'আমার প্লাস-মাইনাস পয়েন্ট সঙ্গে নিয়েই এই শোতে...', নতুন 'দাদা' দেব 'দাদাগিরি'র পিচে কতটা সাবলীল? শুটিং ফ্লোরে মুখোমুখি সংবাদ প্রতিদিন।
দাদাগিরি আর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সমার্থক। সেখানে নতুন দাদা হিসাবে দর্শকের কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন? সৌরভ আপনার প্রশংসা করেছেন।
- তাই না! ভালোই প্রতিক্রিয়া। প্রথমে আমার একটু ভয় ছিল। বাংলায় রিয়েলিটি শো-এর মধ্যে সেরার সেরা যদি বলা, সেটা ‘দাদাগিরি’। এই শো বলতে নিশ্চিতভাবে সবার মাথায় আসে দাদা। ওঁকে ভেবেই পুরো বিষয়টা তৈরি হয়েছিল। যতদূর মনে আছে শো-এর ফরম্যাট অনেক বেশি ক্রিকেট ওরিয়েন্টেড ছিল। আমার মনে হয় না দাদার থেকে বড় কোনও ব্র্যান্ড এই শো রিপ্রেজেন্ট করতে পারত। আমার ক্ষেত্রে হঠাৎ করে হয়।
কী রকম?
-অদ্ভুত ভাবেই আমার কাছে ‘দাদাগিরি’র অফারটা আসে। অভিজিৎকে (সেন) জিজ্ঞেস করুন, সামনেই আছে। আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। প্রশ্ন করেছিলাম, ‘তুমি কি ঠিক বলছ’? তখন অন্য একটা শো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই শোটা হবে কি হবে না, তেমন একটা পর্যায়ে। হঠাৎ একদিন যখন এই শোয়ের কথা বলে আমি সারপ্রাইজড এবং শকড, একই সঙ্গে। আমার প্লাস পয়েন্ট, মাইনাস পয়েন্ট সঙ্গে নিয়েই আমি এই শোয়ে আছি। আমার মনে হয়, মেকাররা খুবই কনফিডেন্ট ছিল। আমার সৌভাগ্য যে, সাড়াটা পাচ্ছি। অভিজিৎ এবং ওর পুরো টিম ব্রিলিয়ান্ট। জি বাংলার নিজস্ব টিম খুব খাটে, রিসার্চ করে, প্রস্তুত থাকে। সকলের ইনভলভমেন্ট ভালো লাগে। সেখানে একজন অভিনেতা হিসাবে আমারও সুবিধে হয়, যে কোনটা আরও ভালো করতে হবে, কোন জিনিসটা পছন্দ হচ্ছে বা হচ্ছে না, সেটা জানা থাকলে নিজেকে ইমপ্রুভ করতে করতে এগনো যায়।
"জেন জি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে গেলে ওদের দাবির কথা ভাবতে হবে।...."
ইতিমধ্যে দেখেছি ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে পাকা রাজনীতিকরা আসছেন। যেমন, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, নওশাদ সিদ্দিকি, সজল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী, মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁদের একই মঞ্চে সামলানো কতটা শক্ত ছিল?
- বিশ্বাস করুন, আমি ভেবেছিলাম কঠিন হবে। ফ্লোরে যখন গেলাম তখন দেখলাম আমার করা অন্যতম সেরা এপিসোড এটা। মনে হয়, দর্শকের জন্যও সেরা এপিসোড হতে চলেছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে যে ভাবে চলছে সব কিছু, সেখানে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী এক একটা দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। শোয়ে তাঁরা বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা একে অপরের জন্য গান উৎসর্গ করেছেন। বা খাবার ডেডিকেট করছেন এবং পরস্পরের জন্য সংলাপ বলছেন, এমন মুহূর্ত এসেছে। আমি যে সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, এটাই বোঝাতে চাই একসঙ্গে থেকেও রাজনীতি করা যায়। ভিন্ন মত নিয়ে একসঙ্গে থেকেও নিজের দলকে জেতানো যায়। একসঙ্গে থেকে ভালো বার্তা দেওয়া যেতে পারে। এই পর্বটা আমার নিজেরও খুব প্রিয়।
দেবের 'দাদাগিরি'। ফেসবুক
এই পর্বে কি মিঠুন চক্রবর্তী থাকলে আরও ভালো হত?
- ছয়জন পার্টিসিপেন্ট তো। আর কী করে নেবে? এঁরা সকলেই অ্যাক্টিভ পলিটিশিয়ান। মিঠুনদা নিশ্চয়ই একটি দলের সদস্য। কিন্তু এক্ষেত্রে পার্টিসিপেন্টরা প্রত্যেকেই এমএলএ।
এই মঞ্চে আপনি কখনও রুক্মিণী মৈত্র, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় আর ইধিকা পালকে একসঙ্গে চাইবেন?
- (হাসি) আরে, এখানে আমার কোনও বক্তব্য নেই। যে পার্টিসিপেন্টই আমার স্টেজে আসবেন, আমার কাজ হচ্ছে তাঁকে কমফর্টেবল ফিল করানো। আমার কাজ হচ্ছে একটা শো যেটা মানুষ ঘরে ঘরে দেখে, সেই শো-এর মানসম্মান যাতে খারাপ না হয় সেটা দেখাই আমার কাজ।
"যখনই আমরা কোনও কারণে একসঙ্গে এসেছি, দর্শক ভালোবেসেছে। এখন সোশাল মিডিয়ার যুগ, ভালো বলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ ট্রোল করবে। সেটা এড়িয়ে আমরা পজিটিভ সাইড দেখতে চাই। ‘দেশু ৭’ এমন একটা..."
