কথায় বলে কেশেই লুকিয়ে নারীর সৌন্দর্য। আর সেই চুল নিয়ে ছেলেখেলা করার মাশুল দিল পাঁচতারা হোটেলকে। 'সুপ্রিম' নির্দেশে দিতে হল বিরাট অঙ্কের জরিমানা! ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮ সালে। দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে চুল কাটতে গিয়েছিলেন এক মডেল। শখের 'হেয়ার কাট' করতে গিয়েই ঘটে যত বিপত্তি। ঠিক কী ঘটেছিল?
চুল কাটতে গিয়ে মাত্র চার ইঞ্চি কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি, ভুলবশত বেশ অনেকটাই চুল কেটে ফেলা হয় ওই মডেলের। সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই। এরপর কেরিয়ারে ভরাডুবির অভিযোগ জানিয়ে ওই মডেল তরুণী আশনা রায় ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশনের (NCDRC) দ্বারস্থ হন। এনসিডিআরসির তরফে তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কেশ বিভ্রাটের জেরে কেরিয়ারে ভরাডুবির কোনও প্রমাণ ওই তরুণী দিতে না পারায় সেই জরিমানার অঙ্কে রাশ টানে সুপ্রিম কোর্ট। ২ কোটি থেকে তা কমিয়ে করা হল ২৫ লক্ষ টাকা।
চুল কাটতে গিয়ে মাত্র চার ইঞ্চি কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি, ভুলবশত বেশ অনেকটাই চুল কেটে ফেলা হয় ওই মডেলের। সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই।
দিল্লির পাঁচতারা হোটেলে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল চুল কাটতে গিয়েছিলেন উঠতি মডেল আশনা। সেখানেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। আশনার অভিযোগ, চুল ঠিকমতো কাঁটা হয়নি। এমন ছাঁট দেওয়া হয়েছে যার ফলে তাঁর কেরিয়ার প্রভাবিত হয়েছে। তারপরেই ওই মডেল তরুণী ক্ষতিপূরণের দাবি করেন। দ্বারস্থ হন 'ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশনে'র। ২০২১ সালে এই মামলায় 'ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশনে'র ওই পাঁচতারা হোটেলকে এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২ কোটি টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ওই মডেল-তরুণীকে। এরপরই এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় দিল্লির ওই পাঁচ তারা হোটেল। ২০২৩ সালে পুনরায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এনসিডিআরসি-তে ফেরত পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেন ওই তরুণী। প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন ইমেল ও বিভিন্ন নথি। যা তাঁর মডেলিংয়ের কেরিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই দাবি করেন আশনা।
'ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশন' ফের এই মামলায় ২ কোটি টাকা ওই তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ফের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় দিল্লির ওই পাঁচ তারা হোটেল। কেরিয়ারে ভরাডুবির যথেষ্ট প্রমাণ না দিতে পারায় অবশেষে এই মামলায় অভিযোগকারিণীকে ২কোটি নয় বরং ২৫ লক্ষ দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বলা যায়, দীর্ঘ আট বছর পর চুল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষ হল ২০২৬-এ।
