কেমন হবে? কার শেষযাত্রা ঠিক কীভাবে পালন হবে বা হওয়া উচিত ছিল? এই সব অর্থহীন 'কেন'র উত্তর খুঁজে নিজের অস্তিত্বের পচন না বাড়িয়ে আমরা প্রয়োজনীয় কিছু ‘কেন’র উত্তর খোঁজার জন্য সরব হই। যে চলে গেল আর যারা আগামী বহু রাত বয়ে বেড়াবে এই ‘কেন’র অসহনীয় ভার, তাদের জন্য আমরা এইটুকু করতে পারি না? এক জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ থেকে বিদায় নিল রাহুলদা।"
