shono
Advertisement

Breaking News

Hiran Chatterjee

'দ্বিতীয় বিবাহ অভিযান' বিতর্কে আগাম জামিন পেলেন হিরণ, 'মাচো' বিধায়ককে কী নির্দেশ দিল আদালত?

প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই নেতা-অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:50 PM Feb 11, 2026Updated: 06:25 PM Feb 11, 2026

প্রথম স্ত্রী'র সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। তবে বিয়ে বিতর্কের আবহে চিলেন চেন্নাইতে। সেখান থেকে ফিরেই জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক। এবার সংশ্লিষ্ট মামলায় হিরণের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট।

Advertisement

হিরণ্ময়ের খড়গপুরে সম্পত্তি আছে এবং প্রভাবশালীও বটে। দিনের পর দিন তিনি আমাকে ও আমার মেয়েকে মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিকভাবে অত্যাচার করেছেন। আমার মেয়ের উনিশ বছর বয়স। সেও এই ঘটনায় ভুক্তভোগী। বাবার ব্যবহারে সে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়েছে।

বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই আনন্দপুর থানায় হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নেতা-অভিনেতার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু হয়। যে প্রেক্ষিতে চেন্নাই থেকে ফিরেই নতুন বউকে নিয়ে আগাম জামিনের আবেদন করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পদ্ম শিবিরের বিধায়ক। জানা যায়, হিরণের আইনজীবী আগাম জামিনের জন্য দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন আদালতে। এবার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার দায়ের করা মামলায় বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে আগাম জামিন পেলেন হিরন চট্টোপাধ্যায়। তবে একটি শর্তে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর একবার করে তদন্তকারী অফিসারের কাছে বিজেপি বিধায়ককে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত।

বারণসীর ঘাটে ঋতিকা ও হিরণ। ফাইল ছবি।

প্রথম স্ত্রী'র সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াকিবহালমহল বলেছিল, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী এই বিয়ে আইনত অপরাধ। ফলস্বরূপ, অভিযুক্তের বছরখানেকের জেলও হতে পারে। অতঃপর হিরণের দ্বিতীয় দাম্পত্য ইনিংস বিনোদুনিয়ার ‘টক অফ দ্য টেবিলে’র গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিকমহলেও তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। পুলিশি সূত্রে খবর, হিরণের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলায় বধূ নির্যাতন, এক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য বিয়ে করা, যা জামিন অযোগ্য ধারা এবং একে-অপরকে অপরাধে সাহায্য করার মতো ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হিরণ্ময় এবং ঋতিকার ভাইরাল বিয়ের ছবিও পুলিশকে প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা।

অভিযোগপত্রে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা লেখেন, “আমি হতভাগ্য স্ত্রী। ১১ ডিসেম্বর ২০০০ সালে উলুবেড়িয়াতে হিরণ্ময়ের সঙ্গে আমি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। হিরণ্ময়ের খড়গপুরে সম্পত্তি আছে এবং প্রভাবশালীও বটে। দিনের পর দিন তিনি আমাকে ও আমার মেয়েকে মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিকভাবে অত্যাচার করেছেন। আমার মেয়ের উনিশ বছর বয়স। সেও এই ঘটনায় ভুক্তভোগী। বাবার ব্যবহারে সে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়েছে। আমাদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়েছে দিনের পর দিন। আমি ও হিরণ্ময় আইনত বিবাহিত হওয়ার পরও তিনি একজন একুশ বছর বয়সি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। যা আমি সোশাল মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি। এবং এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। সোশাল মিডিয়াতে বলা হচ্ছে যে, হিরণ্ময় নাকি এই বিয়ে পাঁচ বছর আগেই করেছেন। এখন আবার বেনারসে বিয়ে করেছেন। আমি জীবিত থাকা সত্বেও উনি যেভাবে বিয়ে করেছেন তা আইনত শাস্তিযোগ্য।” সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। এবার সংশ্লিষ্ট মামলায় খড়্গপুরের 'মাচো' বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের আগাম জামিন মঞ্জুর করল আদালত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement