সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণের পর তাঁর দুই ছেলেকে সান্ত্বনা বার্তা পাঠিয়েছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু তাতেই তৈরি হল অস্বস্তিকর মুহূর্ত। কেননা আশা ভোঁসলের যে ছেলের প্রয়াণ হয়েছে ২০১৫ সালে তাঁকেই কিনা শোকবার্তা পাঠিয়ে বসেছেন সোনিয়া! এরপরই বিজেপি তাঁকে কটাক্ষ করেছে। একই ভাবে খোঁচা দিতে দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত গায়িকার দুই ছেলে আনন্দ ও হেমন্ত। দু'জনকেই শোকবার্তা পাঠিয়েছেন বর্ষীয়ান নেত্রী। তিনি লেখেন, 'প্রিয় আনন্দ ও হেমন্ত, আপনাদের প্রিয় মা আশা ভোঁসলের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সঙ্গীতের এক সোনালি যুগের অবসান ঘটল। আশাজি ছিলেন এক কিংবদন্তি ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, যাঁর গান লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে আনন্দ বয়ে এনেছে।' সেই সঙ্গে বিস্তারিত লিখেছেন আশার শিল্পকৃতি সম্পর্কেও। কিন্তু আশার দুই পুত্রের একজন, হেমন্ত ২০১৫ সালেই প্রয়াত। তাঁর মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পরে তাঁকেই কী করে সোনিয়া শোকবার্তা পাঠালেন তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য পোস্টটি শেয়ার করে খোঁচা দিয়েছেন। পাশাপাশি নেটিজেনরাও জানিয়েছেন, এই ধরনের কাজ একেবারেই ঠিক নয়। কেন সোনিয়া চিঠি পাঠানোর আগে সব বিষয়ে খোঁজ নিলেন না, তা অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
১১ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন আশা ভোঁসলে। জানা যায়, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। আশা ভোঁসলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি! ১২ এপ্রিল রবিবাসরীয় বেলায় চিরঘুমে চলে যান আশা। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে চিরশান্তিতে শায়িত ছিলেন আশা ভোঁসলে। পরিবার-পরিজন, সেলেবপাড়ার স্বজন, হাজার হাজার গুণমুগ্ধ অনুরাগীরা চোখে জল নিয়ে কিংবদন্তি শিল্পীর নিথর দেহের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। শেষে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে সম্পন্ন হয় আশার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।
