শহরজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়ে গ্রেপ্তারির ৪ দিনের মাথায় জামিন পেলেন পার্ক স্ট্রিটের পানশালার বেয়ারা। শুক্রবার রাতে ঘটনার পরই পার্ক স্ট্রিট থানায় গোমাংস পরিবেশন করা বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। তার ভিত্তিতেই শনিবার সকালে শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তোলা হলেও জামিন পাননি তিনি। বদলে তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয় নাসির উদ্দিনকে। এরপরই 'শ্রমজীবী' বেয়ারার গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে সরব হন কলকাতার সিংহভাগ। আইনজীবীদের একাংশ, তার হয়ে লড়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন। এবার অবশেষে জামিন পেলেন অলি পাবের বেয়ারা।
জানা যায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা রুজু হয়েছিল পানশালার বেয়ারার বিরুদ্ধে। সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে এই ধারায়। তবে গত রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে 'অনিচ্ছাকৃত ভুলের' জন্য সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেয়ারার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন সায়ক চক্রবর্তী। তবে খবর, বেয়ারা জামিন পেলেও সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানির দেওয়ার অভিযোগে অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর এখনও বহাল। যে এই অভিযোগ শনিবার রাতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব।
বিগত কয়েক দিনে গোমাংস বিতর্ক নিয়ে সোশাল পাড়ায় ঝড় বয়ে গিয়েছে। বেয়ারার ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দাগায় সমালোচিত হতে হয়েছে সায়ককেও। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের নামের পাশে 'বিজেপির পোস্টার বয়' বলে তকমা সেঁটেছেন অনেকেই। যদিও চলতি বিতর্কে ইতি টানতে বিবৃতি জারি করে সায়ক চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন যে, "অলি পাব ক্ষমা চেয়েছে। তাই দয়া করে আর অন্য গল্প বানাবেন না। স্ক্রিপ্ট বা ওই জাতীয় কিছুর থিওরি আমাকে অবাক করছে। রাগের মাথায় থানায় গেছিলাম, ঠিক। এই ভুলে অলি পাবের গাছাড়া ভাবে আমার মাথার ঠিক ছিলো না। আমি কোনোদিনও গোমাংস মুখে নিইনি। এবার থেকে দেখেশুনে বুঝে চলব না হয়। আমি জনগণের উপর নির্ভরশীল, তাই জনগণ যা বলবেন সেটাই ঠিক, হয়ত। ওই ভদ্রলোক আর অলি পাবের বিরুদ্ধে আমি কমপ্লেন প্রত্যাহার করছি। আমার অলি পাবের ভুল নিয়ে সমস্যা ছিল। হতে পারে আমার রিঅ্যাকশনও ভুল ছিল, আমি দুঃখিত। অভিনেতার সংযোজন, ভবিষ্যতে ভ্লগ বানানোর ক্ষেত্রে আমি এই ধরণের কন্ট্রোভার্সিতে জড়াতে চাই না। আমার হিন্দু-মুসলিমের সমস্যা নেই। আমি নিজের কিছু ‘আচার’ মেনটেইন করতে চাই শুধু। আমার ভ্লগ আর কিছু ইনস্টগ্রাম কনটেন্ট সবাইকে এক হয়ে থাকার কথা আগেও বলত, পরেও বলবে। অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য আবারও দুঃখিত।"
