বিতর্ক আর বাদশা যেন একে-অপরের সমার্থক! গানের কথা থেকে দৃশ্যায়ন, একাধিকবার নিজের সৃষ্টির কারণে সমালোচনায় জড়িয়েছেন খ্যাতনামা ব়্যাপার। এবার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত 'টাটিরি' গানের দৃশ্যায়ণে নারীদের আপত্তিকরভাবে তুলে ধরায় ফের বিতর্কের শিরোনামে নাম লিখিয়েছেন। বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে বাদশার গানের কথাতেও। যার জেরে এফআইআর দায়ের করে বলিউড ব়্যাপারকে তলব করেছিল হরিয়ানা মহিলা কমিশন। ক্ষমা চেয়েও চিঁড়ে ভেজেনি! এবার বাদশাকে 'দায়িত্ববান শিল্পী' হওয়ার পাঠ দিয়ে তোপ দাগলেন সোনা মহাপাত্র।
"নিজেকে হরিয়ানার ভূমিপূত্র বলে মহিমান্বিত করলেই সব ভুল মাফ হয়ে যায় না। কারণ হরিয়ানা দীর্ঘদিন ধরে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ছে। সেখানে নিত্যদিন মেয়েদের উপর অত্যাচারের সংখ্যা বাড়ছে। 'অনার কিলিং'য়ের মতো ঘটনা ঘটছে। তাই নিজের রাজ্যের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলার জন্য মস্তিষ্ক বড়ই প্রয়োজন।..."
সোনা বরাবরই স্পষ্টভাষী। রাজনৈতিক কিংবা বিনোদুনিয়ার যে কোনও ইস্যুতে সোজাসাপটা কথা বলতে কাউকে রেয়াত করেন না। বাদশার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চাঁচাছোলা ভাষায় গায়িকার মন্তব্য, নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে তুলে ধরা এই ধরণের গান প্রথমবার শুনছি বা দেখছি না। এটা এখন একটা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। পুরুষরা বুক ফুলিয়ে নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখিয়ে নিজেকে জনৈক অপ্রতিরোধ্য নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছে। আর চারপাশে নারীদের এমনভাবে দেখানো হচ্ছে যেন তাঁরা পুরুষদের মোহিত করার জন্যেই রয়েছে। গানের কথাতেও এক ধরণের অহমবোধ রয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, 'তু মুঝপে মরতি হ্যায়। তু মুঝপে জান ছিড়কতি হ্যায়...', এগুলো সর্বৈব আবর্জনামূলক সোয়্যাগ ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো হচ্ছে, ফাঁকিবাজির সৃজনশীলতা। এখানেই অবশ্য থামেননি সোনা মহাপাত্র।
বাদশা, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
ব়্যাপার বাদশাকে বিঁধে গায়িকার সংযোজন, "নিজেকে হরিয়ানার ভূমিপূত্র বলে মহিমান্বিত করলেই সব ভুল মাফ হয়ে যায় না। কারণ হরিয়ানা দীর্ঘদিন ধরে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ছে। সেখানে নিত্যদিন মেয়েদের উপর অত্যাচারের সংখ্যা বাড়ছে। 'অনার কিলিং'য়ের মতো ঘটনা ঘটছে। তাই নিজের রাজ্যের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলার জন্য মস্তিষ্ক বড়ই প্রয়োজন। কারণ শিল্পীরা সমাজ গড়ে তোলে। জনমানসে প্রভাব ফেলে। তাই নারীবিদ্বেষকে চ্যালেঞ্জ করে সেটা থেকে মুনাফা তুলতে পারো না তুমি। একটা গানের ভিডিওতে স্কুল ইউনিফর্ম পরা তরুণীদের প্রপস হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মস্তিষ্কে পচন ধরানো এসব জিনিস বন্ধ করো। কারণ আমাদের দেশকে আরও ভালো কিছু দেওয়ার আছে।"
বিতর্কের পর বাদশা সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, "আমার এই গানের কথা ও দৃশ্যায়ণ বহু মানুষের ভাবধারায় আঘাত করেছে। বিশেষত আমার নিজের জায়গা হরিয়ানা, সেখানকার মানুষদের মনে সবথেকে বেশি আঘাত দিয়েছে আমার নতুন এই গান। আমি নিজে হরিয়ানার ছেলে। যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন আমার সবটাই হরিয়ানাকে জুড়ে। আমি হরিয়ানার মানুষ হয়ে অত্যন্ত গর্বিত। একজন নারীর বিষয়ে কুরুচিকর কিছু বলার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। আমার এমন কিছু বলার অভিপ্রায় ছিলও না। হরিয়ানার ভূমিপুত্র হিসেবে আমাকে আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।" সেই প্রেক্ষিতেই বাদশাকে কড়া পাঠ দিলেন এবার গায়িকা সোনা মহাপাত্র।
