দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের দাবি দাওয়া মানতে সরকার যে আন্তরিক সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে মোদিসরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, 'ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস নয়'। এরপর ধীরে ধীরে আন্দোলনের ঝাঁঝ কমেছে। এমতাবস্থায় অভিনেতা সুদেশ বেরির মুখে মোদিস্তুতি। ভগবানের আসনে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে 'ভগবান বিষ্ণুর অবতার' বলে উল্লেখ করেছেন। এখানেই শেষ নয়, যদি সুযোগ পান তাহলে নিজের হাতে মোদির পা ধুইয়ে সেই জল পান করবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদেশ বেরির এই মন্তব্যে একেবারে তোলপাড় নেটপাড়া। প্রধানমন্ত্রীর বহু অনুগামী রয়েছেন, কিন্তু এহেন মন্তব্য বা ইচ্ছেপ্রকাশ যাই বলুন না কেন আগে কখনও কেউ করেননি তা বলাই বাহুল্য। সাম্প্রতিক সময়ে একটি পডকাস্টের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা সুদেশ বেরি।
সেখানেই 'আরশোলা'র সমালোচনা করার পাশাপাশি তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। গত ২৮ জুলাই ওই পডকাস্টে সুদেশ বেরি দাবি করেছিলেন, তিনি এই 'ককরোচ জনতা পার্টি' সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। বরং তাঁর মতে,'আরশোলা'র উপদ্রবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সুদেশ বেরি
'ককরোচ'-এর বিক্ষোভে যখন তোলপাড় দেশের বিভিন্নপ্রান্ত তখন সুদেশ অকপটে বলেন, "আমি এজিপি সিজেপি এসব কিছুই চিনি না। শুধু এটুকুই জানি এঁরা দেশকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।" বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত সমাজসেবা অর্থ মানুষের কল্যাণ করা। শুধু আন্দোলন করে কোনও লাভ নেই।
ককরোচ জনতা পার্টি
সুদেশের কথায়, "এরা অকাজের মানুষ। দেশের জন্য এদের কোনও কাজ নেই। সত্যিই যদি সমাজসেবা করতে চান তাহলে শিশুদের জন্য পার্ক বানান, প্রবীণদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম গড়ুন, অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। যন্তর মন্তরে বসে শুধু বিক্ষোভ করলে কোনও লাভ হবে না।"
'সিজেপি'কে কটাক্ষ করে বলেন, "অদ্ভুত প্রাণীর নাম নিয়ে দল বানিয়েছে। হায়েনা পার্টিও বানাতে পারত!" এরপরই মোদির প্রশংসায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন সুদেশ বেরি। এক শ্রেণি যখন নিট কেলেঙ্কারিতে প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগোড়ায় তুলেছে তখন মোদির ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অভিনেতা।
উচ্চস্বরে বলেন, "নরেন্দ্র মোদি কী ভুল করেছেন? মানুষ বলে তিনি চা বিক্রি করতেন। আর সেই চা বিক্রি করতে করতেই গোটা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন। মোদিজির পা ধুয়ে সেই জল পান করতে চাই।" মোক্ষম সময়ে শোয়ের সঞ্চালক তাঁকে মনে করিয়ে দেন একটা সময় মায়ের পা ধুয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
উত্তরে সুদেশ বলেন, "এখন আমার ইচ্ছে মোদিজির পা ধুয়ে সেই জল পান করব। আমি কোনওদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করিনি। ব্যক্তিগতভাবেও তাঁকে চিনি না। আমরা ঈশ্বরকে দেখিনি তবুও তাঁর উপাসনা করি। ঠিক তেমনভাবেই আমি মোদিজিকে শ্রদ্ধা করি।"