‘দেশু ৭’-এর শুটিং লাদাখে র্যাপআপ হল?
- র্যাপআপ হয়েছে কলকাতায়। নাচের ভিডিওটা লাদাখে করা।
শুভশ্রী আর আপনার কেমিস্ট্রি দেখে তো লোকজন পুরনো প্রেমের কাছে ফিরতে চাইছে।
- বলছেন (জোরে হাসি)! অনেস্টলি বলছি, দেব-শুভশ্রীকে নিয়ে যে উন্মাদনা ‘ধূমকেতু’র সময় দেখেছিলাম সেটা আমরা নিজেরাও জানতাম না। ২ জানুয়ারি আমরা ‘দেশু ৭’-এর কথা ঘোষণা করেছিলাম। ভারতের এমন একটা ছবি যার স্ক্রিপ্ট তখনও লক হয়নি, তার আগেই টিকিট বিক্রি হয়েছে। আমরা জানতাম আমাদের জুটিকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। যখনই আমরা কোনও কারণে একসঙ্গে এসেছি, দর্শক ভালোবেসেছে। এখন সোশাল মিডিয়ার যুগ, ভালো বলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ ট্রোল করবে। সেটা এড়িয়ে আমরা পজিটিভ সাইড দেখতে চাই। ‘দেশু ৭’ এমন একটা ছবি যেমনটা বাংলায় হয়নি। পরিচালক হিসাবে আমার প্রথম ছবি। প্রথমদিন থেকে প্রচেষ্টা ছিল, মানুষ যেন না ভাবে দেব-শুভশ্রী ব্র্যান্ডটাকে ব্যবহার করছি। আমি যথেষ্ট সম্মান দিয়ে এবং দর্শক কী চায় ভেবে ছবিটা বানানোর চেষ্টা করেছি।
দেব-শুভশ্রী। ইনস্টাগ্রাম
উত্তমকুমারের শতবর্ষে সরকার কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। কিছুদিন আগে নন্দনে তার মিটিং হয়েছে। আপনাকে দেখা গেল না কেন?
- আমি তখন ‘দাদাগিরি’-র শুট করছিলাম।
সম্প্রতি যাদবপুর শিক্ষাঙ্গনে তাণ্ডব চলেছে...
- আমার সেভাবে ধারণা নেই। শুটিং চলছে। যেটা জানি না সেটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
আপনি এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার পর কিছু মানুষের খারাপ লেগেছে। কেউ বলেছেন আপনি সুবিধেবাদী, কেউ বলেছে আপনি বিশ্বাস ভেঙেছেন। কী বলবেন?
- আমি এ প্রশ্নের উত্তর ঠিক সময়ে দেব। ‘দাদাগিরি’র মঞ্চ এটা। এই প্ল্যাটফর্মে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ঠিক নয়।
"যাঁরা ‘বিগবস’ দেখতে পছন্দ করেন তাঁরা ওটা দেখবেন। আবার ‘দাদাগিরি’ও ডেফিনিটলি দেখবেন।..."
‘নিট’ ইস্যুতে জেন জি-র আন্দোলন সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য?
- আমি সোশাল মিডিয়ায় তো পোস্ট করেছিলাম। জেন জি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে গেলে ওদের দাবির কথা ভাবতে হবে। আর ওদের তো খুব বেশি দাবি নয়। নিট অ্যান্ড ক্লিন একটা পরীক্ষার ব্যবস্থা চেয়েছে। এখন যেটা শুনছি স্কুলগুলোর অবস্থা যেন ভালো হয়, খুব যে বেশি ওরা চাইছে তা তো নয়।
'দাদাগিরি'র শুটে দাদা সৌরভের টিপসই দেবের কাছে ব্রহ্মাস্ত্র!
‘টনিক টু’-এর শুটিং শুরু হতে পারে শুনছি।
- সেটা অভিজিৎ বলতে পারবে। ও এখন সকলের চেয়ে বেশি ব্যস্ত। কলকাতা, বম্বে, ন্যাশনাল লেভেল ও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
খুব শিগগির ‘বিগবস’ বাংলা শুরু হবে অর্থাৎ সৌরভ বনাম দেব।
- দাদা ডেফিনিটলি আমাদের খুব কাছের মানুষ। আমার পরিবার তো বটেই। ‘বিগবস’-এর জন্য দাদাকে শুভেচ্ছা। দাদা যখন থাকে বাড়তি প্রত্যাশা থাকে। দাদা একবার ‘কেবিসি’ করেছিলেন ‘মহুয়া’র জন্য। নয়তো উনি ‘দাদাগিরি’র জন্যই সঞ্চালনা করেছেন। দাদা যখন আছে বিশ্বাস রাখা যেতে পারে। দুটো শোতেই দর্শক হবে বলে আমার মনে হয়। যাঁরা ‘বিগবস’ দেখতে পছন্দ করেন তাঁরা ওটা দেখবেন। আবার ‘দাদাগিরি’ও ডেফিনিটলি দেখবেন। দু’মাস ধরে আমাদের শোটা চলছে এবং ঘরে ঘরে ভালোবাসা পাচ্ছে। কমেন্টগুলো আশা জাগাচ্ছে, যে আমাদের শো ঠিকঠাক জায়গায় যাচ্ছে। চেষ্টা থাকবে আমাদের শো আমরা কীভাবে বড় করব। ভাবব না ‘বিগবস’ কী করছে।
