বদলের বাংলায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে হল গোপাল মুখার্জি রোড। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে এই নতুন নামকরণের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে সিদ্ধান্তে গর্বিত সৌরভ দাস। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে 'গোপাল পাঠা' ওরফে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সৌরভ দাস। ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পরই সমালোচিত হতে হয় অভিনেতাকে। এমনকী গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের তরফেও 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল। 'বাংলা বিরোধী স্ট্র্যাটেজি মূলক সিনেমায় বাঙালি অভিনেতারা কেন?' এহেন প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয়েছে সৌরভকে। এবার সেই হিন্দুরক্ষক গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা হওয়ায় মুখ খুললেন অভিনেতা।
"না জানার দোষ অবশ্য সাধারণ মানুষেরও নয়, তার কারণ চরিত্রটিকে দীর্ঘকাল সেভাবেই অন্তরালে রাখা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে আজকে ওনার নামে রাস্তা বানানোর সিদ্ধান্তটা আমার....।"
সংবাদ প্রতিদিনকে সৌরভ জানান,"অসাধারণ একটা খবর। আমার প্রচণ্ড ভালো লাগছে, এই খবরটা পেয়ে। কারণ ওরকম ব্যক্তিত্ব অদ্ভূতভাবে যাঁর নাম মুখে আনা যাবে না বা তাঁর ব্যাপারে কাউকে বলা যাবে না। বা উনি কী করেছিলেন, সেসব কথা বললেও খানিক অসুবিধে! সেই জায়গা থেকে আজ গোপাল পাঁটার নামে রাস্তা- এই সফরটা দারুণ সুন্দর। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, গোপাল মুখোপাধ্যায় এই সম্মানের যোগ্য। বাস্তবের হিরোদের উদযাপন করার এটাই তো সেরা উপায়। এবং সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে আমি খুবই অভিভূত।" পাশাপাশি পঁচিশ সালের 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' বিতর্ক প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি। সৌরভের সংযোজন, "আমি যখন 'বেঙ্গল ফাইলস'-এ গোপাল পাঁঠার চরিত্রে অভিনয় করি, তখন অনেক মানুষজনই ওঁর সম্পর্কে জানতেনও না। না জানার দোষ অবশ্য সাধারণ মানুষেরও নয়, তার কারণ চরিত্রটিকে দীর্ঘকাল সেভাবেই অন্তরালে রাখা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে আজকে ওনার নামে রাস্তা বানানোর সিদ্ধান্তটা আমার দারুণ লাগল। আমি গোপাল মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি বলে নয়, একজন বাঙালি হিসেবে গর্বিত।"
মহম্মদ আলি জিন্নার ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে’ কলকাতার রাজপথ পিচ্ছিল হয়ে ওঠে হিন্দুদের রক্তে। রক্তগঙ্গা বয়ে যায় হাওড়াতেও। রক্তাক্ত হয়ে হিন্দু বাঙালিকে রক্ষা করার নায়ক ছিলেন গোপাল পাঁঠা। হিন্দুদের বাঁচাতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। তাঁর নেতৃত্বেই কলকাতায় পাকপন্থী দাঙ্গাকারীদের পালটা মার দিতে শুরু করে হিন্দুরা। বউবাজারের বাসিন্দা গোপালদের ছিল পাঁঠার দোকান।
'গোপাল পাঠা' ওরফে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকায় সৌরভ দাস
তাৎপর্যপূর্ণভাবে অবিভক্ত বঙ্গের ইতিহাসে এক বিতর্কিত নাম হোসেন শহিদ সোরাবর্দি। তিনি বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি সংগঠিত হয় ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’। মহম্মদ আলি জিন্নার ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে’ কলকাতার রাজপথ পিচ্ছিল হয়ে ওঠে হিন্দুদের রক্তে। রক্তগঙ্গা বয়ে যায় হাওড়াতেও। রক্তাক্ত হয়ে হিন্দু বাঙালিকে রক্ষা করার নায়ক ছিলেন গোপাল পাঁঠা। হিন্দুদের বাঁচাতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। তাঁর নেতৃত্বেই কলকাতায় পাকপন্থী দাঙ্গাকারীদের পালটা মার দিতে শুরু করে হিন্দুরা। বউবাজারের বাসিন্দা গোপালদের ছিল পাঁঠার দোকান। পেশায় ছিলেন একজন কসাই। সে কারণেই তিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত। সেই গোপাল পাঁঠার নামেই হল রাস্তা। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে ১৯৪৬ সালের সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কথা মনে করান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দাবি করেন, ইচ্ছে করে সরকারি মদতে এসব অধ্যায় বঙ্গবাসীর কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। বিগত সরকারগুলিকে তুলোধোনা করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আর ঠিক সেদিনই পার্ক সার্কাসের সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিরই নাম বদল করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “পশ্চিমবঙ্গ দিবসের পবিত্র দিনে শনিবার কলকাতা পুরসভার নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্ত এক ঐতিহাসিক ভুল শোধরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এবার থেকে সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নতুন নাম হবে গোপাল মুখার্জী রোড।” কলকাতার পার্ক সার্কাসের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রাস্তা এটি। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টের কাছাকাছি হওয়ায় এটি শহরের অন্যান্য জায়গায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলে রাখা ভালো, সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামকরণ করা হয়েছিল স্যার হাসান সোরাবর্দির নামে। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক। ১৯৩২ সালে কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট বা কেআইটি তাঁর নামে পার্ক সার্কাসের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির নামকরণ করে। তবে এবার রাজ্যে পালাবদলের পরই হিন্দুরক্ষক গোপাল পাঁঠাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারে।
